এইমাত্র পাওয়া

১% টার্নওভার ট্যাক্স বাতিলের দাবি জোরালো: ‘৫ হাজার টাকার কর ৫০ হাজারে’, চাপে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা

১ শতাংশ টার্নওভার (বিক্রয়) ট্যাক্সকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি তুলেছেন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত লাভ-লোকসানের হিসাব বিবেচনা না করেই শুধুমাত্র বিক্রয় (টার্নওভার) হিসাবের ওপর কর দিতে হচ্ছে। ফলে যেসব ব্যবসার লাভের পরিমাণ কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের করের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের ভাষ্য, আগে যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে প্রায় ৫ হাজার টাকা কর দিতে হতো, নতুন ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্সের কারণে একই প্রতিষ্ঠানের করের পরিমাণ বেড়ে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ছেন এবং অনেক ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে উঠছে।

টার্নওভার ট্যাক্স নিয়ে আপত্তির কারণ

ব্যবসায়ীদের মতে, কর ব্যবস্থার মূলনীতি হওয়া উচিত আয় বা মুনাফার ওপর কর নির্ধারণ। কিন্তু টার্নওভার ট্যাক্সে ব্যবসা লাভ করুক বা লোকসানে থাকুক—মোট বিক্রয়ের ওপর নির্ধারিত হারে কর দিতে হচ্ছে।

তাদের দাবি, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, পরিবেশক, ওষুধ, খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রীসহ বহু খাতে লাভের মার্জিন খুবই সীমিত। সেখানে বিক্রয়ের ওপর ১ শতাংশ কর আরোপ করলে কার্যত লাভের বড় অংশ কর হিসেবে চলে যায়। এতে ব্যবসার মূলধন কমে যাচ্ছে, নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি কী?

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে—

  • ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
  • প্রকৃত মুনাফার ভিত্তিতে কর নির্ধারণের ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে।
  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করনীতি প্রণয়ন করতে হবে।
  • ব্যবসার ব্যয়, লাভ ও সক্ষমতা বিবেচনায় এনে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে হবে।

তাদের মতে, বর্তমান নীতির ফলে কর পরিশোধে অনীহা বাড়তে পারে এবং অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ

কর বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, টার্নওভারভিত্তিক কর ব্যবস্থার সুবিধা হলো কর প্রশাসন সহজ হয় এবং কর ফাঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে যেসব ব্যবসায় লাভের হার কম, তাদের ক্ষেত্রে একই হারে টার্নওভার ট্যাক্স আরোপ করলে তা অসম বোঝা তৈরি করতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে খাতভিত্তিক বা ব্যবসার আকারভেদে পৃথক ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।

সরকারের অবস্থান

অর্থ আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে আয়কর আইনে টার্নওভারভিত্তিক করের বিধান কার্যকর হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর আদায়ের পরিধি বাড়বে এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে। তবে নতুন বিধান কার্যকরের পর থেকেই বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এর পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছে।

উপসংহার

১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স নিয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বলছেন, এই করনীতি অব্যাহত থাকলে তাদের ব্যবসা পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে নতুন ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। ফলে কর কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা এখন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *