কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ও পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার কল্যাণ সমিতি: ‘ভূতাপেক্ষ’ পাসের নজির ধরে বড় আন্দোলনের আভাস
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাধারণ কর্মচারীদের একটি বড় অংশের নীরবতা ও অধিকার আদায়ে স্পষ্ট বক্তব্যের অভাবকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
সম্প্রতি সমিতির অন্যতম মুখপাত্র আশিকুল ইসলাম কর্মচারীদের এই নীরবতাকে ইঙ্গিত করে বলেন,
“বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণে সাধ্য অনুযায়ী নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাকিটা আমরা মহান সৃষ্টিকর্তার উপর অর্পণ করছি—কারণ অনেকেই নীরব, নিজেদের অধিকার আদায়ে এখনো স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করছেন না।”
‘ভূতাপেক্ষ’ কার্যকরের আইনি যুক্তি ও ২০২০ সালের পে-স্কেল
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরিতে কোনো সুযোগ-সুবিধা বা সিদ্ধান্ত পূর্ববর্তী কোনো অতীত তারিখ থেকে কার্যকর করার প্রক্রিয়াকে ‘ভূতাপেক্ষ’ (Retrospective) অনুমোদন বলা হয়। কল্যাণ সমিতির অভ্যন্তরে এবং সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে এখন একটি বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যদি রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা বিধিমালা ভূতাপেক্ষিকভাবে (পেছনের তারিখ থেকে) ফিরিয়ে দেওয়া বা কার্যকর করা সম্ভব হয়, তবে ২০২০ সাল থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে পে-স্কেল কেন ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না?
কর্মচারী ফোরামগুলোর দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির গ্রাফ বিবেচনা করলে ২০২০ সাল থেকেই সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা জরুরি ছিল। আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোতে যেহেতু অতীতেও বহু সিদ্ধান্ত ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করার নজির রয়েছে, তাই কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও ন্যায্য পাওনা ২০২০ সাল থেকে হিসাব করে দেওয়া সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং আইনত সম্ভব।
অধিকার আদায়ে রবীন্দ্রনাথের বাণীর প্রাসঙ্গিকতা
কর্মচারীদের এই নীরবতাকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উক্তির সাথে তুলনা করছেন অনেকেই। রবিঠাকুর লিখেছিলেন:
“অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”
নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, সরকারি কর্মচারীরা যদি নিজেদের ন্যায্য পাওনা এবং পে-স্কেল নিয়ে মুখ না খোলেন, তবে শুধু কল্যাণ সমিতির একার পক্ষে এই দাবি আদায় করা কঠিন। অধিকার ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকলে তা বিড়ম্বনা আর বৈষম্যই বাড়াবে।
দাবি বাস্তবায়নে আগামী দিনের রূপরেখা
কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ে কর্মচারীদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো পৌঁছানোর জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এই লড়াইয়ে শতভাগ সফল হতে হলে প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের নীরবতা ভেঙে সোচ্চার হতে হবে।
সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখার পাশাপাশি নিজেদের অধিকার আদায়ে আইনি ও পদ্ধতিগতভাবে কীভাবে আরও জোরালো চাপ সৃষ্টি করা যায়, তা নিয়ে কল্যাণ সমিতি আগামী দিনে সাধারণ কর্মচারীদের সাথে নিয়ে আরও বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে।


