এইমাত্র পাওয়া

উচ্চশিক্ষিত সন্তানদের অবহেলায় অগোছালো ঘরে পচাগলা অবস্থায় মিলল মায়ের মরদেহ

শিক্ষিত ও উচ্চপদস্থ সন্তানদের সাফল্যের গল্পে একসময় যারা নুর জাহান বেগমকে ‘ভাগ্যবতী’ বলে অভিহিত করতেন, আজ সেই নুর জাহান বেগমের করুণ পরিণতি দেখে স্তব্ধ এলাকাবাসী। মিরপুরের একটি নির্জন ঘর থেকে তার পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। সন্তানরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলেও, শেষ জীবনে মায়ের ভাগ্যে জোটেনি ন্যূনতম সেবা বা খবরটুকু।

সাফল্যের শীর্ষে সন্তান, তলানিতে মায়ের জীবন

নুর জাহান বেগমের বড় ছেলে বিসিএস ক্যাডার হয়ে বর্তমানে যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত। ছোট ছেলে বুয়েটের শিক্ষক এবং মেয়ে ও তার জামাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। একসময়ে নুর জাহান বেগমকে নিয়ে এলাকার মানুষের গর্বের শেষ ছিল না। অভাব-অনটনের সংসার সামলে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার এই লড়াইকে মানুষ ‘সাফল্যের উপাখ্যান’ হিসেবেই দেখত। কিন্তু সেই সাফল্যের চাকচিক্য আজ ম্লান হয়ে গেছে নিষ্ঠুর এক বাস্তবতায়।

মৃত্যুর খবর জানে না কেউ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর অন্তত আট থেকে দশ দিন পর নুর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘরে পড়ে থাকায় মরদেহ পচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল এবং তাতে পোকা ধরেছিল। ঈদের উৎসবের আনন্দ যখন চারদিকে ছড়িয়ে ছিল, তখন এই মা নিজ ঘরে নিথর পড়েছিলেন। এমনকি ঈদের দিনও কোনো সন্তান তার খোঁজ নেয়নি। যদি ঈদের দিন একটিবার ফোন করেও মায়ের খবর নেওয়া হতো, তবে অন্তত বাসি জানাজা বা শেষ বিদায়ের সুযোগটুকু পেতেন তিনি।

আভিজাত্যের আড়ালে চরম অমানবিকতা

সংশ্লিষ্টদের মতে, যারা মাসে লাখ টাকা আয় করেন এবং যাদের সামাজিক অবস্থান অত্যন্ত শক্ত, তাদের জন্য একজন মায়ের দেখভালের ব্যবস্থা করা কোনো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল না। মাত্র অল্প কিছু খরচে একজন সাহায্যকারী নিয়োগ দিলেই এই করুণ পরিণতি এড়ানো সম্ভব ছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঈদের দিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে কুরবানি পালন ও ভোজের আয়োজনে ব্যস্ত থাকলেও, মায়ের খোঁজ নেওয়ার ন্যূনতম প্রয়োজনটুকু মনে করেনি উচ্চশিক্ষিত এই সন্তানেরা। শিক্ষিত ও প্রভাবশালী হওয়ার পরেও মানবিক মূল্যবোধের এই চরম অবক্ষয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি

পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রোগ বা বার্ধক্যজনিত কারণে বা খাবারের অভাবে একাকী এই বৃদ্ধা মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে সন্তানরা এতো প্রভাবশালী হওয়া সত্ত্বেও কেন মায়ের এই করুণ পরিণতি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রতিটি মহলে। এই ঘটনায় সন্তানদের দায়িত্বহীনতাকে মানবিকতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

সূত্র: রাকিবুল হাসানের পর্যবেক্ষণমূলক লেখার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *