৩২ লাখ টাকার গরু কেনা নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন পানিসম্পদমন্ত্রীর ছেলে
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩২ লাখ টাকায় কোরবানির গরু কেনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বিষয়টি নিয়ে নেট দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন মন্ত্রীর ছেলে সারিয়ান চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন এবং সমালোচকদের প্রতি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও এতিমখানার জন্য কোরবানি
মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে সারিয়ান চৌধুরী দাবি করেন, এই বিপুল অঙ্কের কোরবানি কেবল তাদের একক পরিবারের নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য। তিনি লেখেন:
“আমার বাবা পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং উনার ভাইয়েরা পারিবারিক কোরবানি এবং হাজী বসির উল্যাহ চৌধুরী এতিমখানা-মাদ্রাসার জন্য প্রতি বছর ৬/৭/৮টি গরু ক্রয় করেন। তার ধারাবাহিকতায় এ বছরও ওনারা ৬টি গরু ক্রয় করেছেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছরের মতো এবারও পারিবারিক তহবিল এবং এতিমখানার সহায়ার্থেই এই পশুগুলো কেনা হয়েছে, যা কোনো একক ব্যক্তির বিলাসী আয়োজন নয়।
সমালোচকদের প্রতি পাল্টা প্রশ্ন
ফেসবুক পোস্টে সারিয়ান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দেন। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বাবাকে নিশানা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি লেখেন:
“আজ থেকে ৫০ বছর পর যখন আমার বাবা আর মন্ত্রী থাকবেন না, তখনও কি আমাদের উত্তরসূরিরা ১০টা গরু দিয়ে কুরবানি দিলে এমন অযৌক্তিক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হবে?”
“নাকি আমার বাবা কেবল মন্ত্রী হওয়ায় বট বাহিনীর এমন অযৌক্তিক মিথ্যাচারের শিকার হচ্ছেন?”
গোশত বিতরণ ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি
কোরবানির পশুর গোশত বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে সারিয়ান চৌধুরী স্পষ্ট করেন যে, এই কোরবানির মূল উদ্দেশ্যই হলো দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো। তিনি লেখেন, “সবচেয়ে বড় কথা, সবগুলো গরুই গরিব মানুষের হক। মানুষের হক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। ইনশাআল্লাহ।”
পোস্টের শেষে ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক উত্তম পরিকল্পনাকারী। উনি সব জানেন এবং দেখেন।”
পটভূমি
সম্প্রতি আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে গিয়ে ৩২ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। একজন দায়িত্বশীল সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তার এত বিপুল টাকা দিয়ে কোরবানির পশু কেনার বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে এলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। মূলত এই সমালোচনা ও ট্রোলের পরিপ্রেক্ষিতেই বাবার অবস্থান পরিষ্কার করতে এবং পারিবারিক আত্মপক্ষ সমর্থনে এগিয়ে আসেন ছেলে সারিয়ান চৌধুরী।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত এই বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরাসরি আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


