গর্ভবতী ভাতা বা ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’তে আবেদনের বিস্তারিত নিয়মাবলী
দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির অভাব পূরণ এবং আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে সরকার ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রদান করছে। অনেক মা-ই জানেন না এই ভাতার জন্য কোথায় এবং কীভাবে যোগাযোগ করতে হয়। বিশেষ করে যারা বর্তমানে ৩ থেকে ৬ মাসের গর্ভবতী, তাদের জন্য এখনই আবেদনের উপযুক্ত সময়।
আবেদন কোথায় করবেন?
এই ভাতার জন্য নিজে নিজে অনলাইনে আবেদন করার কোনো সুযোগ নেই। আবেদনকারীকে সরাসরি তার নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে বা প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিকট প্রয়োজনীয় নথিসহ উপস্থিত হতে হবে। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেই আপনার আবেদনটি ডাটাবেজে এন্ট্রি করা হবে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা:
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একজন গর্ভবতী মায়ের নিম্নোক্ত তথ্যাদি ও নথিপত্র প্রয়োজন হবে:
১. এনএসসি (ANC) কার্ড: ৪ থেকে ৬ মাসের গর্ভকালীন অবস্থার প্রমাণ হিসেবে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সংগৃহীত এন্টিনেটাল কেয়ার (ANC) কার্ড বা গর্ভকালীন কার্ড লাগবে। (আপনার ৩ মাস চলছে, তাই ৪র্থ মাসে পড়ার সাথে সাথেই কার্ডটি সংগ্রহ করুন)। ২. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারী মা এবং তার স্বামীর মূল জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফটোকপি। ৩. মোবাইল নম্বর ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট: আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ডসহ একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর। ভাতার টাকা সরাসরি গ্রহণ করার জন্য ওই নম্বরে বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা থাকতে হবে। ৪. প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তান: সাধারণত প্রথম ও দ্বিতীয় গর্ভধারণের ক্ষেত্রে এই ভাতা প্রদান করা হয়।
আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া:
গর্ভধারণের ৩ মাস পার হওয়ার পর এবং ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এই আবেদনটি সম্পন্ন করা জরুরি। ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনকারীর ছবি, এনআইডি এবং গর্ভধারণের তথ্য যাচাই করে অনলাইনে পোস্টিং দেবেন। এরপর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর তালিকাভুক্ত মায়েদের মোবাইলে ভাতার টাকা আসা শুরু হয়।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু নোট:
যেকোনো তথ্যের প্রয়োজনে আপনার নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করুন।
ভাতার আবেদন করার জন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালকে অর্থ প্রদান করবেন না।
আপনার মোবাইল নম্বরটি যেন অবশ্যই আপনার নিজের এনআইডি দিয়ে কেনা হয় এবং তাতে বিকাশ/নগদ সচল থাকে তা নিশ্চিত করুন।
সরকারের এই মহতী উদ্যোগের ফলে একজন গর্ভবতী মা তার গর্ভকালীন সময়ে পুষ্টিকর খাবার ও ওষুধের ব্যয়ভার সহজে বহন করতে পারেন। তাই যোগ্য মায়েদের সঠিক সময়ে আবেদন করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।



