এইমাত্র পাওয়া

৩ বিসিএসে ৯৫ জন ‘ভুয়া’ ক্যাডার শনাক্ত: চাঞ্চল্যকর তথ্য আনলো এশিয়া পোস্ট

দেশের সিভিল সার্ভিসে মেধার অবমূল্যায়ন ও জালিয়াতির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে অনলাইন পোর্টাল ‘এশিয়া পোস্ট’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। তথ্যানুসারে, ২৯তম, ৩০তম এবং ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় মোট ৯৫ জন প্রার্থী জালিয়াতি বা অবৈধ উপায়ে ক্যাডার পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ৬৮ জন অভিযুক্তের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে সংবাদ মাধ্যমটি। এই ঘটনা দেশের প্রশাসনিক কাঠামো এবং পিএসসি-র (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বিসিএস ভিত্তিক পরিসংখ্যান

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি বিসিএসে ভুয়া ক্যাডার নিয়োগের সংখ্যা নিম্নরূপ:

  • ২৯তম বিসিএস: ২৯ জন

  • ৩০তম বিসিএস: ৩১ জন

  • ৩১তম বিসিএস: ৩৫ জন মোট: ৯৫ জন

প্রকাশিত তালিকার চিত্র

এশিয়া পোস্টের হাতে আসা ৬৮ জনের তালিকার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অভিযুক্তরা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্যাডারে কর্মরত আছেন।

১. ৩১তম বিসিএস (২৩ জনের আংশিক তালিকা): এই বিসিএসে ৩৫ জন ভুয়া ক্যাডারের মধ্যে ২৩ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থাৎ ১১ জনই প্রশাসন ক্যাডারে এবং ১ জন পুলিশ ক্যাডারে কর্মরত। উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো: এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু, এস এমসাদি তানভীর, সাঞ্জিকা সাহাদাত এবং খন্দার খায়রুল হাসান (পুলিশ)।

২. ৩০তম বিসিএস (১৮ জনের আংশিক তালিকা): এখানে ৩১ জনের মধ্যে ১৮ জনের নাম এসেছে। এই তালিকায় বৈচিত্র্য বেশি। প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডার ছাড়াও নিরীক্ষা ও হিসাব, আনসার, শুল্ক ও আবগারি, পরিবার পরিকল্পনা এবং তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নাম উঠে এসেছে।

৩. ২৯তম বিসিএস (২৭ জনের আংশিক তালিকা): এই বিসিএসে ২৯ জনের মধ্যে ২৭ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। এখানে প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি ইকোনমিক ক্যাডার ও আনসার ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নামও রয়েছে। সাজিয়া আফরীন, আসমাউল হুসনা লিজার মতো নামগুলো এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

জালিয়াতির ধরন

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই অভিযুক্তরা মূলত জালিয়াতি করা শিক্ষাগত সনদ, ভুয়া কোটা সুবিধা গ্রহণ কিংবা পরীক্ষার নম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এশিয়া পোস্টের দাবি, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও নাম মিলিয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া

এই তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য: বিষয়টি নিয়ে পিএসসি বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সিভিল সার্ভিসের অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *