MTB dps scheme 2026 । টাকা জমিয়ে মিলিওনিয়ার হওয়ার উপায় কি?
একজন মানুষের মোট আয়ের ৫০% জমানো উচিৎ তাতে সে দুর্দিনে তা কাজে লাগাতে পারে – MTB Millionaire Plan 2026
এমটিবি মিলিয়নেয়ার প্ল্যান কি? এটি একটি মাসিক ডিপোজিট স্কিম যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে একজন ক্লায়েন্টকে কোটিপতি করে তুলবে। এই স্কিমটি অল্প সঞ্চয়ের মাধ্যমে সফলভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য খুবই সহায়ক হবে।
ডিপিএস এর বিপরীতে কি লোন পাওয়া যাবে? হ্যাঁ। গ্রাহক জমাকৃত পরিমাণের ৯০% পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। কিন্তু এই সুবিধাটি অ্যাকাউন্ট খোলার 1১ (এক) বছর পরে যোগ্য হবে। গ্রাহক জমাকৃত পরিমাণের ৮০% পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড সীমা পেতে পারেন। ন্যূনতম ক্রেডিট কার্ডের সীমা ১০,০০০ টাকার কম হবে না।
প্রতিমাসে কিস্তি কি অটো কেটে নিবে? যেকোনো ব্যক্তি/ব্যক্তি একক বা যৌথভাবে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। এই স্কিমের মেয়াদ ৪/৬/৮/১০/১২/১৫/২০ বছর। একই শাখায় একই আমানতকারী একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। আমানতকারী যদি সম্মত মেয়াদের আগে জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করতে চান, তাহলে প্রচলিত সঞ্চয় হারে সুদ প্রদান করা হবে। প্রতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে নগদ/চেকের মাধ্যমে বা অন্য আমানত অ্যাকাউন্ট থেকে আমানতকারীর নির্দেশে কিস্তি জমা করা যেতে পারে। মাসের ২০ তম দিন ছুটির দিন হলে, পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যে কিস্তি জমা করা হবে। যদি আমানতকারী পরপর ৩ কিস্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং নেট প্রদেয় পরিমাণ লিঙ্ক অ্যাকাউন্টে (যদি থাকে) বা বিভিন্ন ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে এবং সেই অনুযায়ী গ্রাহককে জানানো হবে।
MTB dps scheme 2026 । Mutual Trust Bank DPS rate chart
প্রতি মাসে টাকা অটো জমা হবে এবং আপনি অ্যাপ হতেই জমা করতে পারবেন।

Caption: MTB Millionaire Plan
MTB Millionaire Plan 2026 । নিয়ম বা অন্যান্য শর্তাবলী কি কি?
- বাংলাদেশে প্রযোজ্য বিদ্যমান আইনের অধীনে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের নিয়ম ও প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। ব্যাঙ্ক প্রয়োজন মনে করলে পরিকল্পনার নিয়ম/পদ্ধতি পরিবর্তন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।
- গ্রাহক জমাকৃত পরিমাণের ৯০% পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন।
- কিন্তু এই সুবিধাটি অ্যাকাউন্ট খোলার 1 (এক) বছর পরে যোগ্য হবে।
- গ্রাহক জমাকৃত পরিমাণের ৮০% পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড সীমা পেতে পারেন।
- অগ্রিম কিস্তি জমা করা যেতে পারে তবে এর জন্য কোন অতিরিক্ত সুদ প্রদান করা হবে না।
- সময়মতো কিস্তি জমা দিতে ব্যর্থ হলে প্রতি মাসে কিস্তির পরিমাণের ২% দেরী ফি চার্জ করা হবে।
- আমানতকারীর ঠিকানা পরিবর্তন করা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে লিখিতভাবে জানানো হবে।
- সরকারী ট্যাক্স/ উৎসে কর ইত্যাদি সরকারী হিসাবে প্রদেয় পরিমাণ থেকে কেটে নেওয়া হবে।
কখন কোন মুনাফাই পাওয়া যাবে না?
আমানতকারী যদি সম্মত মেয়াদের আগে জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করতে চান, তাহলে প্রচলিত সঞ্চয় হারে সুদ প্রদান করা হবে কিন্তু আমানতকারী ১ (এক) বছরের আগে জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করলে কোনো সুদ প্রদান করা হবে না। আমানতকারীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে, পরিকল্পনাটি কাজ করা বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যাঙ্কের নিয়ম ও প্রবিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য সুদ সহ মনোনীত ব্যক্তিকে অর্থ প্রদান করা হবে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB) এর ‘মিলিয়নিয়ার প্ল্যান’ মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ী স্কিম (DPS), যার মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সময় শেষে আমানতকারীকে কর-পূর্ব ১০ লক্ষ টাকা (১ মিলিয়ন) প্রদান করা।
২০২৬ সালের তথ্যানুযায়ী, এই স্কিমের মাধ্যমে মিলিওনিয়ার হওয়ার বিস্তারিত উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কিস্তির হার ও সময়সীমা (সম্ভাব্য)
আপনি কত টাকা জমালে কত দিনে মিলিওনিয়ার হবেন, তার একটি সাধারণ ধারণা নিচে দেওয়া হলো (ব্যাংকের সর্বশেষ ইন্টারেস্ট রেট অনুযায়ী এটি সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে):
| মেয়াদ (বছর) | মাসিক কিস্তি (টাকা – আনুমানিক) | মেয়াদ শেষে প্রাপ্তি (টাকা) |
| ০৪ বছর | ১৮,৫০০ – ১৯,০০০ | ১০,০০,০০০ |
| ০৬ বছর | ১১,০০০ – ১১,৫০০ | ১০,০০,০০০ |
| ০৮ বছর | ৭,২০০ – ৭,৬০০ | ১০,০০,০০০ |
| ১০ বছর | ৫,০০০ – ৫,৪০০ | ১০,০০,০০০ |
| ১২ বছর | ৩,৬০০ – ৪,০০০ | ১০,০০,০০০ |
| ১৫ বছর | ২,৩০০ – ২,৬০০ | ১০,০০,০০০ |
| ২০ বছর | ১,২০০ – ১,৫০০ | ১০,০০,০০০ |
নোট: উপরের কিস্তির পরিমাণগুলো ব্যাংক ভেদে এবং সুদের হারের পরিবর্তনের কারণে কম-বেশি হতে পারে। সঠিক হিসেব জানতে আপনার নিকটস্থ MTB ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করা ভালো।
২. স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
একাধিক অ্যাকাউন্ট: আপনি চাইলে নিজের নামে বা যৌথভাবে একাধিক ‘মিলিয়নিয়ার প্ল্যান’ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
অটোমেটিক ট্রান্সফার: আপনার মূল সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
ঋণ সুবিধা: আপনার জমা করা টাকার ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ৯০% পর্যন্ত লোন বা ওভারড্রাফট (OD) সুবিধা পাওয়া যায়।
নমনীয়তা: ৪ বছর থেকে শুরু করে ২০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে টাকা জমানোর সুযোগ আছে।
৩. অ্যাকাউন্ট খুলতে যা যা লাগবে
আবেদনকারীর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের ফটোকপি।
নমিনীর ১ কপি ছবি এবং এনআইডি।
MTB-তে একটি সেভিংস বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে (যেখান থেকে কিস্তি কাটা হবে)।
৪. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ট্যাক্স ও ভ্যাট: মেয়াদ শেষে প্রাপ্ত ১০ লক্ষ টাকা থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উৎস কর (Source Tax) এবং আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কাটা হবে। ফলে হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণ ১০ লক্ষ থেকে কিছুটা কম হতে পারে।
দেরিতে কিস্তি: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিস্তি জমা না দিলে জরিমানা বা সুদের হারে প্রভাব পড়তে পারে।



