জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি: রাজপথে সরকারি কর্মচারীরা
বর্তমান বাজারের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে ‘ধাপে ধাপে নয়, একবারে’ নতুন পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারীরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টার এবং এর স্বপক্ষে সরকারি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের কড়া বার্তায় নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে এই দাবি। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা—আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে হবে।
এক দফার দাবি: জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর
আন্দোলনরত কর্মচারীদের মূল দাবি হলো, বেতন বৃদ্ধি যেন কোনো বিশেষ ইনক্রিমেন্ট বা ধাপে ধাপে না হয়ে পূর্ণাঙ্গ নতুন একটি পে-স্কেলের মাধ্যমে হয়। পোস্টারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “ধাপে ধাপে নয়, একবারে পে-স্কেল চাই এবং সেটা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাস্তবায়ন চাই।” দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বী দামের সামনে বর্তমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা।
সমালোচকদের প্রতি কড়া বার্তা
অধিকার আদায়ের এই লড়াইকে যারা ‘বিলাসিতা’ বা ‘অহেতুক’ বলে মন্তব্য করছেন, তাদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সদস্যরা। এক বিবৃতিতে তারা জানান:
বেঁচে থাকার লড়াই: এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বর্তমান বাজারের অগ্নিমূল্যের সঙ্গে টিকে থাকার অস্তিত্বের লড়াই।
দ্বিমুখী নীতি: যারা আজ ঘরে বসে প্রতিবাদকে উপহাস করছেন, সুযোগ-সুবিধা অর্জিত হলে তারাই সবার আগে তা ভোগ করবেন।
ইতিহাসের শিক্ষা: ঘরে বসে বা মেজবানি খেয়ে কোনো অধিকার অর্জিত হয়নি; প্রতিটি অর্জনের পেছনেই কঠোর প্রতিবাদ ছিল।
ব্যক্তিগত স্বার্থ বনাম বৃহৎ স্বার্থ
পোস্টারের একটি অংশে ক্ষোভের সাথে বলা হয়েছে, “কেউ কেউ নিজেকে জাহির করতে গিয়ে অজান্তেই কর্মচারীদের ক্ষতি করছেন।” আন্দোলনকারীদের মতে, কিছু ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের বৃহত্তর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছেন। তাদের আহ্বান—ব্যক্তিগত স্বার্থ ভুলে শ্রমের ন্যায্য পাওনা আর সম্মানজনক জীবন যাপনের দাবিতে সবাইকে একাত্ম হতে হবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য লড়াই
আন্দোলনকারীদের ভাষায়, এই প্রতিবাদ শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বৈষম্যহীন এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। তারা মনে করেন, পেট চললে তবেই নীতি কথা মানায়। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
উপসংহার
সরকারি কর্মচারীদের এই দাবি এখন জনদাবিতে রূপ নিচ্ছে। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার শেষ পর্যন্ত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে কর্মচারীদের অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না।


