এইমাত্র পাওয়া

‘ঘুষ.সাইটে’ চার দিনে ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ঘুষ দাবির অভিযোগ, ঢাকাতেই প্রায় ৪৮ কোটি

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায়, কোন দপ্তরে এবং কত টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ বেনামে জানানোর জন্য চালু হওয়া ‘ঘুষ.সাইট’ মাত্র চার দিনের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ২১ আগস্ট চালুর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটিতে ৪ হাজার ৩৬১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের সম্মিলিত পরিমাণ প্রায় ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অর্থকে বাস্তবে লেনদেন হওয়া ঘুষের পরিমাণ বলা যাবে না। এটি ওয়েবসাইটে নাগরিকদের জমা দেওয়া ঘুষ দাবির অভিযোগে উল্লেখ করা অর্থের যোগফল। অভিযোগগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ‘ঘুষ.সাইট’ নিজেই প্রতিটি রিপোর্টকে ‘আনভেরিফায়েড’ হিসেবে বিবেচনা করে।

চার দিনে অভিযোগের যে চিত্র

‘ঘুষ.সাইট’-এর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চার দিনে ৪ হাজার ৩৬১টি রিপোর্টে ঘুষ দাবির অভিযোগ এসেছে। অর্থের হিসাবে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে।

ঢাকায় ১ হাজার ৯৪২টি অভিযোগে প্রায় ৪৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঘুষ দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর চট্টগ্রামে রয়েছে ১ হাজার ৪টি অভিযোগ, যেখানে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা

অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় ৩১৮টি, রাজশাহীতে ২৯৪টি, রংপুরে ২৭৯টি, ময়মনসিংহে ১৮০টি, সিলেটে ১৭৪টি এবং বরিশালে ১৭০টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

অর্থাৎ, অভিযোগের সংখ্যায় ঢাকার আধিপত্য যেমন স্পষ্ট, তেমনি দাবিকৃত অর্থের ক্ষেত্রেও রাজধানী ও এর আশপাশের সরকারি সেবাকেন্দ্রগুলো বড় অংশজুড়ে রয়েছে।

তাহলে ‘৪৯ কোটি টাকা’ কথাটি কোথা থেকে এলো?

‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে আলোচনায় ৪৯ কোটি টাকা সংখ্যাটি দেখা গেলে সেটি পুরো দেশের চার দিনের মোট নয়। সর্বশেষ প্রতিবেদনে ঢাকার ১ হাজার ৯৪২টি অভিযোগে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ৪৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা প্রায় ৪৮ কোটি বা গোল করে ৪৯ কোটি হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। কিন্তু পুরো দেশের চার দিনের অভিযোগে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বেশি—প্রায় ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা

তাই তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে ‘চার দিনে ৪৯ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ’ বলার চেয়ে ‘চার দিনে ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ’ বলা বেশি নির্ভুল।

কীভাবে কাজ করছে ‘ঘুষ.সাইট’?

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা হলে একজন নাগরিক ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের পরিচয় প্রকাশ না করেই অভিযোগ জমা দিতে পারেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সেবার ধরন, এলাকা, চাওয়া ঘুষের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে—এসব তথ্য দিতে হয়। চাইলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণও দেওয়া যায়।

অভিযোগ জানাতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই এবং পুরো প্রক্রিয়াটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে শেষ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত পরিচয় রক্ষার স্বার্থে কোনো ব্যক্তির নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ রাখা হয়নি।

অভিযোগ জমা পড়ার পর তা সরাসরি প্রকাশ করা হয় না। প্রথমে মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দেওয়া এবং নীতিমালা লঙ্ঘনকারী বা অস্পষ্ট অভিযোগ বাছাই করার প্রক্রিয়া রয়েছে। এরপর অনুমোদিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।

ঘুষের অভিজ্ঞতাকে তথ্যভাণ্ডারে রূপ দেওয়ার চেষ্টা

‘ঘুষ.সাইট’-এর উদ্যোক্তা দুই বন্ধু সাইফ কবির ও শাহেদ শরীফ। তাঁদের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অভিযুক্ত করা নয়। বরং নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় এনে কোন সরকারি দপ্তর বা সেবায় ঘুষ দাবির অভিযোগ বেশি, কী ধরনের সেবায় কত টাকা দাবি করা হচ্ছে এবং কোন এলাকায় এমন অভিযোগের প্রবণতা বেশি—তার একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি করা।

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটি কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয় এবং এটি দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণও করে না। বরং এটিকে একটি ‘awareness ledger’ বা জনসচেতনতা তৈরির তথ্যভাণ্ডার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগের সংখ্যা এত দ্রুত বাড়ছে কেন?

২১ আগস্ট চালুর পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংকেত। এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি অভিযোগ সত্য কিংবা প্রতিটি ঘটনায় ওই পরিমাণ অর্থ বাস্তবে লেনদেন হয়েছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে আগ্রহী হওয়া থেকে বোঝা যায়, সরকারি সেবা ব্যবস্থায় ঘুষের অভিজ্ঞতা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ রয়েছে।

একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি ঘুষের অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে তথ্য, এলাকা, দপ্তর ও সেবার ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করছে।

উদাহরণ হিসেবে, প্রথম দুই দিনেই ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছিল এবং সেসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এরপর তৃতীয় দিনে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০-এর বেশি থেকে ২ হাজার ৭০০-এর বেশি এবং দাবিকৃত অর্থ ২১ কোটি থেকে ৩৫ কোটি টাকার বেশি পর্যন্ত ওঠার তথ্য প্রকাশিত হয়।

অর্থাৎ, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে অভিযোগের প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে।

কী ধরনের সেবায় অভিযোগ আসছে?

প্রকাশিত অভিযোগগুলোর মধ্যে জমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড়, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন, গাড়ির ফিটনেস এবং পেনশন-সংক্রান্ত সেবাসহ বিভিন্ন সরকারি কাজের কথা উঠে এসেছে।

কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ঘুষ না দিলে ফাইল এগোয় না; কোথাও সরকারি সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়ে অর্থ দিতে হয়েছে; আবার কোথাও ঘুষের দাবি প্রত্যাখ্যান করায় সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এগুলো অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধ নয়। প্রতিটি ঘটনাই অভিযোগকারীর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে ওয়েবসাইটে জমা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এসব অভিযোগ কতটা সত্য?

এখানেই ‘ঘুষ.সাইট’-এর তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

ওয়েবসাইটে জমা পড়া অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে তদন্ত বা যাচাই করা হয়নি। প্ল্যাটফর্মটিও এসব তথ্যকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে না। প্রতিটি প্রকাশিত রিপোর্টকে ‘unverified’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ফলে ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা মানে বাংলাদেশে চার দিনে ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত টানা যাবে না। সঠিক ব্যাখ্যা হলো, চার দিনে জমা পড়া অভিযোগগুলোতে মোট ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অভিযোগের সংখ্যা ও দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ বাস্তব দুর্নীতির পরিমাণের সরাসরি পরিমাপক নয়।

সরকারের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে এই উদ্যোগ?

‘ঘুষ.সাইট’-এর তথ্যকে সরকারি তদন্তের বিকল্প হিসেবে না দেখে একটি প্রাথমিক সতর্কসংকেত হিসেবে ব্যবহার করা হলে এর গুরুত্ব অনেক বেশি হতে পারে।

যেসব দপ্তর, সেবা বা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের অভিযোগ জমা পড়ছে, সেসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে নজরদারি, অভ্যন্তরীণ তদন্ত, সেবা প্রক্রিয়ার অডিট এবং নাগরিক অভিযোগ যাচাই করতে পারে।

বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি সেবার ক্ষেত্রে যদি বারবার একই ধরনের অভিযোগ আসে, তাহলে শুধু অভিযোগকারীকে দায়ী বা অবিশ্বাস করার পরিবর্তে সেবাটির পুরো প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা জরুরি—কোথায় অনুমোদনের ধাপ বেশি, কোথায় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কোথায় কর্মকর্তার বিবেচনাধিকার বেশি এবং কোথায় দালালচক্রের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

আরও বড় সম্ভাবনা—‘ঘুষের মানচিত্র’ তৈরি

এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে এর ডেটা বিশ্লেষণযোগ্যতা। সময়ের সঙ্গে হাজার হাজার অভিযোগ জমা হলে সরকারি সেবা, অঞ্চল, দপ্তর, দাবিকৃত অর্থ এবং অভিযোগের ফলাফল—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘুষের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

তখন শুধু ‘কোথায় ঘুষ বেশি’—এই প্রশ্ন নয়; বরং কোন সেবায়, কোন ধাপে, কোন ধরনের নাগরিকের কাছ থেকে এবং কী পরিমাণ অর্থ দাবি করার অভিযোগ বেশি—এসব প্রশ্নের উত্তরও খোঁজা সম্ভব হবে।

এ ধরনের তথ্য দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করা প্রতিষ্ঠান, গবেষক, সাংবাদিক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য ভবিষ্যতে একটি সহায়ক উৎস হতে পারে—যদি তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা যুক্ত করা যায়।

তবে অপব্যবহারের ঝুঁকিও আছে

বেনামি অভিযোগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ভুক্তভোগী পরিচয় প্রকাশের ভয় ছাড়াই নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে পারেন। কিন্তু একই কারণে মিথ্যা, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ঝুঁকিও থাকে।

তাই ভবিষ্যতে প্ল্যাটফর্মটির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে অভিযোগের ধরনভেদে যাচাইয়ের ব্যবস্থা, একই ঘটনার একাধিক রিপোর্ট শনাক্ত করা, প্রমাণ সংযুক্ত করার নিরাপদ সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়ার মতো পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে এমন যাচাই ব্যবস্থায় আবার অভিযোগকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা যাতে ঝুঁকিতে না পড়ে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চার দিনের এই সংখ্যা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মাত্র চার দিনে ৪ হাজার ৩৬১টি অভিযোগ এবং প্রায় ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ—সংখ্যাটি নিঃসন্দেহে বড়। কিন্তু এর আসল গুরুত্ব টাকার অঙ্কে নয়; বরং সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকরা কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন, তার একটি উন্মুক্ত ডেটাসেট তৈরির উদ্যোগে।

ঢাকায় একাই প্রায় ৪৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ জমা পড়ার তথ্য রাজধানীকেন্দ্রিক সরকারি সেবা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামেও এক হাজারের বেশি অভিযোগ এবং প্রায় ১২ কোটি টাকা ঘুষ দাবির তথ্য এসেছে। ফলে এটি শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

শেষ কথা

‘ঘুষ.সাইট’-এর চার দিনের তথ্যকে বাংলাদেশের সরকারি খাতে দুর্নীতির চূড়ান্ত পরিসংখ্যান বলা যাবে না। কারণ এগুলো নাগরিকদের বেনামি অভিযোগ এবং এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

তবে চার দিনে ৪ হাজার ৩৬১টি অভিযোগ এবং প্রায় ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ—এটি উপেক্ষা করার মতো তথ্যও নয়।

এই উদ্যোগ যদি দায়িত্বশীলভাবে পরিচালিত হয় এবং অভিযোগগুলো ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, তাহলে সরকারি সেবায় দুর্নীতির ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করার একটি কার্যকর নাগরিক-তথ্যভাণ্ডারে পরিণত হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অভিযোগকে প্রমাণ হিসেবে নয়, তদন্তের সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে দেখা। একই সঙ্গে যেসব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী সৎভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যাচাইহীন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও জরুরি।

অতএব, ‘ঘুষ.সাইট’-এর উত্থানকে শুধু ঘুষের অভিযোগের সংখ্যা হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এটি একই সঙ্গে নাগরিক ক্ষোভ, সরকারি সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা, ডিজিটাল স্বচ্ছতার সম্ভাবনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক জবাবদিহি তৈরির একটি নতুন পরীক্ষাও বটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *