বড় কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ২০২৬ । কারা থাকছেন নতুন এই মন্ত্রিসভায়?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী বিএনপি এখন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। দলীয় প্রধান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন—এটি এখন নিশ্চিত। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো—কারা থাকছেন নতুন এই মন্ত্রিসভায়?
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, তারেক রহমানের এবারের মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞতা ও মেধার এক অনন্য সমন্বয়। রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক গতিশীলতা আনাই হবে এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার প্রতিফলন
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের একটি বড় অংশ মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে পারেন। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দলের মহাসচিব হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ: দক্ষ ও অভিজ্ঞ এই নেতাকে রাখা হতে পারে প্রতিরক্ষা বা স্বরাষ্ট্রের মতো সংবেদনশীল কোনো দায়িত্বে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: বৈদেশিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলি সামলাতে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে পারেন তারেক রহমান।
সালাহউদ্দিন আহমদ: প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কারণে তিনিও থাকছেন মন্ত্রিসভার প্রথম সারিতে।
অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতা: ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
চমক ও উপদেষ্টা পদ
দীর্ঘদিন নির্বাচন পরিচালনা ও দলের ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু মন্ত্রিসভার নতুন ও শক্তিশালী মুখ হতে পারেন।
তরুণ ও মেধাবীদের প্রাধান্য
তারেক রহমান এবার মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ মুখ অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী সংসদ সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে জনপ্রশাসন ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো টেকনিক্যাল খাতে বিশ্বব্যাংক বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা আছে—এমন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও প্রবল।
শরিক ও মিত্র দলের অংশগ্রহণ
‘জাতীয় সরকার’ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছিল, তার প্রতিফলন হিসেবে মিত্র দলগুলো থেকে একাধিক নেতাকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে:
আন্দালিভ রহমান পার্থ (বিজেপি): তাঁর বাগ্মিতা এবং রাজনৈতিক ইমেজের কারণে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন): রাজপথের আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হতে পারে।
শাহাদাত হোসেন সেলিম: ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী এই নেতার নামও বিবেচনায় আছে।
সর্বজনীন প্রতিনিধিত্ব ও সংখ্যালঘু কোটা
একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের রাখা হবে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চল থেকে একজন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।



