গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন ২০২৬ । ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বকেয়া বেতন ও ১২ মার্চের মধ্যে বোনাস পরিশোধের নির্দেশ?
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের সকল কলকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিকদের গত মাসের বকেয়া বেতন আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের বোনাস আগামী ১২ মার্চের মধ্যে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ, ২০২৬) সচিবালয়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের (টিসিসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধের তাগিদ
মন্ত্রী বলেন, “শ্রমিকরা যাতে উৎসবের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য তাদের পাওনা সময়মতো বুঝিয়ে দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার। আমরা মালিকপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি যে, বকেয়া বেতন আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এবং ঈদ বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।” তিনি আরও জানান, কোনো অজুহাতে শ্রমিকদের পাওনা আটকে রাখা যাবে না এবং এ ব্যাপারে সরকার কঠোর তদারকি করবে।
আলোচনার মাধ্যমে ঈদের ছুটি নির্ধারণ
ঈদের ছুটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারি ছুটির পাশাপাশি কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের ছুটির বিষয়টি মালিক ও শ্রমিক পক্ষ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন। তিনি বলেন, “উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখা এবং শ্রমিকদের সুবিধার্থে উভয় পক্ষ বসে আলোচনা করে ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন, যাতে করে কোনো পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
শ্রমিক ছাঁটাই না করার আহ্বান
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো কারখানায় বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বা লে-অফ ঘোষণা করা যাবে না। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে শিল্প পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সরকারের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।




