শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ | ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং

দ্য উইকেন্ডের ট্যুর রেকর্ড: ১৩০ কোটি ডলার, পুরুষ শিল্পীদের শীর্ষে

দ্য উইকেন্ডের আফটার আওয়ারস টিল ডন ট্যুরের আয় ১৩০ কোটি ডলার ছাড়াল। এলটন জনকে টপকে পুরুষ শিল্পীর সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড। পরিসংখ্যান ও তুলনা জানুন।

কনসার্টে মঞ্চের সামনে দর্শকদের ভিড়, দ্য উইকেন্ডের ট্যুর রেকর্ড প্রতিবেদনের প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি। ছবি: Unsplash / Wikimedia Commons (CC0)

ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৬: কানাডীয় গায়ক দ্য উইকেন্ডের চার বছরের বিশ্বসফর ‘আফটার আওয়ারস টিল ডন’ শেষ হয়েছে ইতিহাস গড়ে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান লাইভ নেশন ৫ নভেম্বর (যুক্তরাষ্ট্র সময়) জানিয়েছে, এই ট্যুর থেকে টিকিট বিক্রি বাবদ আয় দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। এর মধ্য দিয়ে এটি এখন কোনো পুরুষ শিল্পীর সবচেয়ে বেশি আয় করা কনসার্ট ট্যুর। এত দিন রেকর্ডটি ছিল এলটন জনের ‘ফেয়ারওয়েল ইয়েলো ব্রিক রোড’ ট্যুরের দখলে, যার আয় ছিল প্রায় ৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ কনসার্টের মধ্য দিয়ে সফরের পর্দা নামে।

পটভূমি: মহামারিতে আটকে থাকা এক সফর

২০২০ সালে ‘আফটার আওয়ারস’ অ্যালবাম প্রকাশের পর দ্য উইকেন্ডের (আসল নাম আবেল তেসফায়ে) একটি বিশ্বসফরে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সেই পরিকল্পনা বারবার পিছিয়ে যায়। পরে ২০২২ সালে প্রকাশিত ‘ডন এফএম’ অ্যালবামের সঙ্গে মিলিয়ে সফরটি নতুন নামে সাজানো হয় এবং ছোট ইনডোর ভেন্যুর বদলে বড় স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়।

সফরের যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালের ১৪ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে। এরপর উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ওশেনিয়া ঘুরে শেষ পর্বে প্রথমবারের মতো এশিয়ায় পা রাখে এই আয়োজন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘হারি আপ টুমরো’ অ্যালবাম দিয়ে তিন অ্যালবামের যে ধারাবাহিক গল্প তিনি বলেছেন, এই সফর ছিল তারই মঞ্চরূপ।

তথ্য-উপাত্ত: এক নজরে ‘আফটার আওয়ারস টিল ডন’

বিষয়পরিসংখ্যান
মোট আয়১৩০ কোটি ডলারের বেশি
মোট কনসার্ট১৭৬টি
শহর / দেশ / মহাদেশ৬৭টি / ৩০টি / ৫টি
বিক্রি হওয়া টিকিট৯০ লাখের বেশি
শুধু ২০২৬ সালে৩০ লাখের বেশি টিকিট, আয় ৫০ কোটি ডলারের বেশি
এশিয়া পর্বঘোষণা ছিল ১১টি, শেষে হয় ১৭টি কনসার্ট
দাতব্য তহবিলে অনুদানমোট ৮৫ লাখ ডলার

লাইভ নেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে বিলবোর্ডের মাসিক বক্সস্কোর তালিকার শীর্ষে ছিল এই ট্যুর; সেই মাসে প্রায় নয় লাখ টিকিট বিক্রি করে আয় হয় ১২ কোটি ডলারের বেশি। এশিয়া পর্বে ব্যাংককে টানা তিন রাত এবং হংকংয়ে চার রাত কনসার্ট হয়েছে।

সর্বকালের তালিকায় কোথায় দাঁড়াল

পুরুষ শিল্পীদের মধ্যে শীর্ষে উঠলেও সর্বকালের সামগ্রিক তালিকায় এই ট্যুরের অবস্থান তৃতীয়। বিলবোর্ডের হিসাবে শীর্ষে টেলর সুইফটের ‘দ্য এরাস ট্যুর’, যার আয় ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল। দ্বিতীয় স্থানে ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের ‘মিউজিক অব দ্য স্ফিয়ার্স’, আয় প্রায় ১৫২ কোটি ডলার।

ট্যুরশিল্পীআনুমানিক আয়
দ্য এরাস ট্যুরটেলর সুইফট২০০ কোটি ডলারের বেশি
মিউজিক অব দ্য স্ফিয়ার্সকোল্ডপ্লেপ্রায় ১৫২ কোটি ডলার
আফটার আওয়ারস টিল ডনদ্য উইকেন্ড১৩০ কোটি ডলারের বেশি
ফেয়ারওয়েল ইয়েলো ব্রিক রোডএলটন জনপ্রায় ৯৩.৯ কোটি ডলার

অর্থাৎ ১০০ কোটি ডলারের সীমা পেরোনো হাতে গোনা কয়েকটি ট্যুরের একটি এখন এটি, এবং সেই তালিকায় একক পুরুষ শিল্পী হিসেবে দ্য উইকেন্ডই প্রথম।

বিশ্লেষণ: কেন এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ

প্রথমত, এটি দেখাচ্ছে মহামারির পর লাইভ কনসার্টের বাজার কতটা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কয়েক বছর আগেও ১০০ কোটি ডলারের ট্যুর ছিল কল্পনার বিষয়; এখন অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ট্যুর সেই সীমা পেরোচ্ছে। টিকিটের দাম বৃদ্ধি, স্টেডিয়ামভিত্তিক বড় প্রযোজনা আর অনলাইনে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক শ্রোতাগোষ্ঠী এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

দ্বিতীয়ত, এশিয়ার বাজারের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হলো। প্রথমবারের এশিয়া সফরে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ছয়টি বেশি কনসার্ট আয়োজন করতে হয়েছে চাহিদার কারণে। হংকংয়ে চার রাতে প্রায় দুই লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা। এই পর্বেই চীনা গায়িকা ফেই ওয়ংয়ের সঙ্গে ‘হংকং’ শিরোনামের একটি গানও প্রকাশ করেছেন তিনি।

তৃতীয়ত, সফরের সঙ্গে জুড়ে ছিল মানবিক উদ্যোগ। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সফর চলাকালে এক্সও হিউম্যানিটেরিয়ান ফান্ড ও গ্লোবাল সিটিজেনে মোট ৮৫ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে; শুধু ২০২৬ সালেই জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও গ্লোবাল সিটিজেনের জন্য উঠেছে ৩০ লাখ ডলার।

তবে মনে রাখা দরকার, আয়ের এই হিসাব মূলত আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা ও বিলবোর্ড-পোলস্টারের মতো শিল্পসংশ্লিষ্ট তালিকার ওপর নির্ভরশীল। এটি টিকিট বিক্রির মোট আয় (গ্রস), শিল্পীর নিট মুনাফা নয়; মঞ্চ নির্মাণ, পরিবহন ও কর্মীদের খরচ এর মধ্যেই ধরা।

প্রশ্নোত্তর: যা জানতে চাইছেন পাঠকেরা

সফরটি কি পুরোপুরি শেষ?
হ্যাঁ। কুয়ালালামপুরের কনসার্টটিই ছিল চার বছরের এই বিশ্বসফরের শেষ আয়োজন।

সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয়ের ট্যুর কোনটি?
টেলর সুইফটের ‘দ্য এরাস ট্যুর’। দ্য উইকেন্ডের রেকর্ডটি পুরুষ শিল্পীদের মধ্যে, সামগ্রিক তালিকায় তিনি তৃতীয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় কি কনসার্ট হয়েছে?
না। এশিয়া পর্বের কনসার্টগুলো হয়েছে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শহরগুলোতে; বাংলাদেশ বা ভারতে কোনো আয়োজন ছিল না। ভবিষ্যৎ সফর নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।

১৩০ কোটি ডলার বাংলাদেশি টাকায় কত?
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী অঙ্কটি ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যদিও বিনিময় হার ওঠানামায় এই হিসাব বদলাতে পারে।

তথ্যসূত্র: লাইভ নেশন (পিআর নিউজওয়্যার), বিলবোর্ড, পোলস্টার, দ্য ডেইলি স্টার, ডিজিটাল মিউজিক নিউজ।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।