প্রায় এক দশক পর খুলল ওসমানী উদ্যান, যাওয়ার আগে যা জানবেন
দীর্ঘ সংস্কার শেষে রাজধানীর গুলিস্তানের ওসমানী উদ্যান আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলেছে। নতুন জলাধার, প্রায় ৩ কিলোমিটার হাঁটার পথ, পাঠাগার ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ—কী কী আছে, কখন যাবেন, জেনে নিন।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক বন্ধ থাকার পর আবার নগরবাসীর জন্য খুলেছে রাজধানীর গুলিস্তানের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আধুনিকায়ন করা উদ্যান ও এর ভেতরে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন। পরদিন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা উদ্যানে প্রবেশ করতে পারছেন। নতুন রূপে সাজানো এই সবুজ চত্বরে সপরিবার সময় কাটানোর কথা ভাবলে কয়েকটি বিষয় আগে জেনে রাখা ভালো।
উদ্যানে কী কী আছে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের বিপরীতে এবং সচিবালয়ের পাশে অবস্থিত উদ্যানটির আয়তন প্রায় ২৩ একর। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি এখানে নতুন করে পাঁচটি জলাধার তৈরি করা হয়েছে। পুরো উদ্যানজুড়ে রয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ। হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস যাঁদের, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে নিয়মিত গন্তব্য।
এ ছাড়া রয়েছে ব্যায়ামাগার (জিম), প্যাগোডা ধাঁচের বসার জায়গা, পাবলিক টয়লেট, গাড়ি রাখার জায়গা ও জলাশয়ের ঘাট। উদ্যানের পাশে আছে একটি আধুনিক পাঠাগার, যার ওপরের তলায় বসে পড়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলার জন্য আলাদা জায়গা, ক্যাফেটেরিয়া এবং ভবিষ্যতে জাদুঘরের জন্য নির্দিষ্ট স্থানও রাখা হয়েছে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে প্রায় ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নতুন করে লাগানো হয়েছে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ
উদ্যানের নতুন সংযোজন প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। এতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ৮৩৪ জনের নাম লেজারে খোদাই করা হয়েছে। সামনে রয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধি। স্তম্ভের ভেতরে ও বাইরে দুটি দীর্ঘ রিলিফ ভাস্কর্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
কখন যাবেন, প্রবেশমূল্য কত
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্যান দুই পালায় খোলা থাকছে—সকাল ৭টা থেকে বেলা ১টা এবং বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। সময়সূচি বা নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে, তাই যাওয়ার আগে সিটি করপোরেশনের ঘোষণা দেখে নেওয়া ভালো। সকালের দিকে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে এবং হাঁটার জন্য আবহাওয়াও আরামদায়ক।
গুলিস্তান এলাকা হওয়ায় বাস ও মেট্রোরেলে সহজেই উদ্যানের কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। ঘুরতে গেলে উদ্যানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা এবং গাছপালা ও জলাশয়ের ক্ষতি না করার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
দীর্ঘ অপেক্ষার পটভূমি
ওসমানী উদ্যানের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। প্রথম আলোর ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে; কিন্তু ঠিকাদার পরিবর্তনসহ নানা কারণে প্রকল্প বারবার পিছিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় নগরবাসী উদ্যানটি ব্যবহার করতে পারেননি। বন্ধ থাকার সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৯ থেকে ১০ বছরের কথা বলা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আধুনিকায়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ও মধ্য ঢাকায় খোলা জায়গার সংকট দীর্ঘদিনের। নগর-পরিকল্পনাবিদেরা বিভিন্ন সময় এই উদ্যানকে রাজধানীর ‘ফুসফুস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নতুন করে খুলে দেওয়ায় আশপাশের বাসিন্দা, অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য হাঁটা, বিশ্রাম ও অবসর কাটানোর একটি বড় পরিসর আবার তৈরি হলো।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ঢাকা টাইমস, খবরসংযোগ





মন্তব্য (০)