ClaimBD

Author: Admin

  • টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ধাপে ধাপে কর কমাবে সরকার, ৫-৬ হাজার টাকায় স্মার্টফোন কেনার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ

    টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ধাপে ধাপে কর কমাবে সরকার, ৫-৬ হাজার টাকায় স্মার্টফোন কেনার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ

    দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণে কর কাঠামো আরও বিনিয়োগবান্ধব করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রতি দুই বছর অন্তর ধাপে ধাপে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

    রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন–এর নেটওয়ার্কে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যবহারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

    কর কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা

    অনুষ্ঠানে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাত থেকে সরকারের কর আদায়ের হার তুলনামূলক বেশি। ফলে খাতটিতে বিনিয়োগের গতি আরও বাড়াতে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে কর কমিয়ে টেলিকম খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে নিয়ে আসা।

    বিশ্লেষকদের মতে, করের বোঝা কমলে মোবাইল অপারেটররা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে। এর ফলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী হবে এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারিত হবে।

    বাজেটে সিম করসহ বিভিন্ন খাতে সুবিধা

    উপদেষ্টা জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সিম করসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মোবাইল ও ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আধুনিক ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া। কর ও নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর ফলে টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা চালু করতে উৎসাহিত হবে।

    ৫-৬ হাজার টাকায় স্মার্টফোন কেনার সুযোগ

    সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে বাজেটে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে বলেও জানান রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, যাতে সাধারণ নাগরিকরা ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে একটি স্মার্টফোন কিনতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতিগত ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কম দামে স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেলে ডিজিটাল শিক্ষা, অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার ব্যবহার আরও বাড়বে। এতে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পরিধিও বিস্তৃত হবে।

    ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে জোর

    সরকার দেশের ইলেকট্রনিক শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। উপদেষ্টা বলেন, শুধু মোবাইল ফোন সংযোজন নয়, বরং ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও সরকার কাজ করছে।

    মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের সাফল্যের মতো বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ২০৩০ সালের লক্ষ্য

    সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ইলেকট্রনিক পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জনে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন হবে।

    টেলিযোগাযোগ খাতে কর হ্রাস, সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং ইলেকট্রনিক শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মতো উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

  • সারাদেশে ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করবে সরকার, সুবিধা পাবেন ৪০ হাজার কৃষক

    সারাদেশে ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করবে সরকার, সুবিধা পাবেন ৪০ হাজার কৃষক

    কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো, বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’স এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক নীতিনির্ধারণী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কৃষি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে কৃষি খাতের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বাস্তবমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

    তিনি বলেন, কৃষকরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করলেও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে অনেক সময় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে সবজি, ফলমূল ও অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে বাজারদর কমে যায়। ফলে কৃষককে বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়।

    এই সমস্যা সমাধানে কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা পৌঁছে দিতে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে কোল্ড স্টোরেজ

    কৃষিমন্ত্রী জানান, প্রতিটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ ১৫ থেকে ২০ জন কৃষকের সমন্বয়ে গঠিত সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এসব সংরক্ষণাগার সৌরবিদ্যুৎচালিত হওয়ায় বিদ্যুৎ খরচ কমবে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

    তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকায় এই মডেল বাস্তবায়ন করেছে এবং সেখানে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। পাইলট প্রকল্পের সফলতার ভিত্তিতেই সারাদেশে এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা সম্ভব হলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি এর সুবিধা পাবেন। এর ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে, কৃষকরা সুবিধাজনক সময়ে পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন এবং বাজারে মূল্য ওঠানামাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

    কৃষি উৎপাদনে ডাটাবেসভিত্তিক পরিকল্পনা

    কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজার চাহিদার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে সরকার ডাটাবেসভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোন অঞ্চলে কী পরিমাণ কৃষিপণ্যের চাহিদা রয়েছে এবং কোথায় কী পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। এর ফলে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারবেন এবং অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে বাজার ধসের ঝুঁকি কমবে।

    তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্যনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা চালু হলে ভোক্তারাও সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য কিনতে পারবেন।

    পেঁয়াজ ও আদায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্যে কাজ

    সভায় কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার পেঁয়াজ, পেঁয়াজবীজ এবং আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

    তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই দেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বা সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনেও দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে।

    বিশ্বব্যাংকের অংশগ্রহণ

    অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম।

    এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মানসুর আহমেদ এবং গবেষণা বিশ্লেষক জোনায়েদ সহল। সভায় বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ড. ডিনা উমালি ডেইনিঙ্গারসহ নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং কৃষি খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

    কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

    বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ পর্যায়ে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষিপণ্যের অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং কৃষকরা বাজারের অনুকূল সময়ে পণ্য বিক্রি করে বেশি লাভবান হতে পারবেন। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্প কৃষি খাতে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

  • ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ হস্তক্ষেপ

    ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ হস্তক্ষেপ

    দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা প্রয়োগ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    একই আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি কার্যত বোর্ডের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক ও নীতিগত কার্যক্রম তদারকি করবেন।

    ৪৭(৩) ধারার তাৎপর্য কী?

    ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা স্থগিত বা বাতিল করে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের সুযোগ দেয়।

    সাধারণত ব্যাংকের পরিচালনা, সুশাসন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, আর্থিক স্থিতিশীলতা কিংবা নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুতর প্রয়োজন দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে।

    ব্যাংক খাতে এর প্রভাব কী হতে পারে?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনায় অধিকতর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন পর্ষদ গঠনের পথ সুগম হতে পারে।

    অন্যদিকে, আমানতকারী, গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি নজরদারি জোরদার করবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

    গ্রাহকদের জন্য কোনো উদ্বেগ আছে কি?

    ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এলেও ব্যাংকের দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম, আমানত, উত্তোলন, অনলাইন সেবা বা শাখা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানের কারণে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    উপসংহার

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরাসরি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করায় ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা, নতুন পর্ষদ গঠন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নতুন পরিচালনা কাঠামো গঠনের দিকেই নজর থাকবে ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের।

  • আজকের ফুটবল খেলার ফলাফল ২০২৬ । কোন দল কয়টি করে গোল দিয়েছে?

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী পর্বের ম্যাচগুলো ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গতকাল (১২ জুন) এবং আজ (১৩ জুন) সকাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর ফলাফল এবং কে কতটি গোল দিয়েছে, তা নিচে দেওয়া হলো:

    ​ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: সাম্প্রতিক ম্যাচের ফলাফল

    ম্যাচ (দল বনাম দল)

    ফলাফল (স্কোর)

    গোলদাতার বিবরণ

    যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে

    ৪ – ১

    যুক্তরাষ্ট্র (৪): ববাদিয়া (আত্মঘাতী গোল), ফ্লোরিয়ান বালোগান (২টি গোল) এবং জিওভানি রেইনা (১টি গোল)।

    প্যারাগুয়ে (১): মাউরিসিও।

    কানাডা বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা

    ১ – ১

    কানাডা (১): কাইল লারিন।

    বসনিয়া (১): (ম্যাচটি ড্র হয়েছে)।

    দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্র

    ২ – ১

    দক্ষিণ কোরিয়া (২): ওহ হিয়ন-গিউ এবং অন্য একজন।

    চেক প্রজাতন্ত্র (১): লাদিস্লাভ ক্রেচিস।

    মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা

    ২ – ০

    মেক্সিকো (২): হুলিয়ান কিনিয়োনেস এবং অন্য একজন।

    দক্ষিণ আফ্রিকা (০): কোনো গোল করতে পারেনি।

    ​নোট: ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো কেবল শুরু হয়েছে। আজ রাতের পর থেকে অর্থাৎ আগামীকাল (১৪ জুন) ভোর ও সকালে কাতার বনাম সুইজারল্যান্ড এবং ব্রাজিল বনাম মরক্কো-এর মতো বড় ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

  • ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ । এ বছর কোন দল সাপোর্ট করবেন?

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ । এ বছর কোন দল সাপোর্ট করবেন?

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়ে গেছে। এবারের বর্ধিত ফরম্যাটে মোট ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে, যার ফলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চ আরও দ্বিগুণ।

    আপনি কোন দল সাপোর্ট করবেন তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত ফুটবল দর্শন, প্রিয় খেলোয়াড় এবং দলের খেলার ধরণের ওপর। বাংলাদেশে সাধারণত দুটি দলের সমর্থক সবচেয়ে বেশি হলেও, বর্তমান ফর্ম ও স্কোয়াডের গভীরতা বিবেচনায় প্রধান বড় দলগুলোর শক্তি ও সম্ভাবনা নিচে তুলে ধরা হলো, যা আপনাকে দল বেছে নিতে সাহায্য করবে:

    ১. আর্জেন্টিনা (Argentina)

    • কেন সাপোর্ট করবেন: বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং কোপা আমেরিকা জয়ী দল হিসেবে তারা অন্যতম প্রধান ফেভারিট। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ (বা তার রেখে যাওয়া লিগ্যাসি) এবং হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেসদের মতো দুর্দান্ত আক্রমণভাগের কারণে এই দলের আবেগ ও শক্তি দুটোই তুঙ্গে।

    • খেলার ধরন: দারুণ পাসিং কম্বিনেশন, দলীয় বোঝাপড়া এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল।

    ২. ব্রাজিল (Brazil)

    • কেন সাপোর্ট করবেন: হেক্সা (৬ষ্ঠ শিরোপা) মিশনের লক্ষ্যে ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগো এবং তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে গড়া ব্রাজিলের আক্রমণভাগ অত্যন্ত গতিশীল। শৈল্পিক ফুটবল বা ‘জোগো বোনিতো’র ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই দলের জুড়ি নেই।

    • খেলার ধরন: উইং ধরে গতিময় ড্রিবলিং, স্কিলফুল আক্রমণ এবং কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল।

    ৩. ফ্রান্স (France)

    • কেন সাপোর্ট করবেন: কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে ফ্রান্স এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী দলগুলোর একটি। ২০১৮-এর চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২-এর রানার্স-আপরা এবারও বুকমেকারদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। ওসমানে দেম্বেলে ও তরুণ তুর্কিদের নিয়ে তাদের স্কোয়াডের গভীরতা অবিশ্বাস্য।

    • খেলার ধরন: ক্ষীপ্র গতি, শারীরিক শক্তি এবং নিখুঁত ফিনিশিং।

    ৪. স্পেন (Spain)

    • কেন সাপোর্ট করবেন: ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেন এই মুহূর্তে দারুণ ফর্মে আছে। রদ্রি, পেদ্রি এবং বিশ্বমানের তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালদের নিয়ে গড়া এই দলটি সম্পূর্ণ নতুন গতিতে খেলছে। বর্তমান টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট তারা।

    • খেলার ধরন: মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, প্রেসিং ফুটবল এবং টিকিটাকা’র আধুনিক সংস্করণ।

    ৫. পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড (Portugal & England)

    • পর্তুগাল: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বার্নার্দো সিলভাদের নিয়ে গঠিত পর্তুগাল দলটির স্কোয়াড গভীরতা এবার বেশ চমৎকার।

    • ইংল্যান্ড: হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম এবং ডেক্লান রাইসদের নিয়ে ইংল্যান্ডের এই প্রজন্মকে তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ধরা হচ্ছে।

    আপনার জন্য পরামর্শ: যদি আপনি আবেগ, ঐতিহ্য ও নান্দনিক ল্যাটিন ফুটবল পছন্দ করেন, তবে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল বেছে নিতে পারেন। আর যদি আধুনিক কৌশল, গতি ও ইউরোপীয় আধিপত্যের ফুটবল পছন্দ করেন, তবে ফ্রান্স বা স্পেন আপনার জন্য সেরা বিকল্প হতে পারে।

  • ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বাছাই পর্ব: পুরোনোদের দাপট বনাম নতুনদের রাজত্ব

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বাছাই পর্ব: পুরোনোদের দাপট বনাম নতুনদের রাজত্ব

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মূল পর্বের মহাযজ্ঞ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে হয়ে যাওয়া বাছাই পর্বের ম্যাচগুলো ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে রোমাঞ্চকর সব মুহূর্ত। ফুটবল বিশ্বের নামী ও খ্যাতনামা তারকারা তাদের নামের প্রতি কতটা সুবিচার করতে পারলেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মাঠের পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, অভিজ্ঞ মহাতারকাদের কেউ কেউ তাদের চেনা দাপট ধরে রেখে ইতিহাস গড়েছেন, আবার কেউ কেউ ইনজুরি ও ফর্মহীনতায় ভুগেছেন। এর মাঝেই আগমন ঘটেছে নতুন কিছু রেকর্ডের।

    ইউরোপীয় অঞ্চলে হালান্ড-রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার খেলা

    ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাই পর্বে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবং পর্তুগিজ কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

    • আর্লিং হালান্ড: নরওয়েকে মূল পর্বের লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখতে একক দাপট দেখিয়েছেন হালান্ড। পুরো বাছাই পর্বে সর্বোচ্চ ১৬টি গোল করে তিনি রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়েছেন। ইজরায়েলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি ইতিহাসের মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ৫০টিরও কম ম্যাচে (৪৮ ম্যাচে ৫৫ গোল) ৫০ আন্তর্জাতিক গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়া গত ৪৮ বছরের মধ্যে প্রথম ইউরোপীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের দলের সবকটি বাছাই পর্বের ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি।

    • ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: বয়সের তোয়াক্কা না করে পর্তুগালকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী রোনালদো। বাছাই পর্বের ইতিহাসে কার্লোস রুইজের করা ৩৯ গোলের রেকর্ড ভেঙে তিনি এখন ৪১ গোল নিয়ে বাছাই পর্বের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক লাল কার্ড দেখার তেতো স্বাদও পেতে হয়েছে তাকে।

    এদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন এবং অস্ট্রিয়ার মার্কো আরনাউতোভিচ প্রত্যেকে ৮টি করে গোল করে নিজ নিজ দলের প্রধান ভরসা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে বাছাই পর্বে মাত্র ৪ ম্যাচে ৫ গোল করে নিজের বিধ্বংসী ফর্মের জানান দিয়েছেন।

    লাতিন আমেরিকায় মেসির শীর্ষস্থান, নেইমারের ইনজুরি ও ব্রাজিলের ধুঁকতে থাকা

    লাতিন আমেরিকা (CONMEBOL) অঞ্চলের ১৮ ম্যাচের দীর্ঘ ও কঠিন বাছাই পর্বে বরাবরের মতোই নিজের ক্লাস দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। তবে ব্রাজিল ভক্তদের জন্য সময়টা খুব একটা ভালো যায়নি।

    • লিওনেল মেসি: আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত এই অধিনায়ক পুরো অঞ্চলের বাছাই পর্বে সর্বোচ্চ ৮টি গোল করে শীর্ষ গোলদাতার আসনটি নিজের করে নিয়েছেন। তার জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভর করে আর্জেন্টিনা ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখে অত্যন্ত সহজেই মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে।

    • নেইমার জুনিয়র ও ব্রাজিল: ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমারের জন্য এই মৌসুমটি ছিল চরম হতাশাজনক। মারাত্মক ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। নেইমারের অনুপস্থিতি স্পষ্ট টের পেয়েছে সেলেসাওরা। পুরো বাছাই পর্বে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল ওঠানামায় ভরা। ১৮ ম্যাচের মধ্যে তারা ৬টি ম্যাচেই হেরে বসেছে, যা ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে বেশ বিরল। শেষ পর্যন্ত ২৪ গোল নিয়ে টেবিলের ৫ নম্বরে থেকে কোনোমতে সরাসরি মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। ব্রাজিলের হয়ে এই পর্বে সর্বোচ্চ ৫টি গোল করেছেন রাফিনহা।

    লাতিন আমেরিকার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ৫ দলের চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

    অবস্থান দল ম্যাচ জয় ড্র হার গোল ব্যবধান পয়েন্ট শীর্ষ গোলদাতা
    ১ আর্জেন্টিনা ১৮ ১২ ২ ৪ +২১ ৩৮ লিওনেল মেসি (৮ গোল)
    ২ ইকুয়েডর ১৮ ৮ ৮ ২ +৯ ২৯ এনার ভ্যালেন্সিয়া (৬ গোল)
    ৩ কলম্বিয়া ১৮ ৭ ৭ ৪ +১০ ২৮ লুইস দিয়াজ (৭ গোল)
    ৪ উরুগুয়ে ১৮ ৭ ৭ ৪ +১০ ২৮ ডারউইন নুনেস (৫ গোল)
    ৫ ব্রাজিল ১৮ ৮ ৪ ৬ +৭ ২৮ রাফিনহা (৫ গোল)

    এশিয়ায় সন হিউং-মিনের চেনা রূপ

    এশিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বেও সুনামধন্য তারকা খেলোয়াড়রা তাদের চেনা ফর্ম দেখিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক এবং টটেনহ্যাম তারকা সন হিউং-মিন নিজের নামের প্রতি পূর্ণ বিচার করেছেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো এবং আক্রমণভাগ গোছানোর মূল দায়িত্বটি তিনি সফলভাবে পালন করেছেন, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে অনায়াসে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিয়েছে।

    সার্বিক মূল্যায়ন:

    তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট বলা যায়, ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং আর্লিং হালান্ডের মতো সুনামধন্য বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা সম্পূর্ণ দাপট দেখাতে পেরেছেন এবং নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। অন্যদিকে, নেইমারের মতো তারকা ইনজুরির কাছে হেরে যাওয়ায় দলগতভাবে ভুগতে হয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। তবে সামগ্রিকভাবে, বিশ্বমঞ্চে নামার আগে এই তারকাদের ফর্ম ফুটবলপ্রেমীদের একটি জমজমাট বিশ্বকাপের আভাস দিচ্ছে।

  • বাজেট ২০২৬-২৭: স্বস্তির খবর নিত্যপণ্যে, দাম কমছে ও বাড়ছে যেসব পণ্যের

    বাজেট ২০২৬-২৭: স্বস্তির খবর নিত্যপণ্যে, দাম কমছে ও বাড়ছে যেসব পণ্যের

    জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বিশাল বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে বড় ধরনের কর ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, চিকিৎসা সামগ্রী এবং প্রযুক্তি পণ্যের ওপর শুল্ক ও উৎসে কর উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

    তবে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং রাজস্ব বাড়াতে কিছু আমদানিকৃত বিলাসী পণ্য, তামাকজাত দ্রব্য ও নির্মাণ সামগ্রীর ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে বাড়তে পারে বেশ কিছু পণ্যের দাম।

    বাজেট বিশ্লেষণ করে কোন কোন পণ্যের দামে কী ধরনের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে, তার একটি বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

    যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

    ১. চাল, তেল, পেঁয়াজসহ ৬০টি নিত্যপণ্য জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ১ থেকে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে এসব পণ্যের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    ২. শিশুখাদ্য ও মসলাজাতীয় পণ্য শিশুখাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা এবং খেজুর আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি (নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। ফলে কমতে পারে শিশুখাদ্য ও মসলার দাম।

    ৩. চিকিৎসা সামগ্রী ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম স্বাস্থ্য খাতে একাধিক কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। এছাড়া হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৪. কম্পিউটার ও প্রযুক্তি পণ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর থাকা ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণ বিলুপ্ত বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    ৫. ইলেকট্রনিক্স ও গৃহস্থালি পণ্য ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, ইস্ত্রি (আয়রন), রাইস কুকার, মাল্টি কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার ও গিজারসহ বিভিন্ন দেশীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্যের উৎপাদন ও কাঁচামাল আমদানিতে কর রেয়াত দেওয়ায় এগুলোর দাম কমতে পারে।

    ৬. স্বর্ণালঙ্কার ও বিনোদন সামগ্রী স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া তরুণ প্রজন্মের বাদ্যযন্ত্র যেমন— গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এসেছে।

    যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

    ১. সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য রাজস্ব বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্ন স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া নিকোটিন গ্র্যানুলস ও পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    ২. এমএস রড ও নির্মাণ সামগ্রী রড তৈরির বিভিন্ন উপকরণের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব আসায় আবাসন খাতের প্রধান উপাদান এমএস রডের দাম বাড়তে পারে।

    ৩. আমদানি করা বিদেশি খাদ্যপণ্য ও ফল বিদেশি কাজুবাদাম (অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত) আমদানিতে শুল্ক ১ থেকে ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি পাঙাশ মাছের ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং বিদেশি সুপারি ও প্রাকৃতিক মধুর শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। কফি, সুগার কনফেকশনারি ও তৈরি খাবার আমদানিতেও খরচ বাড়বে।

    ৪. জ্বালানি চালিত গাড়ি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনচালিত (তেলচালিত) গাড়ি আমদানির ওপর করভার ১৩২.৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করায় সাধারণ গাড়ির দাম বাড়বে। তবে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়িতে করছাড় বজায় থাকতে পারে।

    ৫. বিদেশি প্রসাধনী ও এলপিজি সিলন্ডার লিপ লাইনার, লিপ জেলসহ সমজাতীয় বিদেশি প্রসাধনী পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর ভ্যাট আরোপের কারণে এর দামও বাড়তে পারে।

    অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষণ: > অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোর লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানোই এবারের কর কাঠামোর মূল লক্ষ্য। তবে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর যে নীতি সরকার গ্রহণ করেছে, তা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়— বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • সেনাপ্রধানের দাড়ি রাখা নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা: ধর্মীয় পরিচয় ও সামরিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন অনেক কর্মকর্তা

    সেনাপ্রধানের দাড়ি রাখা নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা: ধর্মীয় পরিচয় ও সামরিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন অনেক কর্মকর্তা

    বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীতে ধর্মীয় পরিচয়, বিশেষ করে দাড়ি রাখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মানসিকতার পরিবর্তনের প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের প্রকাশ্য দাড়ি রাখা এবং বাহিনীর পরিবারকেন্দ্রিক ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে অনেক বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

    নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কাজী ইনতিসার ইনজিমাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগেও সশস্ত্র বাহিনীতে দাড়ি রাখা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন, সমালোচনা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যার মুখোমুখি হতে হতো কর্মকর্তাদের।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রথমবার দাড়ি রাখার অনুমতি চাইলেও তা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবশেষে ২০২৩ সালের শেষ দিকে পূর্ণ অনুমতি পাওয়ার পর ২০২৪ সালের রমজান থেকে তিনি নিয়মিতভাবে দাড়ি রাখা শুরু করেন। তবে এরপর তাকে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, একসময় ধর্মীয় অনুশীলনের প্রতি বাড়তি আগ্রহ বা নিয়মিত মসজিদে যাতায়াতকেও সন্দেহের চোখে দেখা হতো। ধর্মীয়ভাবে সচেতন ব্যক্তিদের অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার প্রবণতা ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    লেফট্যানেন্ট ইনতিসারের মতে, এমন একটি পরিবেশে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে সেনাপ্রধানের প্রকাশ্যে দাড়ি রাখা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি বাহিনীর অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর যারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সংশয় ও সন্দেহের মধ্যে ছিলেন, তাদের কাছে এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সেনাপ্রধানের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে দ্বিমত থাকতে পারে। তবে ধর্মীয় পরিচয় ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে সেনাপ্রধানের ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার বলে তিনি মনে করেন।

    তার দাবি, অতীতে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত পরিবেশে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা নিরুৎসাহিত করার প্রবণতা ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় অভিব্যক্তিকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে বাহিনীর ভেতরে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশে অনেকে স্বস্তিবোধ করতেন না।

    বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক বাহিনীর মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে প্রতীকী পরিবর্তনের গুরুত্ব অনেক। কোনো নীতিগত পরিবর্তনের আগে পরিবেশ ও মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন হয়, আর সেই পরিবর্তনের সূচনা অনেক সময় নেতৃত্বের আচরণ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই ঘটে।

    লেফট্যানেন্ট ইনতিসার তার লেখায় উল্লেখ করেন, অতীতে নৌবাহিনীর একজন প্রধানের দাড়ি রাখাও বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এ বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছিল। একইভাবে বর্তমান সেনাপ্রধানের দাড়ি রাখাকে তিনি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের একটি প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি বা একজন জেনারেলের দাড়ি রাখা মাত্রই কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যাবে না কিংবা সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। তবে প্রতীকী পদক্ষেপ সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রাখে। আর সেই সংস্কৃতিই ভবিষ্যতের প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করে।

    তার মতে, দেশের সর্বোচ্চ ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা যদি দাড়ি রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক তরুণ কর্মকর্তা ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে কম সংকোচ বোধ করবেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণ করলেও একজন কর্মকর্তা পেশাগতভাবে কম দক্ষ বলে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।

    লেখার শেষাংশে তিনি সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “যেখানে কৃতিত্ব প্রাপ্য, সেখানে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। ইউনিফর্ম ও ইসলাম পরস্পরবিরোধী নয়—এই বার্তা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”

    সামরিক বাহিনীতে ধর্মীয় অনুশীলন ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু দাড়ি রাখার প্রশ্ন নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় পরিচয়, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং পেশাগত সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বৃহত্তর আলোচনারও অংশ।

  • সড়ক বাতির প্রযুক্তি দেখতে ফ্রান্স সফরে প্রশাসককে ‘না’, অনুমতি পেলেন প্রকৌশলী

    সড়ক বাতির প্রযুক্তি দেখতে ফ্রান্স সফরে প্রশাসককে ‘না’, অনুমতি পেলেন প্রকৌশলী

    সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত ফ্রান্স সফরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসককে অনুমতি দেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে একই সফরের জন্য মনোনীত রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইটকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো একটি সারসংক্ষেপ পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

    স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক বাতি বা স্ট্রিট লাইটিংয়ের আধুনিক ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইটের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সফরের আয়োজনের পেছনে ছিল সিগনিফাই বাংলাদেশের আমন্ত্রণ এবং ফ্রান্সে অবস্থিত সিগনিফাইয়ের আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার পরিদর্শনের পরিকল্পনা।

    প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে মন্তব্য করেন, এ ধরনের প্রযুক্তিগত বিষয়ে কোনো প্রকৌশলী জ্ঞান অর্জন করলে তা সরাসরি সিটি করপোরেশনের কাজে লাগবে। কিন্তু প্রশাসক প্রকৌশলী নন, ফলে তার সফর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না। এ কারণে প্রশাসকের পরিবর্তে প্রয়োজন হলে শুধুমাত্র নির্বাহী প্রকৌশলীকে সফরে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    সরকারপ্রধানের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহযোগিতা গ্রহণ করা উচিত। এতে দেশীয় দক্ষতা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাধান আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মত দেন।

    উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নগরীর সড়কবাতি ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য ১১ দিনের একটি ফ্রান্স সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করা গেলে তা ভবিষ্যতে নগরীর বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।

    তবে প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারি অর্থ ও সময়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদেরই এ ধরনের বিদেশ সফরে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশের নিজস্ব প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

  • আইএমএফের ঋণ পেতে সরকার এতটা আগ্রহী কেন? অর্থনীতি বাঁচাতে নাকি সংস্কারের চাপ?

    আইএমএফের ঋণ পেতে সরকার এতটা আগ্রহী কেন? অর্থনীতি বাঁচাতে নাকি সংস্কারের চাপ?

    বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ পাওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিদ্যমান কর্মসূচির পরিবর্তে নতুন ঋণ চুক্তির জন্যও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। প্রশ্ন উঠেছে—আইএমএফের কঠোর শর্ত থাকা সত্ত্বেও সরকার কেন এই ঋণ পেতে এতটা আগ্রহী? অর্থনীতিবিদদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, বাজেট ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে আস্থার বিষয়।

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ

    গত কয়েক বছরে ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আইএমএফের ঋণ সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতি আস্থা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএমএফের সহায়তা পাওয়া গেলে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও অর্থায়ন সহজ হয়।

    বাজেট ঘাটতি ও রাজস্ব সংকট

    বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো কম কর-জিডিপি অনুপাত। সরকার উন্নয়ন ব্যয় ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন অনুভব করছে। আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর অব্যাহতি কমানো এবং কর প্রশাসনে সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে আসছে। সরকার এসব সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগও দেখছে।

    কেন কঠিন শর্ত দিচ্ছে আইএমএফ?

    আইএমএফের মূল লক্ষ্য শুধু ঋণ দেওয়া নয়, বরং ঋণগ্রহীতা দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। এজন্য বাংলাদেশকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ডলারের বিনিময় হার আরও বাজারভিত্তিক করা।
    • জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানো।
    • কর আদায় বৃদ্ধি করা।
    • ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
    • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা।
    • আর্থিক খাতের তদারকি জোরদার করা।

    সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কোথায়?

    আইএমএফের অনেক শর্ত বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও বিভিন্ন সেবার মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় হার চালু হলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই আইএমএফের শর্ত নিয়ে দেশে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়।

    সরকার কেন ঝুঁকি নিয়েও এগোচ্ছে?

    অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার মনে করছে যে স্বল্পমেয়াদে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর আদায় বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য আইএমএফ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ঋণযোগ্যতা বজায় রাখতেও আইএমএফের সমর্থন একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করে।

    উপসংহার

    আইএমএফের ঋণ নিয়ে সরকারের আগ্রহের মূল কারণ শুধু অর্থ পাওয়া নয়; বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক আস্থা ধরে রাখা। তবে এর বিনিময়ে যেসব সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে, সেগুলোর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে। তাই সরকারকে একদিকে অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে, অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপও নিশ্চিত করতে হবে।

  • রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’: কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি

    রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’: কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি

    দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। দিবসটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    গত ৩ মে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী দেশের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও মাঠ প্রশাসনের কার্যালয়ে পাঠিয়ে সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে মাঠ প্রশাসনের ব্যাপক সম্পৃক্ততা

    দিবসটি উদযাপনে সরকারের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ উইংকে একযোগে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কার্যবিবরণী বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে বিশেষ স্মারক পাঠানো হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সমান্তরালে দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যেন সমন্বিত ও একরূপ কর্মসূচি পালিত হয়, সেজন্য মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন:

    • দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার

    • জেলা প্রশাসক (ডিসি)

    • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)

    • পুলিশ সুপার (এসপি)

    • থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)

    নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ নির্দেশনা

    রাষ্ট্রীয় এই দিবসটি যেন নির্বিঘ্নে এবং সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য দেশের সকল শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে:

    • বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী

    • পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্ট গার্ড

    • জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)

    • ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সহ অন্যান্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংস্থা।

    প্রচার ও জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তর দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালাবে।

    মূল আকর্ষণসমূহ:

    জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনাসভা, স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সমন্বিত উদ্যোগে নানা খাতের অংশগ্রহণ

    দিবসটির বহুমাত্রিক গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারের প্রায় সবকটি খাতকে এই আয়োজনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ, বাণিজ্য এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দিবস উদযাপনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এই ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশব্যাপী ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উদযাপিত হতে যাচ্ছে।

  • এনসিপির ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ, শিক্ষা-প্রযুক্তি ও ঋণের সুদে সর্বোচ্চ বরাদ্দ

    এনসিপির ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ, শিক্ষা-প্রযুক্তি ও ঋণের সুদে সর্বোচ্চ বরাদ্দ

    দেশের অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় খাতগুলোতে ব্যয়ের একটি বিকল্প রূপরেখা তুলে ধরে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ও প্রযুক্তি, ঋণের সুদ পরিশোধ, শিল্প ও প্রণোদনা, স্বাস্থ্য, পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রকাশিত ছায়া বাজেটের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি ১০০ টাকা সরকারি ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪.৬ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য। এছাড়া শিল্প ও প্রণোদনা খাতে ১১ টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৮.৬ টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ৬.১ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    খাতভিত্তিক প্রস্তাবিত ব্যয়

    এনসিপির ছায়া বাজেট অনুযায়ী প্রতি ১০০ টাকা ব্যয়ের সম্ভাব্য বণ্টন হবে—

    • শিক্ষা ও প্রযুক্তি: ১৪.৬ টাকা
    • ঋণের সুদ পরিশোধ: ১৩.০ টাকা
    • শিল্প ও প্রণোদনা: ১১.০ টাকা
    • পরিবহন ও যোগাযোগ: ৮.৬ টাকা
    • স্বাস্থ্য: ৬.১ টাকা
    • স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন: ৫.৫ টাকা
    • প্রতিরক্ষা: ৪.৭ টাকা
    • সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ: ৪.৭ টাকা
    • কৃষি: ৩.৬ টাকা
    • জ্বালানি ও বিদ্যুৎ: ২.৯ টাকা

    শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে জোর

    ছায়া বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই খাতে বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

    ঋণের সুদ পরিশোধে বড় চাপ

    বাজেটের একটি বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেশের ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে। মোট ব্যয়ের ১৩ শতাংশ সুদ পরিশোধে চলে গেলে উন্নয়নমূলক ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে তুলনামূলক কম অর্থ অবশিষ্ট থাকতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

    শিল্প ও অবকাঠামো খাতে গুরুত্ব

    শিল্প ও প্রণোদনা খাতে ১১ শতাংশ এবং পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৮.৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার লক্ষ্যও প্রতিফলিত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা

    স্বাস্থ্য খাতে ৬.১ শতাংশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪.৭ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করার জন্য এ খাতগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

    অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির ছায়া বাজেট মূলত একটি নীতিগত প্রস্তাবনা, যা সরকারি বাজেটের বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। শিক্ষা, শিল্প, অবকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়ন খাতে জোর দেওয়ার পাশাপাশি ঋণের সুদ পরিশোধের উচ্চ ব্যয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্রও প্রকাশ করে।

    ছায়া বাজেট বাস্তবায়নের সুযোগ না থাকলেও এটি সরকারের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমত তৈরি, নীতিগত আলোচনা এবং বিকল্প অর্থনৈতিক চিন্তাধারাকে সামনে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।