ভারত-নেপালের চেয়েও বাংলাদেশে ফলের দাম বেশি: উচ্চ শুল্ক, কম সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় চাপে ভোক্তা
বাংলাদেশের বাজারে আমদানিনির্ভর ফলের দাম দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আপেল, আঙুর ও খেজুরের মতো বহুল চাহিদার ফলের তুলনামূলক বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, একই ধরনের ফল কিনতে বাংলাদেশি ভোক্তাকে ভারত ও নেপালের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। ৪ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রকাশিত বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যভিত্তিক তুলনায় এ চিত্র উঠে এসেছে। Jagonews24
এরই মধ্যে রাজধানীর খুচরা বাজারে কিছু ফলের দাম কমিশনের তুলনামূলক দামের চেয়েও বেশি উঠেছে। ফলে একদিকে আমদানির ওপর উচ্চ কর-শুল্ক, অন্যদিকে সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহন ব্যয়, শুল্কায়ন মূল্য এবং পাইকারি-খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামের কারণে ফল এখন অনেক পরিবারের নিয়মিত খাদ্যতালিকার বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
আপেল, আঙুর ও খেজুরে বড় মূল্য ব্যবধান
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তুলনামূলক হিসাবে প্রতি কেজি আপেলের দাম বাংলাদেশে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। একই আপেল ভারতে ১৫০ থেকে ২২০ টাকা এবং নেপালে ১৬০ থেকে ২৪০ টাকা। পাকিস্তানেও দাম বাংলাদেশের তুলনায় কম—প্রায় ১১০ থেকে ১৭০ টাকা। Amader Shomoy
আঙুরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রতি কেজি দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ভারতে এটি ১৩০ থেকে ২০০ টাকা, আর নেপালে ১৫০ থেকে ২৩০ টাকা। অর্থাৎ আঙুরের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সর্বনিম্ন দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি বা তার ওপরে। Bonik Barta
সাধারণ খেজুরের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। বাংলাদেশে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, ভারতে ১৬০ থেকে ২৬০ টাকা এবং নেপালে ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা। ফলে সাধারণ খেজুরের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভোক্তাকে তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। Bonik Barta
তুলনামূলক বাজারদর
| ফল | বাংলাদেশ | ভারত | নেপাল |
|---|---|---|---|
| আপেল | ২৮০–৩৮০ টাকা | ১৫০–২২০ টাকা | ১৬০–২৪০ টাকা |
| আঙুর | ৩০০–৪৫০ টাকা | ১৩০–২০০ টাকা | ১৫০–২৩০ টাকা |
| সাধারণ খেজুর | ২৫০–৪৫০ টাকা | ১৬০–২৬০ টাকা | ১৮০–২৮০ টাকা |
প্রতি কেজির তুলনামূলক দাম; ফলের জাত, মান, আমদানির উৎস ও বিক্রয় পর্যায়ভেদে প্রকৃত দাম পরিবর্তিত হতে পারে। Bonik Barta
মাল্টার দামেও বড় পার্থক্য
শুধু আপেল, আঙুর কিংবা খেজুর নয়—মাল্টার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের বাজারে বড় মূল্য ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। কমিশনের তুলনায় বাংলাদেশে মাল্টার দাম ২৪০–৩২০ টাকা প্রতি কেজি, যেখানে সাম্প্রতিক রাজধানীর খুচরা বাজারে দাম আরও বেড়ে ৪৫০–৫৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। Amader Shomoy
জাগো নিউজের ৪ অক্টোবরের বাজারচিত্র অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে মাল্টা ৫২০–৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে ভারতে মাল্টার দাম ১০০–১৬০ টাকা, পাকিস্তানে ৮০–১৩০ টাকা, নেপালে ১৩০–১৮০ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় ৩০০–৪০০ টাকা। Jagonews24
অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় বাংলাদেশে মাল্টার খুচরা মূল্য ব্যবধান অত্যন্ত বড়।
কেন বাংলাদেশে ফল এত দামি?
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ফলের উচ্চমূল্যের পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- উচ্চ কর ও শুল্ক;
- শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে সমস্যা;
- সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা;
- আমদানিকারকের সংখ্যা সীমিত থাকা;
- হিমাগার ও সংরক্ষণ সুবিধার ঘাটতি;
- পরিবহন ও বন্দরের ব্যয়;
- পচনশীল পণ্য হওয়ায় আমদানিকারকের ঝুঁকি;
- পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের বড় ব্যবধান। দেশ রূপান্তর
বিশেষ করে আমদানির ওপর আরোপিত কর-শুল্ককে বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ফল আমদানিতে ১২১.৭৮ শতাংশ পর্যন্ত কর-শুল্ক
ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ফল আমদানিতে বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক মিলিয়ে মোট করভার ৯৬.১০ শতাংশ থেকে ১২১.৭৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কাস্টমস ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক এবং অগ্রিম কর। Bonik Barta
আপেলের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট। বাংলাদেশ কাস্টমসের সরকারি ডিউটি ক্যালকুলেটরে তাজা আপেলের একটি HS কোডের Total Tax Incidence (TTI) ১২১.৭৮ শতাংশ দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের ওপর কর ও শুল্কের সম্মিলিত প্রভাব অত্যন্ত বেশি। Bangladesh Customs
বাংলাদেশের কর কাঠামো অনুযায়ী আমদানির পর্যায়ে কাস্টমস ডিউটির পাশাপাশি পণ্যের ধরন অনুসারে সম্পূরক শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি, ভ্যাট, অগ্রিম কর ও অগ্রিম আয়কর যুক্ত হতে পারে। National Board of Revenue
৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ চাহিদাই আমদানিনির্ভর
সমস্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বাংলাদেশে আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর ও খেজুরের বাজার প্রায় পুরোপুরিই আমদানিনির্ভর। ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপনা অনুযায়ী, এসব ফলের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৫–৯৯ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। Bonik Barta
ফলে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর কিংবা বন্দরের কার্যক্রমে সামান্য পরিবর্তন হলেও দেশের বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।
কমিশনের হিসাবে দেশে বছরে আমদানিকৃত তাজা ফলের চাহিদা প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টন। এর মধ্যে আপেল ও মাল্টার চাহিদাই প্রায় ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন, যার প্রায় ৬০ শতাংশ রমজান মাসে ব্যবহৃত হয়। Bonik Barta
বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আরও বাড়ছে দাম
উচ্চ শুল্কের পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার প্রয়োজন বলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দেশ রূপান্তর
সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন আমদানিকারকেরা। পচনশীল পণ্য হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ফল আটকে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিও রয়েছে। দেশ রূপান্তর
পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধানও প্রশ্নের মুখে
শুধু আমদানি পর্যায়ের খরচ নয়, বাজারের বিভিন্ন স্তরে দামের ব্যবধানও ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বাজার পর্যবেক্ষণে পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার কথা উঠে এসেছে। সেখানে আপেল প্রায় ৩৮০ টাকা, কালো আঙুর ৬৫০ টাকা, লাল আঙুর ৫০০ টাকা এবং মাল্টা ৩৩০–৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। Prothom Alo
ঢাকার রামপুরা বাজারের সাম্প্রতিক চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সেখানে মাল্টা ৪৫০ টাকা, বেদানা ৫২০ টাকা, আপেল ৩৮০ টাকা, সবুজ আঙুর ৪৪০ টাকা এবং লাল আঙুর ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য এসেছে। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন: মাল্টা ৫২০ টাকা কেন?
ফলের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে সরকারও এখন সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে। ৪ অক্টোবরের সাম্প্রতিক আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মাল্টার দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার পরও কীভাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় পৌঁছায়—ব্যবসায়ীদের কাছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে। দেশ রূপান্তর
একই সঙ্গে মাল্টা, খেজুরসহ আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়াতে আমদানিকারকদের দ্রুত এলসি খোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খেজুরের শুল্ক কমানোর উদ্যোগ
খেজুরের দাম নিয়ন্ত্রণেও নতুন উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খেজুর আমদানির শুল্ক কমানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সুপারিশ করবে বলে সভায় জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা সমাধানে ট্যারিফ কমিশন আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। দেশ রূপান্তর
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সরকার রমজান সামনে রেখে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছিল এবং সিদ্ধান্তটি ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা জানিয়েছিল। National Board of Revenue
অর্থাৎ খেজুরের ক্ষেত্রে সরকার আগেও শুল্ক কমানোর মাধ্যমে বাজারদর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, শুধু একটি কর কমালেই দীর্ঘমেয়াদে পুরো বাজার স্থিতিশীল করা কঠিন।
ট্যারিফ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে।
১. তাজা ফলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা পুনর্বিবেচনা:
কমিশন তাজা ফল ও খেজুরকে জরুরি পণ্যের পর্যায়ে বিবেচনার এবং শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার সুপারিশ করেছে। দেশ রূপান্তর
২. নিয়ন্ত্রণমূলক ও সম্পূরক শুল্ক কমানো:
উচ্চ করভার কমিয়ে আমদানির খরচ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
৩. আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় শুল্কায়ন:
বাস্তব আন্তর্জাতিক বুকিং মূল্য বিবেচনায় এনে শুল্কায়ন করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে। দেশ রূপান্তর
৪. পচনশীল ফল দ্রুত খালাস:
তাজা ফলের ক্ষেত্রে ‘গ্রিন চ্যানেল’ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত খালাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
৫. হিমাগার ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো:
ফল পচনশীল হওয়ায় পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে আমদানিকারকের ঝুঁকি বাড়ে এবং সেই ঝুঁকির খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়ে।
৬. ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমদানিকারকদের এলসি সুবিধা সহজ করা:
বাজারে আমদানিকারকের সংখ্যা ও সরবরাহ বাড়লে এককভাবে কয়েকজন ব্যবসায়ীর ওপর বাজারের নির্ভরতা কমতে পারে। দেশ রূপান্তর
দাম কমাতে শুধু বাজার অভিযান যথেষ্ট নয়
ফলের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—শুধু খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে স্থায়ীভাবে দাম কমানো সম্ভব নয়।
কারণ একজন আমদানিকারক যদি আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে ফল কেনেন, তার সঙ্গে যদি উচ্চ শুল্ক-কর, বন্দরের ব্যয়, পরিবহন, সংরক্ষণ ও পচনজনিত ক্ষতি যুক্ত হয়, তাহলে খুচরা পর্যায়ে দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। আবার আমদানি পর্যায়ের খরচ স্বাভাবিক থাকার পরও যদি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে অস্বাভাবিক মুনাফা যোগ হয়, সেটিও ভোক্তার জন্য একই ফল তৈরি করবে।
তাই আমদানি মূল্য → শুল্কায়ন মূল্য → কর-শুল্ক → বন্দরের ব্যয় → পরিবহন → পাইকারি মূল্য → খুচরা মূল্য—পুরো শৃঙ্খলকে একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
ভোক্তার জন্য এর অর্থ কী?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। বিশেষ করে আপেল, মাল্টা, আঙুর, বেদানা বা খেজুরের মতো ফল অনেক পরিবারে রোগীর পথ্য, শিশুদের খাবার কিংবা নিয়মিত পুষ্টির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু যখন একটি পরিবারকে এক কেজি আপেলের জন্য ৩৫০–৪৫০ টাকা এবং এক কেজি আঙুরের জন্য ৪০০–৬০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়, তখন ফল কেনা তাদের মাসিক খাদ্য বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করে। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে ফলের দামকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। Jagonews24
সামনে কী হতে পারে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—শুল্ক কমানো, সরবরাহ বাড়ানো এবং বাজারে দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
সরকার যদি দ্রুত ফল আমদানির শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে, শুল্কায়ন মূল্যকে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে, পচনশীল ফল দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করে এবং আমদানিকারকদের এলসি সুবিধা সহজ করে, তাহলে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের অস্বাভাবিক মূল্য ব্যবধানের ওপর নজরদারি বাড়ানো গেলে অযৌক্তিক মুনাফার সুযোগও কমতে পারে।
শেষ কথা
বাংলাদেশে ফলের দাম শুধু ‘ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করছেন’—এমন সরল ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে অতি উচ্চ কর-শুল্ক, শুল্কায়ন পদ্ধতি, আমদানিনির্ভরতা, সরবরাহ ঘাটতি, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, সংরক্ষণ সংকট এবং খুচরা বাজারের মূল্য ব্যবধান—সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাব। দেশ রূপান্তর
তবে বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ফলের দাম বেশি হওয়া এখন শুধু ভোক্তার অভিযোগ নয়; এটি নীতিনির্ধারকদের আলোচনার বিষয়েও পরিণত হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণ এবং সরবরাহ বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে ফলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। আর তা না হলে আমদানিনির্ভর ফলের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের সুযোগ আরও সংকুচিত করবে। Bonik Barta
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন


