২০তম গ্রেডে ৮,২৫০ থেকে ২০ হাজার: পে-স্কেলে নিম্নগ্রেডের বেতন বাড়ল সবচেয়ে বেশি, প্রশ্ন বাসাভাড়া ও শিক্ষকদের বৈষম্য নিয়ে
নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জায়গা তৈরি হয়েছে ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে। বিশেষ করে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করায় অনেকে বলছেন, নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি। তবে প্রচলিত আলোচনায় ১৪৮ শতাংশ বলা হলেও সরকারি অনুমোদিত হিসাবে এটি প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি।
অন্যদিকে ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা থেকে ৩২ হাজার টাকা এবং ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা হওয়ায় নতুন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের ব্যবধানের চিত্রও বদলে যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের বেতন দ্রুত বাড়ানো হলেও সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধার কাঠামো কি একইভাবে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে?
২০তম গ্রেডে আসলে কত শতাংশ বেতন বাড়ল?
পুরোনো জাতীয় বেতন স্কেলে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ছিল ৮,২৫০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তা করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
হিসাব করলে—
বৃদ্ধি = ২০,০০০ − ৮,২৫০ = ১১,৭৫০ টাকা
অর্থাৎ বৃদ্ধির হার—
১১,৭৫০ ÷ ৮,২৫০ × ১০০ ≈ ১৪২.৪ শতাংশ।
অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে বেতন প্রায় ২.৪২ গুণ হয়েছে। তাই এটিকে ১৪৮ শতাংশ বলা ঠিক নয়; অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী বৃদ্ধি প্রায় ১৪২ শতাংশ।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কেবল ২০তম গ্রেডের ঘটনা নয়। নতুন কাঠামোতে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের ওপরে, আর ১ থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তাহলে কি ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেলেন?
শতকরা বৃদ্ধির হিসাবে—হ্যাঁ, নিম্নতম গ্রেড সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে।
এক নজরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রেড:
| গ্রেড | পুরোনো মূল বেতন | নতুন মূল বেতন | আনুমানিক বৃদ্ধি |
|---|---|---|---|
| ২০ | ৮,২৫০ | ২০,০০০ | ১৪২% |
| ১৯ | ৮,৫০০ | ২০,৫০০ | ১৪১% |
| ১৮ | ৮,৮০০ | ২১,০০০ | ১৩৯% |
| ১৭ | ৯,০০০ | ২১,৪০০ | ১৩৮% |
| ১৬ | ৯,৩০০ | ২১,৯০০ | ১৩৫% |
| ১৫ | ৯,৭০০ | ২২,৮০০ | ১৩৫% |
| ১৪ | ১০,২০০ | ২৩,৫০০ | ১৩০% |
| ১৩ | ১১,০০০ | ২৪,০০০ | ১১৮% |
| ১০ | ১৬,০০০ | ৩২,০০০ | ১০০% |
| ৯ | ২২,০০০ | ৪৫,১০০ | ১০৫% |
এই পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে, নতুন কাঠামোর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে বেতন বৈষম্য কিছুটা কমানো। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত আগের তুলনায় কমিয়ে আনা হয়েছে।
১০ম গ্রেডের ১৬ হাজার টাকা থেকে ৩২ হাজার—এটিও কিন্তু ১০০% বৃদ্ধি
এখানেই আলোচনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি বর্তমানে ১০ম গ্রেডে। নতুন কাঠামোয় এই গ্রেডের মূল বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা হচ্ছে। অর্থাৎ ঠিক ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি।
অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে। তাঁদের মূল বেতন ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা হচ্ছে—অর্থাৎ প্রায় ১১৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
সুতরাং শুধু এই সংখ্যাগুলো দেখিয়ে বলা যে ‘পিওন শিক্ষকের চেয়ে বেশি বেতন পাবেন’—তা সরাসরি সঠিক নয়। কারণ পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, চাকরির মেয়াদ ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট আয় নির্ধারিত হবে।
তবে নিম্নগ্রেডের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় গ্রেডগুলোর মধ্যকার পুরোনো ব্যবধান অবশ্যই কমছে—এটি নতুন কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
বিতর্কের মূল জায়গা আসলে বাসাভাড়া
বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা নিয়ে।
পে কমিশনের সুপারিশ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার কথা উঠে এসেছিল। কমিশনের যুক্তি ছিল—নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন কম হওয়ায় অন্যান্য ভাতার মাধ্যমে তাঁদের আর্থিক অবস্থার কিছুটা ভারসাম্য আনা প্রয়োজন।
তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬–২০ গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ১৩তম গ্রেডে ৩৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়ার যে দাবি ছড়াচ্ছে, সেটিকে চূড়ান্ত সরকারি হার হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে অর্থ বিভাগের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন দেখা জরুরি। কারণ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সংবাদে বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের কথা বলা হলেও বিস্তারিত হার প্রজ্ঞাপনে নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ ৪৫% বনাম ৩৫%—এই নির্দিষ্ট হার এখনই চূড়ান্ত সরকারি বিধান হিসেবে লেখা নিরাপদ নয়, যদি না সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে তা নিশ্চিত করা হয়।
তাহলে একজন ‘পিওন’ কি প্রাথমিক শিক্ষকের চেয়ে বেশি বেতন পাবেন?
এখানেও বিষয়টি একটু গভীরভাবে দেখতে হবে।
ধরা যাক, একজন ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নতুন কাঠামোর শুরুতে ২০ হাজার টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন। আর ১৩তম গ্রেডের একজন নতুন সরকারি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা।
অর্থাৎ মূল বেতনে শিক্ষক এখনও ৪ হাজার টাকা এগিয়ে।
এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘পিওনের বেতন শিক্ষকের চেয়ে বেশি’—এই বক্তব্যটি তাই সরলীকরণ।
তবে যদি ভবিষ্যৎ ভাতা কাঠামোয় কোনো নিম্নগ্রেডের কর্মচারীকে তুলনামূলক বেশি বাড়িভাড়া বা অন্যান্য ভাতা দেওয়া হয়, তখন মোট মাসিক প্রাপ্তিতে ব্যবধান অনেক কমে যেতে পারে। আর সেখানেই মূল বিতর্ক।
এমপিও শিক্ষকদের প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাঁরাও জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় থাকছেন এবং স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন পাবেন।
কিন্তু তাঁদের বাড়িভাড়ার সুবিধা সরকারি কর্মচারীদের মতো নয়। গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
এখানেই বৈষম্যের প্রশ্নটি সামনে আসে।
একদিকে সরকারি চাকরির নিম্নগ্রেডে মূল বেতন ব্যাপকভাবে বাড়ছে এবং নিম্নগ্রেডের ভাতাকে তুলনামূলকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার নীতি দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন পেলেও বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুবিধায় সরকারি কর্মচারীদের সমান সুবিধা পান না।
ফলে একজন শিক্ষক যৌক্তিকভাবেই প্রশ্ন করতে পারেন—
একই জাতীয় বেতন স্কেলে মূল বেতন নির্ধারিত হলে ভাতার ক্ষেত্রে এত বড় পার্থক্য কেন থাকবে?
উৎসব ভাতার বিষয়টিও একই সঙ্গে আলোচনায়
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতাও দীর্ঘদিনের বিতর্কের বিষয়। ২০২৬ সালে তাঁদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ যুক্ত করে সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা এসেছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেতন কাঠামো এবং উৎসব ভাতা একই বিষয় নয়। জাতীয় পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়লেই সব ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি কর্মচারীদের সমান হয়ে যায় না।
এ কারণেই শিক্ষক সংগঠনগুলোর বড় দাবি হচ্ছে—শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাতেও বৈষম্য কমাতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা শতভাগ উৎসব ভাতা ও সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়ার দাবিও তুলেছেন।
কেন নিম্নগ্রেডে এত বেশি বেতন বাড়ানো হলো?
এখানে সচিব বা কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ‘পিওনদের বেতন বাড়িয়ে দিয়েছেন’—এভাবে বিষয়টি দেখা ঠিক হবে না।
বাস্তবে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি সুপারিশ করেছে এবং পরে মন্ত্রিসভা তা অনুমোদন করেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনা করা হয়েছে।
এর অন্যতম যুক্তি ছিল—যাঁদের বর্তমান বেতন সবচেয়ে কম, তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৮,২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করা সেই যুক্তিরই প্রতিফলন।
অর্থাৎ এটি শুধু ‘পিওনদের জন্য বিশেষ সুবিধা’ নয়; বরং পুরো বেতন কাঠামোর নিচের অংশকে তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর একটি নীতি।
তবে প্রশ্নটা থেকেই যায়—শিক্ষকদের মূল্যায়ন কোথায়?
এই প্রশ্নটি অযৌক্তিক নয়।
একজন সরকারি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সাধারণত ১৩তম গ্রেডে চাকরি শুরু করেন। নতুন কাঠামোয় তাঁর মূল বেতন ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা হবে। পূর্ণাঙ্গ কাঠামো কার্যকর হলে একজন নতুন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।
অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষকদেরও উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে।
কিন্তু একই সঙ্গে বাস্তবতা হলো—শিক্ষকের দায়িত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শ্রেণিকক্ষের কাজ এবং সামাজিক গুরুত্বের সঙ্গে আর্থিক সুবিধার সামঞ্জস্য আছে কি না, সেটি আলাদা করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যখন একই জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে যুক্ত, তখন তাঁদের বাড়িভাড়া ও উৎসব ভাতায় বড় পার্থক্য থাকলে অসন্তোষ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—বেতন একবারে ২০ হাজার হবে না
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এমনভাবে লিখছেন যেন ২০তম গ্রেডের কর্মচারী ১ জুলাই থেকেই পুরো ২০ হাজার টাকা হাতে পাবেন।
বাস্তবতা হলো, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মূল বেতনের একটি অংশ প্রথম ধাপে, পরবর্তী অংশ পরবর্তী ধাপে এবং বিভিন্ন ভাতা পরবর্তী সময়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফলে ‘২০ হাজার টাকা বেতন’ হলো পূর্ণাঙ্গ নতুন মূল বেতন, তাৎক্ষণিকভাবে পুরো অতিরিক্ত টাকা হাতে পাওয়ার অর্থ নয়।
সরকারের ওপর আর্থিক চাপও কম নয়
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
তাই সব শ্রেণির কর্মচারী, শিক্ষক ও অন্যান্য সরকারি অর্থপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য একই সঙ্গে শতভাগ ভাতা বৃদ্ধি করা অর্থনৈতিকভাবে সহজ নয়।
কিন্তু এখানেই সরকারের নীতিগত প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ—
যদি অর্থের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বড় বেতন বৃদ্ধি সম্ভব হয়, তাহলে শিক্ষা খাতের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও একটি সুস্পষ্ট, সময়বদ্ধ ও বৈষম্যহীন ভাতা কাঠামো কেন থাকবে না?
শেষ কথা: বিতর্কটি ‘পিওন বনাম শিক্ষক’ হওয়া উচিত নয়
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিতর্ককে পিওন বনাম শিক্ষক হিসেবে দেখলে আসল সমস্যাটি আড়ালে পড়ে যাবে।
একজন ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর ৮,২৫০ টাকায় পরিবার চালানো কঠিন—এটি বাস্তবতা। তাঁর বেতন ২০ হাজার টাকা হওয়ায় আপত্তি থাকার কথা নয়।
একইভাবে একজন প্রাথমিক শিক্ষক বা এমপিওভুক্ত শিক্ষকও মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, সন্তানদের শিক্ষা ও পরিবারের ব্যয়ের চাপে রয়েছেন।
তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত—
কোনো একটি শ্রেণিকে কমিয়ে অন্য শ্রেণিকে বেশি দেওয়া নয়; বরং দায়িত্ব, যোগ্যতা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় একটি যুক্তিসংগত ও বৈষম্যহীন বেতন-ভাতা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে কি না।
নবম পে-স্কেলের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—নিচের গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির হার উপরের গ্রেডের তুলনায় বেশি। ২০তম গ্রেডে প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কিন্তু এটিকে ‘সচিবরা পিওনদের ১৪৮ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছেন’—এভাবে দেখলে পুরো নীতিগত চিত্রটি ধরা পড়ে না।
আসল পরীক্ষা হবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতার হার কী দাঁড়ায় এবং সরকারি প্রাথমিক ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে সেই কাঠামোর বাস্তব ব্যবধান কত থাকে।
সেখানেই বোঝা যাবে—নতুন পে-স্কেল সত্যিই বেতন বৈষম্য কমিয়েছে, নাকি শুধু বেতন কাঠামোর ভেতরে নতুন ধরনের বৈষম্যের জন্ম দিয়েছে।


