টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ধাপে ধাপে কর কমাবে সরকার, ৫-৬ হাজার টাকায় স্মার্টফোন কেনার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণে কর কাঠামো আরও বিনিয়োগবান্ধব করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রতি দুই বছর অন্তর ধাপে ধাপে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন–এর নেটওয়ার্কে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যবহারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
কর কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাত থেকে সরকারের কর আদায়ের হার তুলনামূলক বেশি। ফলে খাতটিতে বিনিয়োগের গতি আরও বাড়াতে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে কর কমিয়ে টেলিকম খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে নিয়ে আসা।
বিশ্লেষকদের মতে, করের বোঝা কমলে মোবাইল অপারেটররা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে। এর ফলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী হবে এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারিত হবে।
বাজেটে সিম করসহ বিভিন্ন খাতে সুবিধা
উপদেষ্টা জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সিম করসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মোবাইল ও ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আধুনিক ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া। কর ও নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর ফলে টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা চালু করতে উৎসাহিত হবে।
৫-৬ হাজার টাকায় স্মার্টফোন কেনার সুযোগ
সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে বাজেটে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে বলেও জানান রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, যাতে সাধারণ নাগরিকরা ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে একটি স্মার্টফোন কিনতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতিগত ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম দামে স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেলে ডিজিটাল শিক্ষা, অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার ব্যবহার আরও বাড়বে। এতে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পরিধিও বিস্তৃত হবে।
ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে জোর
সরকার দেশের ইলেকট্রনিক শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। উপদেষ্টা বলেন, শুধু মোবাইল ফোন সংযোজন নয়, বরং ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও সরকার কাজ করছে।
মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের সাফল্যের মতো বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০৩০ সালের লক্ষ্য
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ইলেকট্রনিক পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জনে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন হবে।
টেলিযোগাযোগ খাতে কর হ্রাস, সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং ইলেকট্রনিক শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মতো উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।



