এইমাত্র পাওয়া

প্রান্তিক কৃষক, নিম্নআয়ের পেশাজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক, নিম্নআয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পরিচালিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণ আরও সহজ ও কার্যকর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এফআই সার্কুলার লেটার নং-০১ অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার বিশেষ হিসাবধারী কৃষক, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক, নিম্নআয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষক স্মার্ট কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রবর্তিত ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা-২০২৫’ অনুসারে কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ১০ টাকার হিসাবের ভিত্তিতে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, এই স্কিমের আওতায় ইতোমধ্যে কার্যক্রম পরিচালনাকারী অন্য কোনো প্রান্তিক বা ভূমিহীন কৃষক যেন কোনোভাবেই ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

শিলাবৃষ্টি ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত শিলাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ফসলহানির বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহসহ হাওরাঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনরায় কৃষি উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারের লক্ষ্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০/৫০/১০০ টাকার হিসাবভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (Financial Inclusion) কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে এ ধরনের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে একদিকে যেমন কৃষকদের স্বল্পসুদে ঋণপ্রাপ্তি সহজ হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের পেশাজীবীরাও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের সুযোগ আরও বেশি পাবেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধিও সম্প্রসারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগের নির্দেশনা বহাল

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন এ নির্দেশনার বাইরে পূর্বে জারি করা সংশ্লিষ্ট সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের অন্যান্য শর্ত ও নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র ঋণ ও পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *