কৃষকদের ভাগ্য বদলে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান: স্বল্প সুদে ঋণ ও কৃষি বীমা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
দেশের কৃষি খাতকে আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং উৎপাদন ঝুঁকি কমাতে সরকার অতি দ্রুত স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ এবং দেশব্যাপী কৃষি বীমা কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে।
ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি ও সহজ অর্থায়ন
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কৃষিবান্ধব নীতিতে জোর দিচ্ছে বর্তমান মন্ত্রিসভা। সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে, যা প্রায় ১২ লাখ কৃষককে সরাসরি উপকৃত করেছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এখন থেকে কৃষকরা যাতে মহাজন বা চড়া সুদের ঋণের ওপর নির্ভর না করেন, সেজন্য নামমাত্র সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই ঋণের মূল লক্ষ্য হবে প্রান্তিক চাষি, মৎস্যজীবী এবং পশুপালনকারীদের আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত বীজ ক্রয়ে সহায়তা করা।
ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘কৃষি বীমা’
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হন বাংলাদেশের কৃষকরা। এই অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে কৃষি বীমা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে বন্যা, খরা বা পোকামাকড়ের আক্রমণে ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা বীমার মাধ্যমে সরাসরি ক্ষতিপূরণ পাবেন। এই উদ্যোগটি কৃষি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এবং তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে আগ্রহী করতে একটি সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘ফার্মার কার্ড’ ও ডিজিটাল কৃষি সেবা
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি টাঙ্গাইলে ‘ফার্মার কার্ড’ (Farmer Card) বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকার ১০ ধরনের সরাসরি সেবা প্রদান করবে, যার মধ্যে রয়েছে:
সরাসরি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান।
সেচ কাজে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়।
ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ।
সরকারি বিপণন ব্যবস্থার সাথে সরাসরি সংযোগ।
প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার: ‘স্বনির্ভর কৃষক, উন্নত দেশ’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।” সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে এই ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা। এছাড়াও উত্তরবঙ্গসহ কৃষিনির্ভর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একইসাথে নদী ও খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার কাজও শুরু হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সরকারি তথ্য বাতায়ন (২০২৬)।


