সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে স্বস্তি: ডিজিটাল সেবায় রূপান্তর হচ্ছে ‘স্টাফবাস সার্ভিস’
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত পরিবহন খাতের সংকট কাটাতে ১৯৭৪ সালে মাত্র একটি বাস দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ‘স্টাফবাস সার্ভিস’। দীর্ঘ ৫২ বছরের পথচলায় এই সেবাটি এখন প্রজাতন্ত্রের ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারী এবং ১০ গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের যাতায়াতের এক নির্ভরযোগ্য ভরসায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই সেবাটিকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘ই-টিকেটিং সফটওয়্যার’।
ডিজিটাল হচ্ছে টিকেট ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের কাজের গতিশীলতা ও নাগরিক সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে এখন থেকে আর কোনো কাগজের টিকেট ইস্যু করা হচ্ছে না। গত ৩ মে, ২০২৩ তারিখ থেকে eservice.bkkb.gov.bd/eticketing পোর্টালের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে টিকেট সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এর ফলে আবেদনকারীগণ ঘরে বসেই নতুন টিকেটের আবেদন, রুট পরিবর্তন, টিকেট বাতিল কিংবা ‘না-দাবী’ সনদের জন্য আবেদন করতে পারছেন। আবেদনের পর কিউআর কোড (QR Code) সম্বলিত সফটকপি টিকেট জেনারেট হচ্ছে, যা যাতায়াতের সময় প্রদর্শিত হয়।
সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া ও ফি
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় এই কর্মসূচি চালু রয়েছে।
আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে আবেদন দাখিলের পর এসএমএস-এর মাধ্যমে ডায়েরি নম্বর ও আবেদনের অবস্থা জানানো হয়। অনুমোদন পেলে ব্যবহারকারী তার ড্যাশবোর্ড থেকে ‘নগদ’ অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করতে পারেন।
ভাড়ার হার: বড় বাসে প্রতি কিলোমিটার ০.৬২৫ টাকা এবং মিনিবাসে প্রতি কিলোমিটার ১.২৫ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভাড়া পরিশোধ: প্রতি মাসের ভাড়া ২৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। নির্ধারিত সময় পার হলে প্রতি মাসের জন্য ১০ টাকা হারে জরিমানা গুনতে হয়। একজন কর্মচারী সর্বনিম্ন ১ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১ বছরের ভাড়া অগ্রিম জমা দিতে পারেন।
নীতিমালা ও শর্তাবলি
স্টাফবাসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হয়:
শুধুমাত্র সরকারি এবং বোর্ডের তালিকাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারীগণ এই সেবা পাবেন।
টিকেটধারী ছাড়া অন্য কোনো আত্মীয় বা বহিরাগত ব্যক্তি বাসে যাতায়াত করতে পারবেন না।
বাসে নির্দিষ্ট কোনো আসন বরাদ্দ থাকে না, শুধুমাত্র যাতায়াতের অনুমতি হিসেবে টিকেট দেওয়া হয়।
সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সেবাটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষের তথ্যে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বাসের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় অনেক কর্মচারী এই সুবিধার বাইরে থাকছেন। এছাড়া বাস মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত ওয়ার্কশপ সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবও এই কর্মসূচির একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
একনজরে সেবা তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| আবেদন মাধ্যম | অনলাইন (eservice.bkkb.gov.bd) |
| পেমেন্ট মাধ্যম | নগদ (Nagad) অ্যাপ |
| পরিষেবার এলাকা | ঢাকা মহানগর ও বিভাগীয় শহরসহ রাঙামাটি জেলা |
| প্রয়োজনীয় সময় | ৩০ দিন (প্রক্রিয়াকরণ) |
| সংশ্লিষ্ট আইন | বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড আইন, ২০০৪ |
যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে অফিসে যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্টাফবাস সার্ভিস একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সেবায় আর্থিক স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি দীর্ঘসূত্রতাও হ্রাস পেয়েছে। এ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বোর্ডের ওয়েবসাইট (www.bkkb.gov.bd) থেকে সরাসরি জানা যাবে।


