এইমাত্র পাওয়া

৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্থানীয় সরকার বিভাগের মেগা পরিকল্পনা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের এই বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ তাদের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করতে যাচ্ছে। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের সমন্বয় ও কাউন্সিল শাখা থেকে প্রকাশিত এক পত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

১৮০ দিনে ১ কোটির বেশি চারা রোপণের লক্ষ্য

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৫ বছর (২০২৬-২০৩০) মেয়াদে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগ মোট ৫,৯৫,৩৪,৫৮১টি বনজ, ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করবে। এর মধ্যে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আগামী ১৮০ দিনের (ছয় মাস) জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই স্বল্প সময়ে সারা দেশে মোট ১,০২,৫৯,৭৬০টি (এক কোটি দুই লক্ষ ঊনষাট হাজার সাতশত ষাট) চারা রোপণ করা হবে।

কোন সংস্থার লক্ষ্যমাত্রা কত?

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ইউনিয়ন পরিষদ: দেশের ৪৫৭১টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম ২০০টি করে মোট ৮২,৪২,২০০টি চারা রোপণ করা হবে।

  • উপজেলা পরিষদ: ৪৯৫টি উপজেলার প্রতিটিতে ন্যূনতম ৫০০টি করে মোট ২,৪৭,৫০০টি চারা রোপণ করা হবে।

  • এলজিইডি (LGED): উপজেলা কার্যালয় ও প্রকল্প এলাকা মিলিয়ে মোট ৭,৪২,৫০০টি বৃক্ষ রোপণ করবে।

  • সিটি কর্পোরেশন: ১২টি সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটিতে ন্যূনতম ৫০,০০০টি করে মোট ৬,০০,০০০টি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে।

  • পৌরসভা: ৩৩০টি পৌরসভার প্রতিটিতে ১০০০টি করে মোট ৩,৩০,০০০টি চারা রোপণ করা হবে।

  • ডিপিএইচই (DPHE): উপজেলা পর্যায়ে মোট ১,৯৯,০০০টি চারা রোপণ করবে।

  • জেলা পরিষদ: ৬১টি জেলা পরিষদের মাধ্যমে ৯১,৫০০টি চারা রোপণ করা হবে।

  • ওয়াসা (WASA): ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা ওয়াসা তাদের প্রকল্প এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক চারা রোপণ করবে।

বাস্তবায়ন ও তদারকি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে স্থানীয় সরকার বিভাগ এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উপকূলীয় এলাকা, সমতল, পাহাড়ী এবং শহরাঞ্চল—সব জায়গাতেই জলবায়ু সহনশীল উপযোগী বৃক্ষরোপণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে যে, এই কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকারের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ সফল হলে দেশের বনভূমি বৃদ্ধিসহ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে বাংলাদেশ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *