এইমাত্র পাওয়া

জ্বালানি তেলের উত্তাপ পরিবহন খাতে: বাস-লঞ্চে চড়া মূল্যবৃদ্ধির তোড়জোড়

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে পরিবহন খাত। তেলের দাম বাড়ার ঘোষণা আসার পরপরই বাস ও লঞ্চ ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে মালিক সংগঠনগুলো। আজ বিআরটিএ (BRTA) কার্যালয়ে ভাড়া নির্ধারণ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যাত্রীসাধারণের পকেট কাটার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হতে পারে।

বাস মালিকদের প্রস্তাব: আকাশছোঁয়া বৃদ্ধির দাবি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বড় শহরগুলোর জন্য ৬৪% এবং দূরপাল্লার বাসের জন্য ৩৭% ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

  • মহানগরী: মহানগরীর ভেতরে বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২.৪২ টাকা থেকে বাড়িয়ে বড় অংকের সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

  • দূরপাল্লা: দূরপাল্লার রুটে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২.১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪.০৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন মালিকপক্ষ।

  • যুক্তি: মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম জানান, ২০২২ সালের পর থেকে বাসের চেসিস, বডি নির্মাণ খরচ ও যন্ত্রাংশের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে শুধু তেলের দাম নয়, সামগ্রিক খরচ বিবেচনায় ভাড়া সমন্বয় এখন সময়ের দাবি।

নৌপথেও অস্থিরতা: লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর তোড়জোড়

পিছিয়ে নেই নৌপথের পরিবহন মালিকরাও। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা লঞ্চের ভাড়া ৩৬% থেকে ৪২% পর্যন্ত বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে।

  • মালিকদের দাবি অনুযায়ী, নৌপথে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং তদূর্ধ্ব দূরত্বের জন্য কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা করে ভাড়া বাড়াতে হবে।

  • পাশাপাশি যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া বর্তমানে ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

যাত্রী সাধারণের উৎকণ্ঠা ও প্রতিক্রিয়া

ভাড়া বৃদ্ধির এই অসম প্রতিযোগিতায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন রুটে পরিবহন শ্রমিকরা বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, ভাড়া তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। তারা কিলোমিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও মালিকপক্ষ কয়েক টাকার ব্যবধান চাইছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশ

আজকের বৈঠকে বিআরটিএ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা মালিকদের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করবেন। বৈঠক শেষে বিআরটিএ তাদের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন ভাড়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

ততক্ষণ পর্যন্ত রাজপথে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বাড়তি ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—উন্নয়নের মহাসড়কে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা কতদিন বইতে হবে তাদের?


একনজরে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব:

খাতের নামবর্তমান অবস্থামালিকপক্ষের প্রস্তাবিত বৃদ্ধি
মহানগর বাস ভাড়া২.৪২ টাকা/কি.মি.৬৪% বৃদ্ধি
দূরপাল্লা বাস ভাড়া২.১২ টাকা/কি.মি.৩৭% বৃদ্ধি
লঞ্চ ভাড়া৩৬% – ৪২% বৃদ্ধি
সর্বনিম্ন ভাড়া (লঞ্চ)২৯ টাকা৩৫ টাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *