নারী ক্ষমতায়নে নতুন দিগন্ত: সেলাই প্রশিক্ষণে মিলছে সরকারি ভাতা ও সহায়তা
দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও সম্ভাবনাময় নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর দেশব্যাপী নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত ‘তিন মাস মেয়াদী সেলাই ও দর্জি বিজ্ঞান’ প্রশিক্ষণ কোর্সটি বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কেবল দক্ষতা বৃদ্ধিই নয়, প্রশিক্ষণ চলাকালীন আর্থিক সহায়তা ও পরবর্তী পুনর্বাসনের সুযোগ থাকায় নারীদের মাঝে এই কোর্সের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
প্রশিক্ষণে আর্থিক সম্মানী ও যাতায়াত ভাতা
বর্তমানে এই কোর্সের অন্যতম আকর্ষণ হলো প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত দৈনিক ভাতা। সরকারি নিয়মানুযায়ী:
দৈনিক ভাতা: একজন প্রশিক্ষণার্থী প্রতিদিন উপস্থিতির ভিত্তিতে ১০০ টাকা হারে যাতায়াত ও টিফিন ভাতা পেয়ে থাকেন।
মোট সম্মানী: তিন মাসের এই কোর্সে সাধারণত ৬০টি কর্মদিবস হিসেব করা হয়। সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ শেষে একজন প্রশিক্ষণার্থী প্রায় ৬,০০০ টাকা সম্মানী হিসেবে পান।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বাজেট ও বিশেষ বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করে এই ভাতার পরিমাণ সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। এই অর্থ সরাসরি প্রশিক্ষণার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হয়, যা তাদের যাতায়াত খরচ মেটানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সহায়তা করছে।
সনদপত্র ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
সফলভাবে কোর্স সমাপ্তির পর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে একটি রাষ্ট্রীয় সনদপত্র প্রদান করা হয়। এই সনদপত্রটি দেশি-বিদেশি গার্মেন্টস সেক্টরে চাকরি পেতে অথবা ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ পেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি
প্রশিক্ষণ শেষে কেবল সনদ প্রদানই শেষ কথা নয়; অতি দরিদ্র ও দক্ষ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে অধিদপ্তর থেকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হয়।
“উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ের বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।” এর মাধ্যমে একজন নারী প্রশিক্ষণ শেষ করেই ঘরে বসে উপার্জনের পথ তৈরি করতে পারেন, যা তাকে পরিবারের অর্থনৈতিক স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলে।
আবেদনের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা
সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যেকোনো নারী এই কোর্সে আবেদন করতে পারেন। জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্দিষ্ট সময়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে মৌখিক বা লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ করে নিতে হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী দক্ষ হয়ে উঠছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।


