দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খালে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা করেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক জেলা সফর।
কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ও ব্যাপ্তি
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন বা পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার।
প্রথম পর্যায়ের লক্ষ্য: আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ১,২০০ কিলোমিটার জলাশয় খনন সম্পন্ন করা।
সারাদেশে একযোগে সূচনা: আজ দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যরা দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন।
সাহাপাড়া খাল: দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় অবস্থিত এই ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে স্থানীয় সেচ ব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদনে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
উদ্বোধন শেষে সাহাপাড়া খাল সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন,
“আমরা খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতি গঠনের কাজ শুরু করেছি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে এবং দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই সাহাপাড়া খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় অযত্নে ভরাট হয়ে যাওয়া এই খালটি পুনরায় খননের মাধ্যমে সরকার কৃষকদের পানির নিশ্চয়তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে বেগবান করতে চায়। তিনি দেশবাসীকে উন্নয়নের এই ধারায় শামিল হওয়ার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণ
খাল খনন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী খালের পাড়ে একটি বৃক্ষচারা রোপণ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু খাল খননই নয়, খালের পাড় সুরক্ষা, বাঁধ নির্মাণ এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ এই প্রকল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবে।
উপস্থিতিবর্গ
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদুদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দিনাজপুরের এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে এক ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।



