জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ । কর্মকর্তাদের গণপরিবহন ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক?
চলমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১১ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার ও গণপরিবহনে গুরুত্ব
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, রাজধানীর যানজট ও জ্বালানি খরচের একটি বড় অংশ আসে ব্যক্তিগত যানবাহন থেকে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করেন ব্যাংকাররা। এই চাপ কমাতে কর্মকর্তাদের অফিসের কাজে এবং ব্যক্তিগত যাতায়াতে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে একাধিক কর্মকর্তা মিলে ‘কার-পুলিং’ বা গাড়ি শেয়ারিং ব্যবস্থা চালুরও আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা
শুধু যাতায়াত নয়, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডেও মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
এসির তাপমাত্রা: ব্যাংক ভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির তাপমাত্রা কোনোভাবেই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না।
আলোর ব্যবহার: দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনে বাতি, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখতে হবে।
আলোকসজ্জা পরিহার: ব্যাংক ভবনের অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এবং ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
জেনারেটর ব্যবহার: বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জেনারেটর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনার লক্ষ্য ও কার্যকারিতা
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে দেশের অর্থনীতিতে যেন কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেজন্যই এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এই কৃচ্ছ্রসাধন ব্যবস্থার ফলে ব্যাংকিং খাতে পরিচালন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।



