শুরু হলো ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানী ভাতা: কার পকেটে কত?
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে গেল বর্তমান সরকার। দেশের মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে সারাদেশের প্রায় ৪,৯০৮টি মসজিদের দায়িত্বশীলরা এই ভাতার আওতায় এসেছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন বলে জানানো হয়েছে।
মাসিক সম্মানীর তালিকা (মসজিদ ভিত্তিক)
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক মোট ১০,০০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বিভাজন নিম্নরূপ:
ইমাম: ৫,০০০ টাকা
মুয়াজ্জিন: ৩,০০০ টাকা
খাদেম: ২,০০০ টাকা
অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভাতা
শুধু মসজিদ নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের জন্যও সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার জন্য মাসিক বরাদ্দ ৮,০০০ টাকা।
পুরোহিত/যাজক/বিহার অধ্যক্ষ: ৫,০০০ টাকা
সেবাইত/সহকারী যাজক/উপাধ্যক্ষ: ৩,০০০ টাকা
উৎসব বোনাস ও বিতরণ পদ্ধতি
সম্মানীর পাশাপাশি বছরে দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবে (যেমন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১,০০০ টাকা করে বোনাস পাবেন। সম্মানীর এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) পদ্ধতির মাধ্যমে পৌঁছে যাবে।
বিশ্লেষকদের অভিমত
সাধারণত এতদিন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা কেবল স্থানীয় অনুদান ও মুসুল্লিদের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। সরকারি এই উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। যদিও বর্তমান বাজারমূল্যে ৫,০০০ টাকা খুব বেশি নয়, তবুও এটিকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি বড় দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে যে সকল মসজিদ ইতোমধ্যে সরকারি বা অন্য কোনো স্থায়ী অনুদানপ্রাপ্ত, তারা আপাতত এই প্রকল্পের বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বার্ষিক ৪,৪০০ কোটি টাকা এই খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।



