শাখা-এটিএম ছাড়াই ব্যাংকিং: বাংলাদেশে ৮ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের পথে
বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে নতুন যুগের সূচনার অপেক্ষা আরও ঘনিয়ে এসেছে। দ্বিতীয় দফায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে আবেদন করা ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বাছাই করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ৮ প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেনি। নির্বাচিত প্রস্তাবগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় উপস্থাপনের পর চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এতে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ প্রচলিত ব্যাংকের মতো নতুন ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর শাখা, উপশাখা কিংবা নিজস্ব এটিএম নেটওয়ার্ক থাকবে না। গ্রাহকের ব্যাংকিং কার্যক্রমের মূল মাধ্যম হবে মোবাইল ফোন, অ্যাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
১২ আবেদন থেকে ৮ প্রতিষ্ঠানের বাছাই
২০২৫ সালের দ্বিতীয় দফার আবেদনে দেশি-বিদেশি মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী আবেদনকারীদের মধ্যে ছিল—ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মার্স, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।
তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দ্বিতীয় দফার আবেদনকারীদের তালিকায় নামের উপস্থাপনায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত লাইসেন্সের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক তালিকাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১২টি আবেদন থেকে ৮টি প্রস্তাব চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে, কিন্তু কোন ৮টি তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
কোন ১২টি প্রতিষ্ঠান ছিল আলোচনায়?
দ্বিতীয় দফার আলোচিত আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে—
১. বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক — রবি আজিয়াটা
২. নোভা ডিজিটাল ব্যাংক — বাংলালিংক ও স্কয়ার
৩. মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক — আকিজ রিসোর্স
৪. মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক — আশা
৫. আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২
৬. ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক
৭. ব্রিটিশ-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক
৮. ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে
৯. অ্যাপ ব্যাংক
১০. জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক
১১. উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক
১২. বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত আবেদনসংক্রান্ত তথ্যেও বুস্ট-রবি, নোভা, মৈত্রী, মুনাফা, বিকাশসহ এসব উদ্যোগের নাম পাওয়া যায়।
ডিজিটাল ব্যাংক আসলে কীভাবে চলবে?
ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হবে এর branchless banking model। অর্থাৎ গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে হিসাব খোলা, টাকা জমা দেওয়া কিংবা ঋণের আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।
মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করেই গ্রাহক—
- নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন;
- টাকা জমা ও স্থানান্তর করতে পারবেন;
- বিভিন্ন বিল ও পেমেন্ট পরিশোধ করতে পারবেন;
- ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন;
- ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন;
- ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন;
- QR কোডভিত্তিক লেনদেন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় ডিজিটাল ব্যাংককে শাখা, উপশাখা, নিজস্ব ATM/CDM/CRM এবং কাউন্টারভিত্তিক OTC সেবা ছাড়া পরিচালনার কাঠামো দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ ব্যাংকিংয়ের কেন্দ্র হবে গ্রাহকের হাতে থাকা স্মার্টফোন।
নিজস্ব এটিএম না থাকলেও টাকা তোলা যাবে কীভাবে?
ডিজিটাল ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম থাকবে না—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে গ্রাহক নগদ অর্থ তুলতে পারবেন না।
নীতিমালা অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যাংক অন্য প্রচলিত ব্যাংকের ATM ও এজেন্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহককে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারবে। ফলে ডিজিটাল ব্যাংক নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি না করেও বিদ্যমান আর্থিক অবকাঠামো কাজে লাগাতে পারবে।
এতে ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হতে পারে—অবকাঠামোগত খরচ কম রাখা।
কেন ডিজিটাল ব্যাংকের দিকে এত আগ্রহ?
প্রচলিত ব্যাংক পরিচালনায় শাখা, ভবন, নিরাপত্তা, নগদ ব্যবস্থাপনা, এটিএম, জনবলসহ বিপুল অবকাঠামোগত ব্যয় রয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংক এই কাঠামোর বড় অংশ এড়িয়ে সরাসরি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দিতে পারবে।
ফলে তাত্ত্বিকভাবে—
কম অবকাঠামোগত ব্যয় → কম পরিচালন ব্যয় → দ্রুত সেবা → নতুন গ্রাহক আকর্ষণ → আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি
—এই ধারাটি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এ ধরনের ব্যাংকিং মডেল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
গ্রামাঞ্চল ও ব্যাংকিংয়ের বাইরে থাকা মানুষই বড় লক্ষ্য
ডিজিটাল ব্যাংকের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো financial inclusion বা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন ব্যাংক শাখা স্থাপন করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। কিন্তু ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে একই সেবা তুলনামূলকভাবে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
এর ফলে বিশেষভাবে সুবিধা পেতে পারেন—
- গ্রামাঞ্চলের মানুষ;
- তরুণ উদ্যোক্তা;
- ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী;
- ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কর্মী;
- ছোট ও নতুন ব্যবসা শুরু করা উদ্যোক্তা;
- প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী।
অর্থাৎ ডিজিটাল ব্যাংকের প্রতিযোগিতা শুধু প্রচলিত ব্যাংকের সঙ্গে নয়; বরং যারা এখনো ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে, তাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিয়ে আসাও এর বড় লক্ষ্য।
ঋণের ক্ষেত্রেও আসতে পারে বড় পরিবর্তন
ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াও প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারে। গ্রাহককে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকের শাখায় ঘুরে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যাংক বড় ও মাঝারি শিল্পে ঋণ দিতে পারবে না এবং LC খোলার সুযোগও সীমিত; মূলত ছোট ঋণ দেওয়ার কাঠামো রাখা হয়েছে।
এ কারণে ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঋণ বাজার হতে পারে ক্ষুদ্র ব্যবসা, ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং ছোট উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন।
ভার্চুয়াল কার্ড ও QR পেমেন্টে নতুন প্রতিযোগিতা
ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে বাংলাদেশের পেমেন্ট ইকোসিস্টেমেও নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
ভার্চুয়াল কার্ড, QR কোড, অ্যাপভিত্তিক পেমেন্ট এবং ডিজিটাল ঋণ—এসব সেবা এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকগুলো গ্রাহকের দৈনন্দিন আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে পারে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে শাখাভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের তুলনায় অ্যাপভিত্তিক ব্যাংকিং বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।
৩০০ কোটি টাকা ন্যূনতম মূলধন: প্রবেশের বাধাও কম নয়
ডিজিটাল ব্যাংক মানেই কম মূলধনে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যাবে—এমন ধারণাও সঠিক নয়।
বর্তমান নীতিমালায় ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের প্রয়োজনীয়তা ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
অর্থাৎ প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালন কাঠামো থাকলেও লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, উদ্যোক্তার যোগ্যতা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনে আবেদনকারীদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, আর্থিক পূর্বাভাস, ICT পরিকল্পনা, ব্যবসা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা, উদ্যোক্তাদের তথ্য এবং নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন নথি জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
ডিজিটাল ব্যাংকের সাফল্য শুধু অ্যাপ তৈরি বা দ্রুত লেনদেনের ওপর নির্ভর করবে না। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সাইবার নিরাপত্তা, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা।
কারণ প্রচলিত ব্যাংকে গ্রাহক শাখায় গিয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু ডিজিটাল ব্যাংকে অধিকাংশ কার্যক্রমই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
তাই একটি ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য—
সুরক্ষিত পরিচয় যাচাই + শক্তিশালী authentication + fraud detection + data protection + cybersecurity
—এসব ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ডিজিটাল ঋণসংক্রান্ত নির্দেশনাতেও OTP, দুই স্তর বা বহুমাত্রিক authentication, অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেল এবং বাংলাদেশে গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের মতো নিরাপত্তা শর্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
৮টি ডিজিটাল ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্স পেলে দেশের ব্যাংকিং বাজারে কয়েকটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রথমত, ব্যাংকিং সেবায় প্রতিযোগিতা বাড়বে।
দ্বিতীয়ত, প্রচলিত ব্যাংকগুলোকেও আরও দ্রুত ডিজিটাল সেবা উন্নত করতে চাপ তৈরি হবে।
তৃতীয়ত, তরুণ ও প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকদের জন্য নতুন ধরনের ব্যাংকিং পণ্য তৈরি হবে।
চতুর্থত, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল ঋণের নতুন বাজার তৈরি হতে পারে।
পঞ্চমত, গ্রামাঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর নতুন পথ তৈরি হবে।
তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে হলে শুধু লাইসেন্স দেওয়া যথেষ্ট নয়। গ্রাহকের আস্থা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তির স্থিতিশীলতা, কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কোন ৮টি প্রতিষ্ঠান?
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আগ্রহের জায়গা এটিই। দ্বিতীয় দফায় ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে ৮টি আবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু নির্বাচিত ৮টির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়ায় এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না কোন প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে।
অতএব, বুস্ট, নোভা, মুনাফা, মৈত্রী, বিকাশসহ কোনো নির্দিষ্ট আবেদনকারীকে চূড়ান্ত নির্বাচিত ঘোষণা করা এখনই সমীচীন নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এগুলোকে আবেদনকারী বা শর্টলিস্টের সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখা উচিত।
সামনে কী হতে পারে?
বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকের ধারণা নতুন নয়। ২০২৩ সালে ডিজিটাল ব্যাংক নীতিমালা চালুর পর প্রথম দফায় বিপুলসংখ্যক আবেদন আসে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের কারণে প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। দ্বিতীয় দফায় নতুন করে আবেদন আহ্বান এবং ১২টি প্রস্তাব পাওয়ার পর এবার প্রক্রিয়াটি আবার সক্রিয় হয়েছে।
এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডের সিদ্ধান্ত। অনুমোদন মিললে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক কমপ্লায়েন্স এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করে ধীরে ধীরে বাজারে আসতে পারবে।
সার্বিক বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগকে কেবল নতুন কয়েকটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ঘটনা হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব কম করে দেখা হবে। এটি আসলে শাখাভিত্তিক ব্যাংকিং থেকে মোবাইলভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে আরও বড় রূপান্তরের একটি ধাপ।
আগামী দিনের ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকের কাছে ব্যাংকের ভবন নয়, বরং একটি নিরাপদ অ্যাপ, দ্রুত লেনদেন, সহজ ঋণপ্রাপ্তি এবং কম খরচের সেবা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এই রূপান্তরের সাফল্য নির্ভর করবে একটি বিষয়েই—প্রযুক্তির গতি এবং নিয়ন্ত্রক নিরাপত্তার মধ্যে কতটা ভারসাম্য তৈরি করা যায়। ১২টি আবেদন থেকে ৮টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেলেও প্রকৃত প্রতিযোগিতা শুরু হবে তার পর। তখন দেখা যাবে, কে শুধু ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেয়েছে আর কে সত্যিকার অর্থে মানুষের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পেরেছে।


