তিন বাহিনীর প্রধানের শ্রদ্ধা ও লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়: রাষ্ট্রীয় সম্মানে জানাজা সম্পন্ন
লাখো মানুষের উপস্থিতি আর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হলো সদ্য প্রয়াত প্রিয় নেত্রীর জানাজা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে এই জানাজায় অংশ নেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধানসহ সর্বস্তরের জনগণ। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তিন বাহিনীর প্রধান মরহুমার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান জানাজায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে তিন বাহিনীর প্রধানের উপস্থিতি। জানাজায় অংশ নেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁরা মরহুমার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মরহুমার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করেন।
জনসমুদ্রে পরিণত রাজধানী প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে ভোর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। বেলার বাড়ার সাথে সাথে জানাজাস্থল ও এর আশপাশের এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মানুষের ঢল মূল জানাজাস্থল ছাড়িয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অতিক্রম করে খামারবাড়ি, আসাদগেট এবং ফার্মগেট এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। শোকাহত জনতার ভিড়ে রাজধানীর এই বিশাল এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জানাজা ও দাফনপূর্ব আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জানাজাস্থল ও এর আশপাশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর দেড় হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে জানাজা সম্পন্ন হয়।
পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল মেনে দাফনের উদ্দেশ্যে মরহুমার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।



