২০২৬ সালের স্বর্ণ ও রুপার যাকাতের হিসাব: বাজুস নির্ধারিত নতুন বাজার দর
মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ইবাদত যাকাত আদায়ের সুবিধার্থে ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণ ও রুপার বর্তমান বাজার মূল্য এবং যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্বর্ণ ও রুপার ক্যারেট ভেদে বিক্রয় মূল্য এবং প্রতি ভরিতে যাকাতের টাকার পরিমাণ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
স্বর্ণের যাকাতের হিসাব: বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন মানের স্বর্ণের মধ্যে ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২,১৬,৬৬৪ টাকা, যার বিপরীতে যাকাত প্রদান করতে হবে ৫,৪১৭ টাকা। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য ২,০৬,৭৮৯ টাকা এবং এর যাকাত ৫,১৭০ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য ১,৭৭,২৬২ টাকা, যার যাকাত আসে ৪,৪৩২ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য ১,৪৫,০৭২ টাকা এবং এর জন্য যাকাত দিতে হবে ৩,৬২৭ টাকা।
রুপার যাকাতের হিসাব: স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার অলংকারের ওপরও যাকাতের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি মূল্য ৫,২৭৭ টাকা এবং যাকাত ১৩২ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি মূল্য ৫,০৩৫ টাকা এবং যাকাত ১২৬ টাকা। ১৮ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি মূল্য ৪,৩০৯ টাকা এবং যাকাত ১০৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি মূল্য ৩,২৪৪ টাকা হলে এর যাকাত হবে ৮১ টাকা।
যাকাতদাতার করণীয়: ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা) সম্পদ বা সমমূল্যের অর্থ এক বছরকাল স্থায়ী থাকলে তার ওপর ২.৫% বা ৪০ ভাগের এক ভাগ যাকাত ফরজ হয়। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্থা এই তালিকা প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে সঠিক হিসাব বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে যাকাতের পরিমাণও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। তাই সঠিক হিসাবের মাধ্যমে যাকাত আদায় করে দুস্থ ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।


