এইমাত্র পাওয়া

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন: পোস্টাল ব্যালটের জন্য নতুন ‘ফরম-৭ক’ প্রবর্তন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক অতিরিক্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সংশোধনী কার্যকর করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটারদের জন্য আলাদা ফরমের ব্যবস্থা করা।

নতুন ‘ফরম-৭ক’ এবং এর ব্যবহার সংশোধিত বিধিমালার বিধি ১০ অনুযায়ী, প্রচলিত ‘ফরম-৭’-এর পাশাপাশি এখন থেকে ‘ফরম-৭ক’ নামে একটি নতুন পোস্টাল ব্যালট পেপার যুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই বিধি অনুসারে:

  • ফরম-৭: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ২৭(১)(ঘ) অনুযায়ী যারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত, তাদের ক্ষেত্রে নিবন্ধন স্থগিতকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতীক ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রতীক সংবলিত পোস্টাল ব্যালট পেপার ‘ফরম-৭’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

  • ফরম-৭ক: RPO-এর অনুচ্ছেদ ২৭(১)-এর দফা (ক), (খ) ও (গ) এ উল্লিখিত ব্যক্তিদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পেপার ‘ফরম-৭ক’-তে হবে। সাধারণত সরকারি চাকুরিজীবী যারা নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন বা যারা নিজের নির্বাচনি এলাকার বাইরে অবস্থান করেন, তারা এই ফরমের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।

সংশোধনীর উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ ১. বিধি ১১ ও ১২ক সংশোধন: বিধি ১১-এর উপ-বিধি (৬) সংশোধন করে পোস্টাল ব্যালটের জন্য সরাসরি ‘ফরম-৭ক’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিধি ১২ক-তে উল্লিখিত শব্দগুলোতেও প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে ফরমের নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২. নতুন ফরমের সংযুক্তি: নির্বাচনি বিধিমালার তফসিল-১-এ ‘ফরম-৭’-এর পরপরই নতুন এই ‘ফরম-৭ক’ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। ৩. ব্যালটের কাঠামো: নতুন ফরমে নির্বাচনি এলাকার নম্বর ও নাম, প্রার্থীর নাম এবং প্রতীকের পাশে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়ার জন্য নির্ধারিত বক্স বা ঘর থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও প্রস্তুতি ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের পর অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের পর থেকেই পোস্টাল ব্যালটসমূহ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। ভোটাররা ‘Postal Vote BD’ নামক মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। যথাযথ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের প্রতি ৪০০ ব্যালটের জন্য একটি করে আলাদা ব্যালট বাক্স ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনার দিনই এই পোস্টাল ব্যালটগুলো গণনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *