স্পেনে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৯, তিন দিনের শোক
স্পেনের টলেডো প্রদেশে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা; দুর্ঘটনার কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।
স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় টলেডো প্রদেশে দুটি উচ্চগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উর্দা এলাকার কাছে মাদ্রিদ–আন্দালুসিয়া উচ্চগতির রেলপথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত আরও এক যাত্রীর মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নতুন এ সংখ্যা জানানো হয়। ২০১৩ সালের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা।
যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা
স্পেনের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটের দিকে লস ইয়েবেনেস ও উর্দার মাঝামাঝি স্থানে সংঘর্ষটি হয়। রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি এভিই ট্রেন সকাল ৮টায় মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথে সেটি একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। দুই ট্রেনে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন।
সংঘর্ষের তীব্রতায় দুই ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশের বাঁধের নিচে পড়ে যায়। এর মধ্যে দুটি বগি ইরিওর এবং একটি রেনফের।
আহত ও উদ্ধার তৎপরতা
আহত যাত্রীদের কাস্তিয়া-লা মানচা, মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক যাত্রী চিকিৎসা নিয়েছেন; তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে আহতের সমন্বিত জাতীয় হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবারও দুর্ঘটনাস্থলে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলেছে। বিভিন্ন জরুরি সেবা সংস্থার কয়েক শ কর্মী উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন করে আর কোনো মরদেহ পাওয়া যাবে না। তবে উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসাব দিতে চাননি তাঁরা।
কারণ খুঁজতে তদন্ত
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, ইরিওর ট্রেনটি থেমে থাকা অবস্থায় রেনফের ট্রেনটি স্বাভাবিক গতিতে চলার অনুমতি পেয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রেলপথের এলজেডবি নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিঘ্ন, রেল অবকাঠামো সংস্থা আদিফের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের নির্দেশনা এবং একটি ট্রেনকে কেন আবার চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস পরিবহনমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জরুরি সমন্বয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, কী ঘটেছিল তা খুঁজে বের করা হবে এবং রেলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
শোক ও রেল চলাচলে বিঘ্ন
নিহতদের স্মরণে স্পেনে ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর তিন দিনের জাতীয় শোক পালিত হচ্ছে, সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে মাদ্রিদ–আন্দালুসিয়া উচ্চগতির রেলপথে চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীরা বিনা খরচে টিকিট পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবেন বলে জানিয়েছে রেনফে। শোকের অংশ হিসেবে বুধবার নির্ধারিত কোপা দেল রের প্রথম রাউন্ডের ২৪টি ম্যাচও স্থগিত করা হয়।
এর আগে ২০১৩ সালে সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার কাছে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৮০ জন নিহত হয়েছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কর্দোবা প্রদেশের আদামুজে আরেকটি উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। এক বছরের মধ্যে দুটি বড় দুর্ঘটনা দেশটির উচ্চগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য অলিভ প্রেস, ইনস্পেন নিউজ, সিএনবিসি, সমকাল





মন্তব্য (০)