পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৮
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থরপারকারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বদলানোর সময় বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রয়েছেন।
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থরপারকার জেলায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী, অ্যাম্বুলেন্সচালক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কয়েকজন কর্মী রয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নগরপারকার উপজেলার দানো ধান্ধাল এলাকার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সরকারি সহায়তাপুষ্ট প্রতিষ্ঠান পিপলস প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইনিশিয়েটিভ (পিপিএইচআই) পরিচালনা করে। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে গণমাধ্যমগুলোর তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। ডন প্রথমে সাতজন নিহতের খবর দিলেও জিও নিউজ জানায়, হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন আহত ব্যক্তির মৃত্যুতে সংখ্যা আটে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো স্থানীয় গণমাধ্যম মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে উল্লেখ করেছে, তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা
উদ্ধারকর্মী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে রাখা অ্যাম্বুলেন্সে নতুন অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগাচ্ছিলেন কর্মীরা। হাসপাতাল প্রশাসনের দাবি, সিলিন্ডার লাগানোর সময় একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী গাড়ির ভেতরেই ছিলেন। ঠিক তখনই বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই পুরো অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
নগরপারকারের সহকারী কমিশনার এরাম করিম নারেজো গণমাধ্যমকে জানান, বিস্ফোরণের সময় অ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরেই দাঁড়ানো ছিল। নিহতদের অনেকের দেহ এতটাই পুড়ে যায় যে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
আহতদের করাচিতে স্থানান্তর
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুজন ধাত্রী ও একজন নারী সহকারী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। প্রথমে তাঁদের জেলা সদর মিঠির সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের করাচিতে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে বিশেষজ্ঞ দল
ঘটনার পর সিন্ধুর স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার থরপারকারের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রাদেশিক সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণে মিরপুরখাস ও করাচি থেকে বিশেষজ্ঞ দল ডেকে আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, তারা অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখছে।
প্রেক্ষাপট
ভারত সীমান্তঘেঁষা থরপারকার পাকিস্তানের অন্যতম পিছিয়ে পড়া মরু অঞ্চল। এখানকার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মূলত পিপিএইচআই পরিচালিত ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসায় ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডার উচ্চচাপে সংরক্ষিত থাকে, তাই ভালভ বা রেগুলেটর লাগানোর সময় সামান্য ত্রুটি বা কাছাকাছি আগুনের উৎস থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তথ্যসূত্র: ডন, জিও নিউজ, টোয়েন্টিফোর নিউজ, ডেইলি পাকিস্তান




মন্তব্য (০)