সিটি ও স্থানীয় নির্বাচন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে জামায়াত, ঢাকার দুই সিটিতে মুখোমুখি এনসিপিও
জাতীয় নির্বাচনে জোট থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেবে জামায়াতে ইসলামী। ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী দিয়েছে এনসিপিও।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা থাকলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—সব স্তরেই নিজস্ব প্রার্থী দিতে চায় দলটি।
দলের নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রতিটি দল আলাদা প্রার্থী দেবে। এতে জোটের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হবে না বলে তাঁদের দাবি।
ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছে জামায়াত।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে একই জোটে থাকা দুই দল রাজধানীর দুই সিটিতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে যাচ্ছে।
ছয় সিটিকে বিশেষ গুরুত্ব
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। তৃণমূলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ সভা চলছে। অনেক এলাকায় প্রার্থীও চূড়ান্ত হয়েছে। দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত স্থানীয় সরকারের বার্তা নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে দলটি।
মেয়র পদে সমঝোতার সম্ভাবনা কম হলেও স্থানীয় বাস্তবতায় কোথাও কোথাও কাউন্সিলর বা সদস্য পদে সমঝোতা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যা বলছেন জামায়াত নেতারা
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে দলের প্রস্তুতি ভালো এবং জামায়াত এককভাবেই প্রার্থী দেবে। তাঁর মতে, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের হিসাব এক নয়; অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার সময়ও স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করা হয়েছিল।
দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম দেখে নির্বাচন শিগগির হবে বলে মনে হচ্ছে না, তবু স্থানীয় সংগঠনগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে দলীয় এক কর্মসূচিতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সিটি নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকার আহ্বান জানান।





মন্তব্য (০)