ইনানীতে নলকূপের গ্যাসের আগুন জ্বলছে তিন দিন, ২০০ মিটারে ১৪৪ ধারা
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন তিন দিনেও নেভেনি। আগুনের উৎস ঘিরে ২০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন; নমুনা সংগ্রহ করেছে বাপেক্স।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র ইনানীতে গভীর নলকূপ বসানোর সময় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন প্রায় ৭২ ঘণ্টা পরও নেভানো যায়নি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে আগুন জ্বলে ওঠার পর থেকে তা একটানা জ্বলছে। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আগুনের উৎস থেকে ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
যেভাবে আগুনের সূত্রপাত
ঘটনাস্থলটি উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে, ছোট ইনানীর ছোটখাল সেতুর কাছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেখানে একটি নির্মাণাধীন রিসোর্টের জন্য পানির উদ্দেশ্যে নলকূপ খনন করা হচ্ছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ খোঁড়াখুঁড়ির পরও পানি না পাওয়ায় কয়েক দিন আগে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক হাজার ফুট গভীর ওই কূপ দিয়ে উচ্চচাপে গ্যাস বেরিয়ে আসে এবং কাছের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে তাতে আগুন ধরে যায়।
খবর পেয়ে উখিয়া ও কক্সবাজার সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেনাবাহিনীর একটি অগ্নিনির্বাপণ দলও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। বালুর বস্তা দিয়ে কূপের মুখ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাতে সাফল্য আসেনি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট সেখানে কাজ করছিল বলে জানা গেছে। ঝুঁকি কমাতে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য কাছের কিছু বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
১৪৪ ধারায় যা নিষিদ্ধ
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার এ আদেশ দেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে। আদেশ অনুযায়ী, আগুনের উৎসের চারপাশে ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ। ওই এলাকা ও এর আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে এমন যেকোনো কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নমুনা নিয়েছে বাপেক্স
গ্যাসের ধরন ও উৎস নির্ণয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছে। নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে; চূড়ান্ত ফল এখনো জানানো হয়নি। বাপেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস শুধু কূপের মুখেই সীমাবদ্ধ নয়, আশপাশেও ছড়িয়েছে। আগুন নেভাতে কয়েকটি বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
টানা তিন দিন আগুন জ্বলতে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজেও ভোগান্তি বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আগুন নেভানোর পাশাপাশি সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসের মজুত আছে কি না, তা জানতে ভূতাত্ত্বিক জরিপের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশে এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় নলকূপ বসাতে গিয়ে ভূগর্ভস্থ গ্যাস বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অগভীর স্তরে জমে থাকা এ ধরনের গ্যাস অনেক সময় সাময়িক হয়; তবে তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য কি না, সেটি বিস্তারিত পরীক্ষা ছাড়া বলা যায় না।
তথ্যসূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, মানবজমিন, এশিয়ান টিভি, দৈনিক ইনকিলাব





মন্তব্য (০)