ইদ নাকি ঈদ ২০২৫ । বাংলা একাডেমী কেন ঈদ শব্দটি তে ফিরলো?
বাংলা ভাষার শুদ্ধতা ও ঐতিহ্য রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ বাংলা একাডেমি—‘ইদ’ থেকে ‘ঈদ’ বানানে ফেরার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত –ইদ নাকি ঈদ ২০২৫
ইদ না কি ঈদ? বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী— ইদ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব (ইদুল ফিতর বা ইদুল আজহা); খুশি, উৎসব; ঈদ-এর সংগততর ও অপ্রচলিত বানান। ঈদ ইদ-এর প্রচলিত ও অসংগত বানান। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ইদ ও ঈদ উভয় শব্দকে পৃথক ভুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে ইদ বানানকে ঈদ-এর সংগততর ও অপ্রচলিত বানান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমার প্রশ্ন— ঈদ বানান অসংগত হবে কেন? উত্তর পাওয়া গেল বাংলা একাডেমি থেকে— বিদেশি শব্দে ঈ-কার বিধেয় নয়, তাই ঈদ বানান অসংগত। অনেকে প্রশ্ন করেন চীন ও শ্রীলঙ্কা বিদেশি শব্দ। তাদের ঈ-কার পরিয়ে অসংগত না বলে সরাসরি প্রমিত ঘোষণা করা হয়েছে কেন? চীন বিদেশি শব্দ নয়। তৎসম শব্দ। শ্রীলঙ্কাও বিদেশি শব্দ নয়, তৎসম শব্দ। তাই মূল বানান অনুযায়ী ঈ-কার দেওয়া হয়েছে।
তাহলে কী-বোর্ড বানানে ঈ-কার কেন? এটি তো বিদেশি শব্দ? একাডেমি কোনো উত্তর দিতে পারল না। বাংলা একাডেমি যদি— ১. ইংরেজি ‘Key board’- এর ‘ঈ-কার’-যুক্ত ‘কী-বোর্ড’ বানানকে প্রমিত নির্দেশ করতে পারে; ২. “বিদেশি শব্দের বানানে ‘মূর্ধন্য-ষ’ সমীচীন নয়”— বিধি উপেক্ষা করে বিদেশি ‘Christ” শব্দকে উচ্চারণানুগ করার অজুহাতে ‘মূর্ধন্য-ষ’-যুক্ত ‘খ্রিষ্ট’, ‘খ্রিষ্টাব্দ’ প্রভৃতি বানানকে প্রমিত নির্দেশ করতে পারে; তাহলে আরবি ‘عيد (Eid)’-এর বাংলা ‘ঈদ’ বানানকে প্রমিত নির্দেশ করবে না কেন। সরকার পরিবর্তনের পর বাংলা একাডেমী ঈদ শব্দটিকে এখন গ্রহণযোগ্যভাবে স্বীকার করছে। ক্রেডিট: মোহাম্মদ আমিন।
ঈদ শব্দটি ইসলামিক / এটাই ভালো “ঈদ” বানানে একটা ঈদ ঈদ ব্যাপার আছে কিন্তু ইদ কেমনই একটা দেখা যায় ঈদ
ঈদ নাকি ইদ, এই নিয়ে বিতর্ক অনেকদিনের। বাংলা একাডেমীর অভিধান অনুযায়ী, ‘ঈদ’ শব্দের সঠিক বানান ‘ইদ’। তবে, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বাংলা একাডেমীর ফেসবুক পেজে একটি ঈদকার্ড পোস্ট করেছেন, যেখানে ‘ঈদ’ বানান ব্যবহার করা হয়েছে।
Caption: Eid Bangla Word “ঈদ”
ঈদ মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান দুইটি উৎসবের অন্যতম। ঈদ মূলত আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ আনন্দ, উৎসব, খুশি ইত্যাদি। মুসলিম বিশ্বে এই উৎসব দুইটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
- ঈদুল ফিতর-দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন পালিত হয় এই উৎসব। এই দিনটি মূলত রোজার সমাপ্তি এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। এই দিনে দরিদ্রদের মাঝে ফিতরা বিতরণ করা হয়।
- ঈদুল আজহা- ইসলামের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ঘটনাকে স্মরণ করা হয়। এই দিনে পশু কোরবানি করা হয় এবং মাংস আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ঈদ হল মুসলিমদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের দিন। এই দিনটি ধর্মীয় ও সামাজিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।
“ঈদ” শব্দটি কি আরবী?
যদি “ইদ” শব্দ ব্যবহার করা হয়,তাহলে আরবি শব্দের সঠিক প্রয়োগ হবে না। আর আরবি এই শব্দের প্রথমে আইন এবং পরে ইয়া হরফ দুটি থাকার কারণে “ঈদ” শব্দটিই যুক্তিযুক্ত। বাংলা একাডেমি মূলত আরবীয় ভাষা রীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য এই অপকর্ম করেছে! কারণ আরবী ভাষার সাথে ইসলাম ধর্মের সম্পর্ক অনেকটা বেশি! বিভিন্ন শব্দে দীর্ঘ-ঈ কার বিলুপ করে হ্রস্ব-ই কার ব্যবহার করা হয়েছে এবং এগুলোকে শুদ্ধ হিসেবে মনোনীত করেছে। কিন্তু এগুলোও ইসলামী বা আরবী পরিভাষার সাথে সাংঘর্ষিক! যেমনঃ ইসলামী-ইসলামি,আরবী-আরবি, ঈদ-ইদ। এই শব্দগুলো তে আরবি হরফ “ইয়া” এর ব্যবহার রয়েছে, তাই শব্দগুলোতে দীর্ঘ-ঈ কার হবে।