স্কোপাস প্রকাশনায় দেশের ৪৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষে ঢাবি, দ্বিতীয় বুয়েট
স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় দেশের ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮ হাজার ২৫৫টি প্রকাশনা নিয়ে শীর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৩ হাজার ৮০৭টি প্রকাশনা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বুয়েট।
আন্তর্জাতিক গবেষণা তথ্যভান্ডার স্কোপাসে তালিকাভুক্ত (ইনডেক্সড) গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যায় দেশের ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। চলতি অক্টোবরে স্কোপাসে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাবির নামে প্রকাশনা রয়েছে ১৮ হাজার ২৫৫টি। ১৩ হাজার ৮০৭টি প্রকাশনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঢাবির জনসংযোগ দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
মোট প্রকাশনার এক-অষ্টমাংশ ঢাবির
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, হিসাবে আসা ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট স্কোপাস-ইনডেক্সড প্রকাশনার সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮। এর মধ্যে প্রায় ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, অর্থাৎ মোট প্রকাশনার প্রায় আট ভাগের এক ভাগ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বুয়েটের চেয়ে ঢাবির প্রকাশনা ৪ হাজার ৪৪৮টি বেশি।
তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এই সংখ্যা কোন সময়কাল থেকে গণনা করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রকাশনার সংখ্যাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই। এদিকে জাগো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু গত তিন বছরের হিসাব ধরলে শীর্ষ তিনে রয়েছে ঢাবি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও বুয়েট।
উপাচার্য যা বললেন
এ অর্জনকে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক গবেষণা প্রচেষ্টার ফল হিসেবে দেখছেন ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তাঁর ভাষায়, এটি “আমাদের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিরলস গবেষণার প্রতিফলন”।
উপাচার্য জানান, গবেষণার মান বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিশ্বপরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে আরও দৃশ্যমান করাই প্রশাসনের লক্ষ্য। এ জন্য গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও ক্যাম্পাসে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্কোপাস কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ
স্কোপাস হলো নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ারের পরিচালিত একটি অ্যাবস্ট্র্যাক্ট ও সাইটেশন ডেটাবেইস। মানসম্পন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নাল, কনফারেন্স পেপার ও বইয়ের তথ্য এতে সংরক্ষিত থাকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে গবেষণা সূচক নির্ধারণে স্কোপাসের তথ্য ব্যবহৃত হয়, তাই এখানে প্রকাশনার সংখ্যা একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত।
আগের হিসাবেও এগিয়ে ছিল ঢাবি
বার্ষিক হিসাবেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের গবেষণা প্রকাশনায় শীর্ষে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অনলাইন জার্নাল সায়েন্টিফিক বাংলাদেশের স্কোপাসভিত্তিক বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড গত বছরের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৫ হাজার ৪১৩টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়। সে বছর প্রায় দেড় হাজার প্রকাশনা নিয়ে প্রথম ছিল ঢাবি; এরপর ছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও বুয়েট।
শিক্ষাবিদেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, প্রকাশনার সংখ্যার পাশাপাশি গবেষণার মান, উদ্ধৃতি (সাইটেশন) এবং বাস্তব প্রয়োগের দিকেও সমান নজর দেওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর দাবিও রয়েছে উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্টদের।
তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক করতোয়া, জাগো নিউজ




মন্তব্য (০)