বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
প্রতিদিনের বাংলাদেশবিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণ জরুরি : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলা ট্রিবিউনযুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড, জরুরি অবস্থা জারি যুগান্তরস্ট্রোক কী, কেন হয়? দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি যে কারণে দেশ রূপান্তরদাঁতের হলুদ ভাব দূর করতে যেসব অভ্যাস জরুরি জাগো নিউজ ২৪চিকিৎসক নেই জরুরি বিভাগেও, বন্ধ জনগুরুত্বপূর্ণ তিন বিভাগ ঢাকা পোস্টশিক্ষকদের জাতীয়করণের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষাও জরুরি : সমাজকল্যাণমন্ত্রী ঢাকা পোস্টখাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা জরুরি ঢাকা পোস্টপর্যটন বিকাশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জরুরি : সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশআওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা: জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন হাসিনা সমকালমাঝেমধ্যে কিছুই না করে সময় কাটানো কেন জরুরি

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, বছরে প্রাণহানি বেড়ে ৪১৫

দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ জন। চলতি বছর মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪১৫ জনে।

হাসপাতালের সাদা বিছানার চাদরে বসে থাকা একটি এডিস মশা, পেছনে ঝাপসা ওয়ার্ড ও স্যালাইন স্ট্যান্ড
প্রতীকী ছবি ছবি: ClaimBD

দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আরও ছয়জন মারা গেছেন। একই সময়ে সারা দেশের হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৫ জনে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কোন বিভাগে কতজনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন রয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা ও রংপুর বিভাগে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকার বাইরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে আছে।

একই সময়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪ জন। ফলে নতুন ভর্তির তুলনায় ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা সামান্য কম ছিল। বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ হাজার ২৫১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বছরজুড়ে আক্রান্ত ১ লাখ ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৫ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪১৫ জনের।

মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে) ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল মাত্র পাঁচজনের। এরপর বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকে। জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বরে এক মাসেই প্রাণ হারান ১৪৮ জন। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এসেও প্রায় প্রতিদিন একাধিক মৃত্যুর খবর আসছে।

মৌসুম শেষেও কেন ঝুঁকি

বাংলাদেশে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরকে ডেঙ্গুর মূল মৌসুম ধরা হয়। তবে গত কয়েক বছরে অক্টোবর-নভেম্বরেও সংক্রমণ উচ্চ পর্যায়ে থাকতে দেখা গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, থেমে থেমে বৃষ্টি, জমে থাকা পানি এবং নির্মাণাধীন এলাকায় এডিস মশার প্রজনন অব্যাহত থাকায় মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার বা ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং দিনের বেলায়ও মশারি ও মশা প্রতিরোধক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে চিকিৎসকেরা মনে করেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দৈনিক হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি এক দিনে ২ হাজার ৮৮ জন রোগী ভর্তির তথ্যও দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।