শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সত্যের দাবি, সবার আগে

ব্রেকিং
দেশ রূপান্তরআল্লাহর পরিচয় জানা জরুরি দেশ রূপান্তরসবার আগে জরুরি সাইবার নিরাপত্তা জাগো নিউজ ২৪স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত ও জরুরি চিকিৎসায় জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ আজকের পত্রিকাসুরা ইয়াসিন সম্পর্কে যা জানা জরুরি প্রতিদিনের বাংলাদেশবিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণ জরুরি : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলা ট্রিবিউনযুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড, জরুরি অবস্থা জারি যুগান্তরস্ট্রোক কী, কেন হয়? দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি যে কারণে দেশ রূপান্তরদাঁতের হলুদ ভাব দূর করতে যেসব অভ্যাস জরুরি জাগো নিউজ ২৪চিকিৎসক নেই জরুরি বিভাগেও, বন্ধ জনগুরুত্বপূর্ণ তিন বিভাগ ঢাকা পোস্টশিক্ষকদের জাতীয়করণের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষাও জরুরি : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২০.৭ বিলিয়ন ডলার, জিডিপির ৪.৬%

তাপ ও জলবায়ুসংবেদনশীল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বাংলাদেশের বছরে প্রায় ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে, যা ২০২৪ সালের জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের (কেএইচআই) নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

তাপপ্রবাহসহ জলবায়ুসংবেদনশীল নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বাংলাদেশের বছরে আনুমানিক ২ হাজার ৭০ কোটি মার্কিন ডলার (২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন) অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এই অঙ্ক ২০২৪ সালের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের (কেএইচআই) এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

‘মাল্টি-ডাইমেনশনাল হেলথ ইমপ্যাক্টস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ: পাথওয়েজ, কস্টস অ্যান্ড পলিসি ইমপ্লিকেশনস’ শীর্ষক এই গবেষণায় কর্মক্ষমতা হ্রাস, অকালমৃত্যু ও নির্দিষ্ট কিছু রোগের চিকিৎসা ব্যয় হিসাবের মধ্যে ধরা হয়েছে। তবে বায়ুদূষণ এবং প্রাণঘাতী নয় এমন অসুস্থতার বৃহত্তর ব্যয় এতে যুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। মোট বোঝার মধ্যে ১০০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলার সরাসরি পর্যবেক্ষিত উষ্ণায়নের ফল বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি তীব্র গরমে

গবেষণা অনুযায়ী, ক্ষতির সবচেয়ে বড় উৎস তীব্র গরম। ২০২৪ সালে অতিরিক্ত তাপের কারণে দেশে প্রায় ২ হাজার ৯৩০ কোটি সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যার অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। হারানো কর্মঘণ্টার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের। নির্মাণশ্রমিকসহ খোলা জায়গায় কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের আবহাওয়া-তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০০-এর দশকের তুলনায় ২০২০-এর দশকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আর্দ্রতা বাড়ায় শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হচ্ছে, যা হৃদ্‌রোগ, কিডনি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। মডেলভিত্তিক হিসাবে ২০২৩ সালে প্রায় ১৬ হাজার মৃত্যুর সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তাপমাত্রার সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোনো জেলায় আগের চার সপ্তাহে গড় তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলে দুই সপ্তাহ পর ডেঙ্গু রোগী ভর্তি প্রায় ২১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সাল থেকে ভর্তি রোগীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঢাকার বাইরের হলেও মৃত্যুর ৫৭ থেকে ৬৪ শতাংশ ঘটেছে ঢাকা শহরের হাসপাতালে। ২০২৩ সালে শুধু হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার; বহির্বিভাগের খরচ এর বাইরে।

দুর্বল প্রস্তুতি, অব্যবহৃত বরাদ্দ

গবেষণায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রস্তুতির ঘাটতিও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ৮২৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে চলতি স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়েছে। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জলবায়ুসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বরাদ্দের মাত্র ২৪ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে। দেশে এখনো জাতীয় তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা এবং তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু নথিভুক্ত করার নিয়মিত ব্যবস্থা নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, ক্রমবর্ধমান তাপ ও আর্দ্রতা জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে। এ জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর আগাম সতর্কতাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আলাদা পদক্ষেপের কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

যেসব সুপারিশ এসেছে

গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন কেএইচআইয়ের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, দেশে একাধিক জলবায়ু নীতি থাকলেও সেগুলোর স্বাস্থ্যগত দিক যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। প্রতিবেদনে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি জেলায় অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগ, ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতা জোরদার, হাসপাতালের জরুরি প্রস্তুতি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য খাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের সুপারিশ করা হয়। কর্মক্ষেত্রে বিশ্রাম, ছায়া ও খাবার পানির নিশ্চয়তা নিয়ে খাতভিত্তিক নির্দেশিকা তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। তাপপ্রবাহ, বন্যা ও মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ায় এর অভিঘাত এখন অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য—দুই ক্ষেত্রেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, আজকের পত্রিকা

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।