সরকারি সেবা

আউটসোর্সিং সেবাকর্মীদের সার্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশনা, আওতায় আসছেন প্রাথমিকের দপ্তরী কাম প্রহরীরাও

সরকারের আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত সেবাকর্মীদের জন্য বড় ধরনের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক স্মারকে বলা হয়েছে, “আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫”-এর আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও দপ্তরে কর্মরত সকল আউটসোর্সিং সেবাকর্মীকে সার্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরীগণও এই সুবিধার আওতায় আসবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৩ শাখা থেকে জারি করা স্মারকে উল্লেখ করা হয়, আউটসোর্সিং নীতিমালার ধারা অনুযায়ী সেবাকর্মীদের জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অধীন পরিচালিত সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্মারকটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আউটসোর্সিং কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন সরকারি চাকরিজীবীদের মতো পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন আউটসোর্সিং কর্মীরা। নতুন নির্দেশনার ফলে চাকরি শেষে নির্দিষ্ট বয়সে মাসিক পেনশন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত দপ্তরী কাম প্রহরীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

“আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫”-এ সেবাকর্মীদের জন্য আরও কয়েকটি কল্যাণমূলক সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বছরে দুই ঈদে উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, নির্ধারিত ছুটি, নারী কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরির কর্মীদের মাসিক সেবামূল্যও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো দেশের সব নাগরিককে ধীরে ধীরে একটি টেকসই পেনশন কাঠামোর আওতায় আনা। বর্তমানে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা এই স্কিমে যুক্ত হতে পারছেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চাঁদা প্রদান শেষে অবসরকালীন মাসিক পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আউটসোর্সিং কর্মীদের পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্তির ফলে সরকারি সেবাখাতে নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত নিম্নআয়ের কর্মচারীরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাবেন।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *