এইমাত্র পাওয়া

ই-পাসপোর্ট আবেদন ও ফি সংক্রান্ত জরুরি তথ্যাবলি: যা আপনার জানা প্রয়োজন

বর্তমান সময়ে বিদেশ ভ্রমণ বা জরুরি প্রয়োজনে পাসপোর্ট এখন মৌলিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা আবেদন প্রক্রিয়াকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সহজতর করেছে। সম্প্রতি পাসপোর্ট অফিসগুলোতে টানানো নির্দেশিকা এবং ফি সংক্রান্ত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে আবেদনকারীদের জন্য একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো।


আবেদন প্রক্রিয়া ও ফি পরিশোধ

আবেদনকারীদের প্রথমেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন সাবমিট করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পাসপোর্ট ফি হিসাব করা হবে। ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে ডিজিটাল এবং এনালগ—উভয় মাধ্যমই কার্যকর:

  • অনলাইন পেমেন্ট: আবেদনকারীরা চাইলে অনলাইনে সরাসরি ফি জমা দিতে পারবেন।

  • ব্যাংক পেমেন্ট: এছাড়া নির্ধারিত ৬টি ব্যাংকের (সোনালী, ওয়ান, প্রিমিয়ার, ট্রাস্ট, ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংক) যেকোনো শাখায় ফি জমা দেওয়া যাবে।


ই-পাসপোর্ট ফি তালিকা (১৫% ভ্যাটসহ)

পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা এবং মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ফির পরিমাণ ভিন্ন হয়। নিচে বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:

১. ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট

বিতরণের ধরন৫ বছর মেয়াদি ফি১০ বছর মেয়াদি ফি
নিয়মিত (২১ দিন)৪,০২৫ টাকা৫,৭৫০ টাকা
জরুরি (১০ দিন)৬,৩২৫ টাকা৮,০৫০ টাকা
অতি জরুরি (২ দিন)৮,৬২৫ টাকা১০,৩৫০ টাকা

২. ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট

বিতরণের ধরন৫ বছর মেয়াদি ফি১০ বছর মেয়াদি ফি
নিয়মিত (২১ দিন)৬,৩২৫ টাকা৮,০৫০ টাকা
জরুরি (১০ দিন)৮,৬২৫ টাকা১০,৩৫০ টাকা
অতি জরুরি (২ দিন)১২,০৭৫ টাকা১৩,৮০০ টাকা

সতর্কতা: ১৮ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের আবেদনকারীরা কেবলমাত্র ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট পাবেন।


প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদন জমা দেওয়ার সময় মূল এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। তবে ১৮ বছরের নিচে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ এবং বাবা-মায়ের এনআইডি কার্ডের কপি প্রয়োজন হবে। এছাড়া আবেদনের সময় যা সাথে রাখতে হবে:

  • অনলাইন আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি।

  • ফি জমা দেওয়ার রশিদ (ব্যাংকে জমা দিলে)।

  • পুরাতন পাসপোর্ট এবং তার ফটোকপি (যদি থাকে)।

  • স্থায়ী ঠিকানা বা বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্বপক্ষীয় দলিল।


বিশেষ নির্দেশনা

পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রের ফরম ফটোকপি বা অনলাইনে প্রিন্ট করার সময় প্রতি পাতার উভয় পৃষ্ঠায় তথ্য পূরণ বা প্রিন্ট করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার জন্য অনলাইনে বরাদ্দকৃত তারিখ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রুম নম্বর (যেমন: ৪০১ নং রুম) এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভ্রমণপিপাসু ও প্রবাসগামীদের জন্য পাসপোর্ট প্রক্রিয়ার এই স্বচ্ছতা নিশ্চিতভাবে ভোগান্তি কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *