নির্বাচনে কালো টাকা রোধে কঠোর বাংলাদেশ ব্যাংক: এমএফএস লেনদেনে নতুন সীমা নির্ধারণ ১০০০ টাকা?
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অবৈধ অর্থের লেনদেন ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের এক জরুরি নির্দেশনায় বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
লেনদেনে প্রধান পরিবর্তনসমূহ
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই বিধিনিষেধ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ভোটের দিন) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই ৯৬ ঘণ্টার জন্য গ্রাহকদের লেনদেনে নিচের পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে:
ব্যক্তি পর্যায়ে লেনদেন (P2P): একবারে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকার বেশি পাঠানো যাবে না।
দৈনিক সীমা: দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেনের মাধ্যমে মোট ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত পাঠানো যাবে। (বর্তমানে এই সীমা দিনে ৫০,০০০ টাকা)।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং: অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (IBFT) অর্থ স্থানান্তর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
অপরিবর্তিত সেবা: তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট (কেনাকাটা) এবং ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি) পরিশোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম বহাল থাকবে।
কেন এই কড়াকড়ি?
নির্বাচন কমিশনের (EC) সুপারিশে এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটের আগের কয়েক দিন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে ভোটার কেনাবেচা বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকে নস্যাৎ করাই এর মূল লক্ষ্য।
নিরাপত্তা ও নজরদারি
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে একটি ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে, যা নির্বাচনী সময়ে লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করবে। এছাড়া সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা মাত্রই সংশ্লিষ্ট থানা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম চালু হবে। সাধারণ গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই পদক্ষেপকে অপরিহার্য বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নির্বাচন কমিশন।




