এইমাত্র পাওয়া

নিজের নামে ৩৩টি আইএমইআই: প্রযুক্তির ডিজিটাল জালে নাগরিক নিরাপত্তা কতটুকু?

২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সংখ্যা ৩৩টি। এর প্রায় সবকটিই এখন আর ব্যবহারকারীর হাতে নেই—কোনোটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, কোনোটি আবার অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সেই ৩৩টি ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর এখনো ওই ব্যক্তির নামেই নিবন্ধিত রয়ে গেছে। সম্প্রতি এক সচেতন ব্যবহারকারীর তথ্যে উঠে এসেছে ডিজিটাল নিবন্ধনের এই চাঞ্চল্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ চিত্র।

অব্যবহৃত ফোনের নিবন্ধনে নিরাপত্তা ঝুঁকি

সাধারণত ফোন বিক্রির সময় আমরা ডাটা রিসেট করলেও আইএমইআই নিবন্ধন পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে ভাবি না। অথচ এই “ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট” ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে কয়েকটি প্রধান ঝুঁকি তৈরি হয়:

  • অপরাধের দায়: বিক্রি করে দেওয়া ফোনটি যদি কোনো অপরাধমূলক কাজে (যেমন: চাঁদাবাজি, হুমকি বা জঙ্গি তৎপরতা) ব্যবহৃত হয়, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিবন্ধিত মালিককেই প্রথমে শনাক্ত করবে।

  • ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার: একজনের নামে নিবন্ধিত ডিভাইসে অন্য কেউ অবৈধ কার্যক্রম চালালে প্রকৃত মালিককে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।

  • সিস্টেমের ত্রুটি: এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমে পুরনো ফোনের তথ্য আপডেট না হওয়া নাগরিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় লুপহোল।

ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা

ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি জানান, “২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো ফোন ব্যবহার করেছি, তার সবগুলোই আমার নামে দেখাচ্ছে। অথচ ফোনগুলো অনেক আগেই হাতবদল হয়ে গেছে। কার হাতে এখন আমার নামে নিবন্ধিত সেটটি আছে, তা আমি নিজেও জানি না। এটি সত্যিই উদ্বেগের।”

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ফোন বিক্রি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিটি নাগরিকের উচিত: ১. নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) বিপরীতে কয়টি আইএমইআই নিবন্ধিত আছে তা নিয়মিত যাচাই করা। ২. ফোন বিক্রির সময় যথাযথ রসিদ রাখা এবং সম্ভব হলে বিটিআরসি-র পোর্টালের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। ৩. অব্যবহৃত আইএমইআই বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

ডিজিটাল নিরাপত্তার এই যুগে ৩৩টি আইএমইআই একজনের নামে থাকা কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি একটি সম্ভাব্য আইনি ফাঁদ। সাধারণ মানুষের অসচেতনতা আর সিস্টেমের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ফেঁসে না যান, সে বিষয়ে বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

মোবাইল ফোন এনইআইআর এ কিভাবে যাচাই করে?

বিটিআরসি (BTRC) এর ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেমে আপনার ফোনটি বা কোনো আইএমইআই (IMEI) নম্বর নিবন্ধিত কি না, তা যাচাই করা এখন বেশ সহজ। আপনি তিনটি পদ্ধতিতে এটি করতে পারেন:

১. এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে

এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। নতুন ফোন কেনার আগে বা পুরনো ফোনের স্থিতি জানতে এটি ব্যবহার করা হয়।

  • আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে যান।

  • লিখুন: KYD <স্পেস> ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর (যেমন: KYD 123456789012345)।

  • মেসেজটি পাঠিয়ে দিন ১৬০০২ নম্বরে।

  • ফিরতি এসএমএসে আপনি জানতে পারবেন ফোনটি বৈধভাবে নিবন্ধিত কি না।

২. ইউএসএসডি (USSD) কোডের মাধ্যমে

ফোনের ডাটা বা ইন্টারনেট না থাকলেও আপনি এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।

  • ফোনের ডায়াল প্যাড থেকে *১৬১৬১# ডায়াল করুন।

  • পর্দায় আসা অপশন থেকে আইএমইআই যাচাই বা স্ট্যাটাস চেক সিলেক্ট করুন।

  • আপনার ফোনের ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বরটি লিখে পাঠিয়ে দিন।

  • কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএস পাবেন।

৩. পোর্টালে লগইন করে (বিস্তারিত তালিকার জন্য)

আপনার এনআইডি (NID) দিয়ে ঠিক কয়টি ফোন নিবন্ধিত আছে, তা বিস্তারিত দেখতে এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে কার্যকর:

  • neir.btrc.gov.bd পোর্টালে যান।

  • আপনার মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি (রেজিস্ট্রেশন) করুন।

  • লগইন করার পর আপনার অ্যাকাউন্টে নিবন্ধিত ফোনের তালিকা দেখতে পাবেন।

টিপস: আপনার ফোনের আইএমইআই নম্বরটি জানা না থাকলে ডায়াল প্যাডে *#০৬# ডায়াল করুন। মুহূর্তেই স্ক্রিনে ১৫ ডিজিটের নম্বরটি দেখতে পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *