৫১তম বিসিএস প্রিলি ১১ ডিসেম্বর: শুধু ঢাকায় পরীক্ষা, ৫২তম নিয়ে সংশয়
৫১তম বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারি ১১ ডিসেম্বর, শুধু ঢাকায়। ৫ হাজার পদে আবেদন ৪৪,৬৩৫ চিকিৎসকের। ৫২তম বিসিএস সাধারণ না বিশেষ, জানুন সর্বশেষ তথ্য ও করণীয়।

ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৬: চিকিৎসক নিয়োগের ৫১তম বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে আগামী ১১ ডিসেম্বর, শুক্রবার। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার এই এমসিকিউ পরীক্ষা কেবল ঢাকা কেন্দ্রেই নেওয়া হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গত বুধবার (৪ নভেম্বর) বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ সূচি জানিয়েছে। ৫ হাজার পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন চিকিৎসক, অর্থাৎ প্রতি পদে লড়বেন প্রায় ৯ জন। একই সময়ে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে: ৫২তম বিসিএস কি সাধারণ হবে, নাকি আরেকটি বিশেষ বিসিএস আসছে?
এক নজরে ৫১তম বিশেষ বিসিএস
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| মোট পদ | ৫,০০০ (স্বাস্থ্য ক্যাডার) |
| সহকারী সার্জন | ৪,৭০০ পদ |
| সহকারী ডেন্টাল সার্জন | ৩০০ পদ |
| মোট আবেদনকারী | ৪৪,৬৩৫ জন |
| প্রিলিমিনারি পরীক্ষা | ১১ ডিসেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার), সকাল ১০টা–দুপুর ১২টা |
| পরীক্ষার ধরন | এমসিকিউ, লিখিত প্রিলিমিনারি |
| কেন্দ্র | শুধু ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ভেন্যু |
| বাছাই প্রক্রিয়া | ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি ও ১০০ নম্বরের মৌখিক; দীর্ঘ লিখিত পরীক্ষা নেই |
পটভূমি: সাধারণ থেকে বিশেষ হলো ৫১তম বিসিএস
পিএসসির বার্ষিক পরিকল্পনায় ৫১তম বিসিএস সাধারণ বিসিএস হিসেবেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক-সংকট মেটাতে সরকার বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চাহিদা পাঠানোর পর পিএসসি দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের মূলত উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পদায়নের লক্ষ্য রয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড বরাদ্দ এবং তৃণমূলে সেবা পৌঁছানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ বিসিএসে সাধারণত দীর্ঘ লিখিত পরীক্ষা থাকে না; প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সুপারিশ হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়া সাধারণ বিসিএসের চেয়ে অনেক কম সময়ে শেষ করা যায়।
৫২তম বিসিএস: সাধারণ না বিশেষ, এখনো অনিশ্চিত
পিএসসির পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যেই নতুন সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আসার কথা। তবে গত ২৮ অক্টোবর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি পুলিশে ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) সরাসরি নিয়োগ এবং ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৪০০ থেকে ৫০০ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নিতে একটি বিশেষ বিসিএসের কথা ভাবা হচ্ছে, যা ৫২তম বিসিএস হতে পারে।
পিএসসি অবশ্য বলছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। কমিশনের মুখপাত্রের ভাষ্য, ৫২তম বিসিএস বিশেষ হবে কি না, তা নিয়ে কমিশনে কোনো আলোচনা হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র না আসা পর্যন্ত পিএসসি সাধারণ বিসিএসের সূচি ধরেই কাজ করবে।
বিশ্লেষণ: সাধারণ প্রার্থীদের উদ্বেগ কোথায়
পিএসসির লক্ষ্য প্রতিবছর একটি করে সাধারণ বিসিএস শেষ করা। ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি এসেছিল ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর; এর মৌখিক পরীক্ষা চলছে এবং চলতি নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ফল দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ৫১তম বিসিএস বিশেষ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্যাডারের প্রার্থীরা এক বছরের সুযোগ হারিয়েছেন বলে মনে করছেন। পরপর দুটি বিশেষ বিসিএস হলে প্রশাসন, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, কর বা অন্যান্য সাধারণ ও কারিগরি ক্যাডারের নিয়োগ আরও পিছিয়ে যাবে। এতে বয়সসীমার শেষ প্রান্তে থাকা প্রার্থীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে চিকিৎসক প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক অনুকূল। প্রায় ৯ জনে ১ জন সুযোগ পাওয়ার অনুপাত সাধারণ বিসিএসের তুলনায় অনেক কম প্রতিযোগিতাপূর্ণ। তবে একটি মাত্র কেন্দ্রে, অর্থাৎ শুধু ঢাকায় পরীক্ষা হওয়ায় দূরের জেলার প্রার্থীদের যাতায়াত ও থাকার প্রস্তুতি আগেই নিতে হবে।
প্রশ্নোত্তর: পরীক্ষার্থীদের যা জানা দরকার
প্রবেশপত্র ও আসনবিন্যাস কোথায় পাবেন?
পরীক্ষার হল, আসনবিন্যাস ও জরুরি নির্দেশনা যথাসময়ে পিএসসির ওয়েবসাইট (bpsc.gov.bd) এবং টেলিটকের পোর্টালে (bpsc.teletalk.com.bd) প্রকাশ করা হবে। সময়মতো প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট রাখুন।
ঢাকার বাইরে কি কেন্দ্র থাকবে?
না। পিএসসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষা হবে শুধু ঢাকা কেন্দ্রে।
সূচি কি বদলাতে পারে?
পিএসসি জানিয়েছে, প্রয়োজনে প্রকাশিত সূচি পরিবর্তনের অধিকার কমিশন সংরক্ষণ করে। তাই নিয়মিত ওয়েবসাইটের নোটিশ দেখুন।
৫২তম বিসিএসের প্রার্থীরা এখন কী করবেন?
আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত গুজবে কান না দিয়ে সাধারণ বিসিএসের সিলেবাস ধরে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়াই ভালো। বিশেষ বিসিএস হলেও প্রিলিমিনারি অংশের প্রস্তুতি কাজে লাগবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), প্রথম আলো, দৈনিক নিউ নেশন, আমার সকাল ২৪।
মন্তব্য (০)