এইমাত্র পাওয়া

৭ জটিল রোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা: নীতিমালা সংশোধন করে কমিটি গঠন ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় নতুন নির্দেশনা

ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কাঠামো ও কমিটি গঠনসংক্রান্ত বিধানে সংশোধন এনেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সংশোধিত নীতিমালায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি, নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য জেলাগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিপত্রে ‘ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া এবং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬ (সংশোধিত)’-এর ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের (ক), (খ) ও (গ) উপ-অনুচ্ছেদ সংশোধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিপত্রে নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

তবে এই সংশোধনকে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি, নতুন করে সাতটি রোগ অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা সব আবেদনকারীর সহায়তা নিশ্চিত করার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। দৃশ্যমান সরকারি নথিতে মূলত কমিটি গঠন, প্রতিনিধিত্ব ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোই সংশোধিত হয়েছে।

নীতিমালার কোন কোন ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে?

পরিপত্র অনুযায়ী, নীতিমালার ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের তিনটি উপ-অনুচ্ছেদে সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয় ও উপজেলা কমিটির সমন্বয়, পার্বত্য জেলার প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং উপজেলা ও জেলা কমিটিতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয় রয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়

সংশোধিত নীতিমালার ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের (ক) উপ-অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়গুলোকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয় ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমে আবেদন গ্রহণ, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই, আবেদনসংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর ও কমিটির মধ্যে সমন্বয় কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে সংশোধিত এই বিধানের কারণে আবেদন অনুমোদন বা অর্থ ছাড়ের সময় নির্দিষ্টভাবে কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা পরিপত্রে দেওয়া হয়নি।

পার্বত্য জেলায় কমিটি ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় নির্দেশনা

পরিপত্রের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদে পার্বত্য জেলার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা প্রশাসকের মনোনীত প্রতিনিধিকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালকের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ।

যৌথ স্বাক্ষরের ব্যবস্থা ব্যাংক হিসাব পরিচালনার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে। তবে এর মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের পরিমাণ বৃদ্ধি বা নতুন কোনো আর্থিক সুবিধা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য পরিপত্রে নেই।

উপজেলা ও জেলা কমিটিতে তিনজন করে গণ্যমান্য ব্যক্তি অন্তর্ভুক্তি

সংশোধিত নীতিমালার ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ) উপ-অনুচ্ছেদে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে।

পরিপত্রে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী—

  • উপজেলা কমিটি: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাঁদের মধ্যে একজন নারী প্রতিনিধি থাকবেন।
  • জেলা কমিটি: কমিটির সভাপতি কর্তৃক মনোনীত স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাঁদের মধ্যেও একজন নারী প্রতিনিধি থাকবেন।

এই বিধানের ফলে কমিটি গঠনে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের উভয় কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই সদস্যরা কীভাবে রোগীদের আবেদন যাচাইয়ে অংশ নেবেন, তাঁদের পৃথক দায়িত্ব কী হবে কিংবা তাঁদের অন্তর্ভুক্তির ফলে আবেদন অনুমোদনের পদ্ধতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে—এসব বিষয়ে দৃশ্যমান পরিপত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই।

কোন সাতটি রোগের রোগীরা এই কর্মসূচির আওতায়?

নীতিমালাটির আওতায় সাত ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রোগগুলো হলো:

১. ক্যান্সার
২. কিডনি রোগ
৩. লিভার সিরোসিস
৪. প্যারালাইসিস
৫. হৃদরোগ
৬. লিউকেমিয়া
৭. থ্যালাসেমিয়া

এসব রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হাসপাতালে ভর্তি এবং অন্যান্য চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে অনেক পরিবারের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তৈরি হয়।

সরকারি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় যোগ্য রোগীদের সহায়তা প্রদান করা হলেও, প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। শুধু রোগের নাম উল্লেখ থাকলেই সহায়তা অনুমোদিত হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

আর্থিক সহায়তার আবেদনকারীদের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ?

নীতিমালার এই সংশোধন মূলত কমিটি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে হলেও, আবেদনকারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

যাঁরা নতুন করে আবেদন করতে চান, তাঁরা সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে বর্তমান আবেদনপদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা সংগ্রহ করতে পারেন। সাধারণভাবে চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ, পরীক্ষার প্রতিবেদন, পরিচয়সংক্রান্ত নথি এবং আবেদনপত্র প্রয়োজন হতে পারে; তবে নির্দিষ্ট তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।

যাঁরা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন, তাঁরা আবেদন গ্রহণ, যাচাই, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে খোঁজ নিতে পারেন। আবেদনের প্রমাণপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, কমিটি গঠনের বিধান সংশোধন হওয়া মানেই পুরোনো সব আবেদন নতুন করে জমা দিতে হবে—এমন নির্দেশনা পরিপত্রে দৃশ্যমান নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

সহায়তার টাকা কি বাড়ানো হয়েছে?

পরিপত্রটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হলো—সংশোধনের মাধ্যমে রোগীদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে কি না।

দৃশ্যমান নথি বিশ্লেষণে সহায়তার নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর কোনো ঘোষণা পাওয়া যায় না। একইভাবে নতুন করে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা, সব আবেদনকারীর জন্য স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন কিংবা নতুন কোনো রোগ অন্তর্ভুক্তির ঘোষণাও এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

তাই সহায়তার টাকা বেড়েছে বা আবেদনকারীরা আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাবেন—এমন তথ্য নিশ্চিতভাবে প্রচার করার আগে সংশোধিত নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ কপি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

কবে থেকে কার্যকর হবে সংশোধিত নির্দেশনা?

সরবরাহ করা পরিপত্রের ছবিতে তারিখ হিসেবে ৬ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। নথির শেষাংশে নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

ফলে সংশ্লিষ্ট কমিটি ও দপ্তরগুলোর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশোধিত বিধান অনুসরণ করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এটি নীতিমালার নির্দিষ্ট অংশের সংশোধন; তাই অন্য সব শর্ত বা বিধান বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

প্রশাসনিক পরিবর্তনে কী প্রত্যাশা করা যায়?

জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমে কমিটির গঠন, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি ও পার্বত্য জেলায় ব্যাংক হিসাব পরিচালনার বিধান নির্দিষ্ট করার ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার কাঠামো আরও স্পষ্ট হতে পারে।

তবে এই পরিবর্তনের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সংশোধিত নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন, আবেদন যাচাইয়ের কার্যকারিতা এবং যোগ্য রোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর ওপর।

সব মিলিয়ে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নীতিমালার প্রধান গুরুত্ব হলো উপজেলা ও জেলা কমিটির গঠন, স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব এবং পার্বত্য জেলার ব্যাংক হিসাব পরিচালনার ব্যবস্থা নির্ধারণ। রোগীদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বা যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তিত হয়েছে কি না, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ সংশোধিত নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

সূত্র: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরবরাহ করা পরিপত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *