নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এবার তৃণমূল—অর্থাৎ জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে আন্দোলনকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির।
তিনি বলেন, “পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি যদি জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে তীব্রভাবে উঠে আসে এবং মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি যত কার্যকরভাবে পালন করা হবে, ততই দাবি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বাড়বে। এবার বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা যদি এখন সবাই চুপ করে থাকেন, তাহলে কেন্দ্রীয় নেতাদের করার কিছুই থাকবে না।”
বাদিউল কবিরের মতে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মিলিত চাপ ও সক্রিয় অবস্থানই কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আলোচনাকে শক্তিশালী করবে। তাই তিনি দেশব্যাপী সংগঠনের সকল সদস্যকে দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরও সংগঠিত, সক্রিয় ও দৃঢ় অবস্থানে থাকার আহ্বান জানান।
সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও মনে করছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি এবং কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্য। তবে এ আন্দোলন সফল করতে কেন্দ্রের পাশাপাশি তৃণমূলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মন্তব্য করেন।
সরকারিভাবে এ বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা না এলেও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, মাঠপর্যায়ের চাপ বাড়লে চলমান আলোচনা আরও গতি পাবে।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কর্মসূচি আগামী ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির। তবে এবারের আন্দোলনের সাফল্য নির্ভর করছে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর। এমনটাই জোর দিয়ে বলেছেন তিনি।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে বাদিউল কবির বলেন, “জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে যত তীব্র আকারে দাবি উত্থাপিত হবে, যত বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ততই বাড়বে। এবার বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের (তৃণমূলের) কাঁধে। আপনারা যদি এখন সবাই চুপ করে থাকেন, তাহলে কেন্দ্রীয় নেতাদের আর কিছু করার থাকবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে দেখা গেছে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আন্দোলন একা চালিয়ে গেলেও তৃণমূলের সোচ্চার সমর্থন না থাকলে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এবার জেলা-উপজেলা থেকে শক্তিশালী ও সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি।
জানা গেছে, ৫ ডিসেম্বর ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে থাকতে পারে মানববন্ধন, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি। তবে চূড়ান্ত কর্মসূচি তৃণমূলের অংশগ্রহণের মাত্রার ওপর নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পে-স্কেল সংশোধনী এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সচিবালয় কর্মকর্তা সংযুক্ত পরিষদের সভাপতির এই বক্তব্য তৃণমূলকে সরাসরি দায়িত্বশীল করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।