সৌরজগৎ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানুন/এডমিশন ও বিসিএসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন।

 (Sun): সূর্য একটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের নক্ষত্র। সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলমিটার এবং ভর প্রায় ১.৯৯ * ১০১৩ কিলোগ্রাম। এই সূর্যই সৌরজগতের মূল চালিকাশক্তি। সূর্যের সাথে আমাদের সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ। পৃথিবীসহ সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহের তাপ ও আলোর মূল উৎস সূর্য। সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবী চির অন্ধকার থাকতো এবং পৃথিবীতে জীবজগৎ ও উদ্ভিদজগতের কিছুই বাঁচত না।

আমাদের সৌরজগৎ এর গ্রহ মোট আটটি। অর্থাৎ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ। একটা সময় পর্যন্ত প্লুটোকে গ্রহ হিসেবে ধরা হলেও প্লুটোকে এখন বামন গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী গ্রহগুলোর অবস্থান হলো- বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)

বুধ (Mercury): বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার। ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার। বুধ সূর্যের খুবই কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন। অর্থাৎ বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়। বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোন বায়ুমন্ডল ধরে রাখতে পারে না। এই গ্রহে কোন মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি নেই। ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূণ্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো। ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা, এবরো-থেবড়ো। বুধের কোন উপগ্রহ নেই।

শুক্র (Venus): বুধের মতো শুক্র গ্রহকেও ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়। শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোন তারা নয়। কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা ভাবি।

শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনোই দেখা যায় না। শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমন্ডল প্রধানত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের তৈরি। শুক্র সৌরজগতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত গ্রহ। সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। এই গ্রহের দিন ও রাতের মধ্যে তেমন কোন তারতম্য হয় না। এখানে বৃষ্টি হয়। তবে সেটি এসিড বৃষ্টি। শুক্র গ্রহের ব্যাস ১২,১০৮ কিলোমিটার। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন। অর্থাৎ শুক্র গ্রহে ২২৫ দিনে এক বছর হয়। 

সৌরজগৎ সম্পর্কে কিছু জেনে নিন>>>

১। সৌরজগতে গ্রহ রয়েছে – ৮টি

২। উপগ্রহ রয়েছে- ৪৯টি

৩। সূর্য পৃথিবী অপেক্ষা – ১৩ লক্ষ গুণ বড়

৪। সূর্যের উপরিভাগের উষ্ণতা – ৫৭০০০ ডিগ্রি

সেলসিয়াস

৫। সূর্য নিজ অক্ষের দিকে আবর্তন করে- ২৫

দিনে

৬। নিজ গ্যালাক্সির চারপাশে আবর্তন করতে

সূর্যের সময় লাগে- ২০ কোটি বছর

৭। সূর্যকে পরিক্রমণ করতে বুধের সময় লাগে- ৮৮

দিন

৮। উপগ্রহ নেই- বুধ ও শুক্র এর

৯। সন্ধ্যাতারা ও শুকতারা হিসেবে দেখতে

পাওয়া যায়- শুক্রকে

১০। পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা- ১৩.৯০

ডিগ্রি সেলসিয়াস

১১। আগ্নেয়গিরি রয়েছে- মঙ্গল গ্রহে

১২। মঙ্গলের উপগ্রহ- দুইটি, ডিমোস ও ফেবোস

১৩। লালচে গ্রহ বলা হয়- মঙ্গল গ্রহকে

১৪। গ্রহাণু – ৮০৫ থেকে ১.৬ কিলোমিটার

ব্যাস সম্পন্ন গ্রহ

১৫। অসংখ্য গ্রহাণুপুঞ্জ রয়েছে- মঙ্গল ও

বৃহস্পতিরর মাঝখানে

১৬। একদিনে দুইবার সূর্য উঠে ও অস্ত যায়- মঙ্গল

গ্রহে

১৭। বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহ – ১৬টি

১৮। সৌরজগতের ২য় বৃহত্তম গ্রহ- শনি

১৯। শনির উপগ্রহ- ২২টি

২০। ইউরেনাসের উপগ্রহ- ৫টি

২১। সূর্য থেকে অধিক দুরুত্বে অবস্থিত- নেপচুন

২২। নীলাভ গ্রহ – নেপচুন

২৩। নেপচুন এর উপগ্রহ- ২টি

ভূমিকম্প কি শুধু পৃথিবীতে হয় নাকি পৃথিবীর ছাড়াও অন্য গ্রহ গুলোতেও হয়?

প্রথমে জানা উচিত, ভূমিকম্প কেনো হয়? এর উত্তর জানলে, গ্রহগুলোর গঠন জেনে খুব সহজেই ধারণা করা সম্ভব সেখানেও হয় কিনা। 

ভূমিকম্প অনেক কারণেই হয়। তবে এটি হওয়ার প্রধান কারণ হলো ভূ-অভ্যন্তর:স্হ টেকটোনিক প্লেটের গতিবিধি। আমরা জানি, পৃথিবীর বহি:স্হ পাতলা ভূ-পৃষ্ঠ নামক অংশটিকে ক্রাস্ট বলা হয়। আর এর নিচের স্তরটি ম্যান্টেল, যা সিলিকেট শিলা দ্বারা গঠিত। এই ক্রাস্টের নিচের অংশ ও ম্যান্টেলের উপরের অংশ ভেঙ্গে কিছু বিশালাকার টুকরো আকারে রয়েছে যারা গতিশীল বা, নড়াচড়া করতে পারে। এদের টেকটোনিক প্লেট বলা হয়। আর এদের অবস্হানও খুব কাছাকাছি পরস্পরের স্বাপেক্ষে। গতিশীল অবস্হায় থাকায় কখনো প্লেটগুলোর একে অপরের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আবার কখনো বা পাশাপাশি ঘর্ষণ সৃষ্টি করে। আর এ ঘর্ষণ বা, ধাক্কার ফলে সৃষ্টি হয় শক্তিতরঙ্গ, যা সিসমিক তরঙ্গ নামে পরিচিত এবং তা ঢেউয়ের আকার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। যেহেতু ঢেউ আকারের, তাই যখন সিসমিক ওয়েভ ভূ-পৃষ্ঠ বরাবর প্রবাহিত হয় তখনই মাটি কেঁপে ওঠে, যাকে ভূমিকম্প বলি আমরা। তাহলে, ভূমিকম্প হওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে, গ্রহের অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের অস্তিত্ব থাকতে হবে এবং তারা অ্যাক্টিভ বা, সক্রিয় থাকতে হবে। সৌরজগতের যদি জোভিয়ান বা, গ্যাসীয় গ্রহগুলোর (বৃহস্পতি থেকে নেপচুন) গঠন দেখি তবে তাদের অভ্যন্তরে এমন কোনো শিলাস্তর নেই। বরং, তারা গ্যাসীয়। তাদের অভ্যন্তরে শক্ত বলতে শুধু কোরটিই। কিন্তু টেকটোনিক প্লেটের অবস্হান ক্রাস্ট বা, পৃষ্ঠ এবং কোরের মধ্যবর্তী জায়গায়৷ সুতরাং, তাদের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প হয় না।কিন্তু টেরেস্ট্রিয়াল গ্রহগুলোর (বুধ > মঙ্গল) গঠন শিলাময় ও পাথুরে। আর, এদের অভ্যন্তরে আছে এমন টেকটোনিক প্লেটের অবস্হান। এর মধ্যে বুধের টেকটোনিক প্লেটের গতি অনেক আগেই নিষ্ক্রিয়ও হয়ে গিয়েছে। শুক্র গ্রহে টেকটোনিক প্লেটের অ্যাক্টিভিটি থাকার কথা ধারণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। সেহেতু সেখানেও হয়তো ভূমিকম্প হয়, তবে কেমন মাত্রায় তা শনাক্ত করা সম্ভব হয় নি এখনও। তবে, মঙ্গল গ্রহে বিভিন্ন অভিযানে পাঠানো রোভারে থাকা সিসমোমিটার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন সেখানে সিসমিক ঘটনা বা, ভূমিকম্পের মতো ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *