লাখ টাকার আজব এক শসা

শসার দাম নাকি লাখ টাকা।যেখানে বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে শসা কেনা যায়,সেখানে এই আজব ধরনের শসার দাম লাখ টাকা শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্য।এই লাখ টাকা দামের শসা কিন্তু কোন সাধারণ শসা নয়,এটির জন্ম মাচা অথবা জমিতে হয় না এটি পাওয়া যায় সমুদ্রে।

 চলুন বিস্তারিত জেনে নেই এই  শসা  সম্পর্কে

আজব এই  শসার নাম হল সি কিউকাম্বার।এটি মূলত সমুদ্রের তলদেশে পাওয়া যায়।অনেকে এটিকে সামুদ্রিক শসা নামেও চিনে। কিন্তু এটিকে  শসা বললেও এটি কোন শসা নয় বা সবজি নয়।এটি মূলত এক ধরনের সামুদ্রিক জীব।সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে এ ধরনের জীব পাওয়া যায়।সমুদ্রের অনেক গভীরে এই কিউকাম্বার বা সামুদ্রিক শসা কে পাওয়া যায়।এসব শসা তুলতে গিয়ে অনেক  ডুবুরি কে  প্রাণ দিতে হয়েছে,কারণ এই  সামুদ্রিক শসা টি সমুদ্রের অনেক গভীরে জন্মায় বা জন্মগ্রহণ করে। 

কেন এই বিশেষ ধরনের শসার এত দাম?

সি কিউ কাম্বারের কোন চোখ নেই আছে মুখ ও  পায়ুপথ এটি একাইনো ড্রাম প্রজাতির জীব।এর আকার অনেকটা টিউবের মতো ও দেখতে শসার মতো বলে একে সামুদ্রিক  শসা বলা হয়।

সমুদ্রের নিচে বালিতে লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট জীব এর খাদ্য। কিউকাম্বার এর শরীর নরম তুলতুলে অনেকটা অক্টোপাস মাছের মতো।সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের উপর রয়েছে এই জীবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এর বিষ্ঠায় যে নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়া এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে তা সামুদ্রিক প্রবাল প্রাচীরের জন্য খুবই উপযোগী। সি কিউকাম্বার তিন সপ্তাহ পর পর অনেকটা ব্যাঙের মতো ডিম দেয়।এক একটি সি কিউ কাম্বার সাধারণত  ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। বিশ্বের প্রায় সব সমুদ্রে সি কিউ কামবার পাওয়া যায়।তবে ভারত চীন ও জাপান এর সমুদ্রে  সি কিউকাম্বার বেশি পাওয়া যায়।মূলত বিভিন্ন ঔষধ তৈরিতে এই সামুদ্রিক জীবটিকে ব্যবহার করা হয়।

সি কিউ কাম্বার যে রোগের জন্য ব্যবহৃত হয়

সাধারণত ঠান্ডা লাগা থেকে শুরু করে কোষ্ঠকাঠিন্য,ইরোটিক্যাল ডিসফাংশন,অবসাদ,ঘাম রোগ, উচ্চ রক্তচাপ,পুরনো ইনজুরি  ভালো করতে এই সি কিউকাম্বার ব্যবহৃত হয়।এছাড়াও ক্যান্সার সহ বহু জটিল রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এই সি কিউকাম্বার।শুধু তাই নয় মেয়েদের রূপচর্চার সামগ্রী তৈরিতে কাজে লাগে।এটি যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য অনেক দেশে এই প্রাণী কাঁচা অথবা সিদ্ধ করে খাওয়া হয়। 

কোথায় এই সি কিউকাম্বার বেশি পাওয়া যায়?

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলংকার মাঝামাঝি জায়গায় একসময় বিপুল পরিমাণে পাওয়া যেত এই জীব। এছাড়া চীন এবং জাপানেও এই যে পাওয়া যায়। এই সামুদ্রিক জীবটির ঔষধি গুন থাকার কারণে এটির দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।গত ৪১ বছরে এই সামুদ্রিক শসার দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। ১৯৮০ সালে এই প্রাণীর দাম ছিল প্রতি কেজি৫০০০ টাকা করে,যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার টাকায়। তবে এর মধ্যে  অনেক সি কিউকাম্বার রয়েছে যাদের দাম আড়াই লাখ টাকা।মতো অত্যন্ত  মূল্যবান প্রাণী হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সিকিউকাম্বার চাষ করার চেষ্টা করা হয়েছে,কিন্তু তা এখনো সফল হয়নি। অন্যদিকে অতিমাত্রায় শিকারের ফলে এই প্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে।এর চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে এর শিকার বেড়ে গিয়েছে অনেকাংশে।এর ফলে পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে সি কিউ কাম্বার বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।মূলত দিন  দিন চাহিদা বাড়ার পিছনে কারণ হলো এর ঔষধি গুণ। যার ফলে এ সি কিউকাম্বার এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাচার হচ্ছে।আর চাহিদা বাড়ার সাথে সাথেই এই প্রাণী শিকার বেরিয়ে চলেছে।যার ফলে ধীরে ধীরে এই প্রাণী আমাদের পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *