যে বাঁধটি এখন বাংলাদেশ- ভারতের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ  এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় কারণ ফারাক্কা বাঁধ। গঙ্গা নদীর উপরে নির্মিত এই বাঁধটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহএবং মুর্শিদাবাদ  জেলায় অবস্থিত। ফারাক্কা বাঁধের কারণে প্রতিবছর প্রায় 300 কোটি মার্কিন  ডলারের লোকসান হয় বাংলাদেশের।

ফারাক্কা বাঁধের বিস্তারিত তথ্য

৭৩০০ ফুট  দীর্ঘ ফারাক্কা বাঁধে মোট ১০৯টি  গেইট রয়েছে। শুধুমাত্র বাঁধিই নয় বরং সড়ক এবং রেলপথ হিসেবে ও কাজ করে। এই বাঁধটির উপর দিয়ে গেছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রেলপথ যা ভারতীয় উত্তর পূর্ব অংশকে সম্পূর্ণ দেশের সাথে সংযুক্ত  করেছে। প্রাথমিকভাবে এই বাধটি নির্মাণে কয়েকটি উদ্দেশ্য ছিল, যার মধ্যে একটি হল গঙ্গার প্রায় শুকিয়ে যাওয়া শাখা নদী ভাগীরথীর আদ্রতা ফিরিয়ে  এনে  কলকাতা বন্দরে পলি জমে যাওয়া আটকানো। ১৯৫০ এবং৬০ এর দশকে হুগলী নদীতে পলি জমতে শুরু করে। ভারত সরকারের মূল পরিকল্পনা ছিল বাঁধ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে চালনা করা। আর এই  পানির স্রোত এর কারণে  পলি জমতে পারবেনা। 

যেভাবে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল

ফারাক্কা বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগে বিভিন্ন সমীক্ষায় বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন গঙ্গা বা পদ্মার মতো  বিশাল নদীতে  বাঁধ  দিয়ে নদীর গতি রোধ করলে নদীর উজান ও  ভাটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে । কিন্তু ভারত সরকার এই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করেন।এই একটি ভুল সিদ্ধান্ত বিপর্যয় ডেকে আনে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মানুষের জীবনে। শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি অপসারণের কারণে বাংলাদেশ ও  ভারতের  পশ্চিমবঙ্গের খরা দেখা দেয়।আবার বর্ষাকালে  বাঁধ  এর গেইট খুলে দেওয়ার কারণে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে  সেসব অঞ্চল।১৯৬০সালের তুলনায় পদ্মা নদীর বিশ শতাংশ পলির প্রবাহ কমে গেছে, যার কারণে নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা শক্তি। পানিতে মিনারেল ও নিউট্রাল এর পরিমাণ কমে যাওয়ায় শেষ বছরে ৭৫ শতাংশ মৎস উৎপাদন কমে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশের উপকূলের  অঞ্চল গুলো ধীরে ধীরে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ফারাক্কার কারণে নদীর পলি  জমে নতুন ভূমি তৈরি হতে পারছে না। তাই আগামী কয়েক শতক পর পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে বাংলাদেশের চিহ্ন। এসব কারণে বাংলাদেশের কৃষি, বনজ, শিল্প, নৌ-পরিবহন, পানি সরবরাহ সহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *