মন্দা শেয়ারবাজারেও কারসাজি থেমে নেই

মন্দায় আক্রান্ত দেশের শেয়ারবাজার। ফ্লোর প্রাইস দিয়ে এখনও ২৩২ শেয়ারকে দরপতন থেকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও থেমে নেই কারসাজি। গত দুই মাসে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর দ্বিগুণ হয়েছে। এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে আরও কিছু শেয়ারে। যার অন্যতম হলো পর্যটন খাতের কোম্পানি সি পার্ল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। পাঁচ মাসে এ শেয়ারের দর পাঁচগুণ হয়েছে।

বাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব ক্ষেত্রে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্রের কারসাজি রয়েছে। প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার নেপথ্যে একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানাধীন মার্চেন্ট ব্যাংকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে বেআইনি লেনদেনও করছে তারা।

বাজার-সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ জানায়, বাজারে মন্দার কথা বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কারসাজি ও বেআইনি লেনদেনের বিষয় জেনেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সম্প্রতি শেয়ারবাজার বিষয়ক এক মেলার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছিলেন, বাজারের খারাপ অবস্থায় অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করতে হয়।

ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত নভেম্বরের শুরুতেও প্রগতি লাইফের শেয়ারদর এর ফ্লোর প্রাইস ৬৬ টাকা ২০ পয়সায় ছিল। ওই দরেও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া ছিল দুস্কর। কিন্তু এখন শেয়ারটির ক্রেতার অভাব নেই। আড়াই মাসেরও কম সময় পর গতকাল বুধবার এর দর ১৪২ টাকা ৯০ পয়সায় উঠেছিল। এ দর গত বছরের ১০ জুনের পর সর্বোচ্চ।

পর্যটন খাতের কোম্পানি সি পার্ল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের শেয়ারদর গত জুলাইয়ের শেষে ছিল ৪৪ টাকা। এটিও এ শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস। অথচ গতকাল ঢাকার শেয়ারবাজারে এর লেনদেন শেষ হয়েছে ২১৮ টাকা ৩০ পয়সায়। পাঁচ মাসে শেয়ারটির দর পাঁচগুণ হয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তালিকাভুক্তির পর এটিই সি পার্লের সর্বোচ্চ দর।

টাকার অঙ্কে লেনদেনে গতকাল সি পার্লের অবস্থান ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্লক মার্কেটের ১৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার লেনদেনসহ গতকাল ডিএসইতে এ কোম্পানির ৩৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেনে প্রগতি লাইফের অবস্থান ছিল ১৩তম, কেনাবেচা হয়েছে ৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার। একক কোম্পানি হিসেবে ৪১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন নিয়ে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশে শিপিং করপোরেশন।

এমন গুটিকয়েক শেয়ারে ভর করে লেনদেন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে। ডিএসইতে গতকাল কেনাবেচা হয়েছে ৫৩২ কোটি টাকার শেয়ার, যা গত ১৩ ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। ওইদিন ৬১৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *