বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কুখ্যাত খুনি এই এরশাদ শিকদার

ঝালকাঠি জেলার  নলছিটি উপজেলার মাঝে ছোট্ট একটি গ্রাম মাদার খোনা। এই গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন এরশাদ শিকদার।যে কিনা পরিপূর্ণ বয়সে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের কুখ্যাত খুনি।মানুষের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাজরের উপরে উন্মাদ নৃত্য করাই ছিল যার কাজ। এমন নৃশংস একজন খুনি ছিলেন এরশাদ শিকদার।

 কে এই এরশাদ শিকদার, আসুন জানি তার কাহিনী

এক দরিদ্র কৃষক বন্ধে আলী মিয়ার ছোট সন্তান ছিলেন।এরশাদ শিকদার তার বয়স যখন ১২ কঠিন এক অসুখে পড়ে তার বাবা মারা যান।অভাবের সংসারে হাল ধরার চেষ্টা করেন তার মা।অপরদিকে এরশাদ ব্যস্ত মারামারি এর সাথে ঝগড়া বিবাদ ইত্যাদিতে এই করেই তার সময় কেটে যেত। এরশাদ শিকদারের বাড়িতে এক লোক প্রায়ই যাতায়াত করতো।এলাকায় সে লোকটি ছিল বেশ ক্ষমতাবান। একদিন এরশাদ জেনে গেল কেন এই লোকটা তাদের বাসায় যাতায়াত করে। তার মায়ের উপর অন্যায় লালসা মেটানোর জন্যই আসতো সেই লোকটা যা দেখে এরশাদের মাথায় তখন কি  চলেছে তা সেই ভালো জানে। এসব দেখার পর তার মাথায় এক বিকৃত  ধারণার সৃষ্টি হয়।পরবর্তীতে ১৯৬৬ থেকে ৬৭ সালে সে ও তার মা এবং তার বড় ভাই খুলনার ঘাট এলাকায় চলে আসেন।  সংসার চালানোর জন্য ও তাদের ভরণ পোষণ করার জন্য তার মা লোকের বাসায় বাসায় কাজ করতেন এবং তার বড় ভাই ছিলেন একজন কুলি এবং এরশাদ শিকদার ছিলেন  ঘাটের কুলিদের নেতা কাসেম সরদারের সহযোগী।এরপর তিনি শুরু করেন  ছিচকে চুরি।প্রায়ই ধরা পড়তো চুরি করতে গিয়ে। গায়ের রং ফর্সা হওয়ায় অনেকে তাকে ডাকতো  রাঙা চোরা ও সাদাচোরা বলে। ট্রলার থেকে মাছ ও গম চুরি,জাহাজ থেকে তেল চুরি এরূপ অনেক চুরি ডাকাতি দিয়ে শুরু হয় তার অপরাধ জগতে আধিপত্য বিস্তার।এরই  মধ্যে কাশেম সর্দার এর পরিবর্তে এলেন  আনজু সরদার। তার অনেক কাছের হয়ে উঠলেন এরশাদ শিকদার।হঠাৎ একদিন এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটলো এরশাদ শিকদারের সাথে আনজু সর্দার ছিলেন সমকামী তার লালসার শিকার হলেন এরশাদ শিকদার। এরপর এরশাদের নতুন সঙ্গী হল এক রাম দা।এই রামদা এই শুরু করল ঘাট এলাকায় ডাকাতি চুরি ছিনতাই ইত্যাদি। বেশ কিছু সঙ্গীয় জুটলো এ সময় তার সঙ্গে এরপর কিছু সংখ্যক লোক নিয়ে তিনি একটি দল গঠন করলেন। এই দলের কাজ ছিল মাছের কার্গো থেকে বা জাহাজ থেকে মাছ চুরি করে নদীতে লাফিয়ে পড়া। তারপর সময়ের সাথে সাথে দলের মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলো এবং বেড়ে গেল অপরাধ। রেললাইনে স্লিপার চুরি,কাঠ চুরি,এসব চলতে লাগলো পুরোদমে। তারপর শুরু হলো চাঁদাবাজি গমের বস্তা  সিমেন্টের বস্তা খুলে তার ভিতরে বালি মিশিয়ে বিক্রি করাও শুরু করে দিলেন। 

এরশাদ শিকদারের অপরাধের বর্ণনা

১৯৮২ সালে সামরিক স্বৈরাচারী সরকার এলো ক্ষমতায়। তখন খুলনার সিটি মেয়র হলেন কাজী আমিন। তখনকার শ্রেষ্ঠ গুন্ডা ছিলেন এরশাদ শিকদার। তিনি হয়ে উঠলেন কাজী আমিনের কাছের লোক। তখন এরশাদ শিকদারের চাঁদাবাজি ও মাস্তানি করার ক্ষমতা বেড়ে গেল আরো দ্বিগুণ। এরপর শুরু হল তার ক্ষমতা ।তিনি খুলনার আশেপাশের জায়গা দখল,কারো বাড়ি দখল এমনকি রেলওয়ে দখল করেও বড় একটি মার্কেট তৈরি করলেন। এভাবেই তিনি তার সাম্রাজ্য বিস্তার করতে শুরু করলেন।এরপর আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ংকরতম ব্যবসা মাদকের দিকেও তার নজর পড়লো।

তারপর খুলনায় মদ, হিরোইন, গাজা, ফেনসিডিল সবকিছুর ব্যবসা শুরু করে দিলেন। তার ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন প্রশাসন এবং বিভিন্ন জায়গায় তার সাম্রাজ্যকে বিস্তার করার চেষ্টা করেন ।এক পর্যায়ে তার লালসা হয় রক্ত ও মানুষ খুন করার দিকে। সে সময় তার অবৈধ ব্যবসায় যারা বিরোধিতা করে তাদেরকে তিনি পৈশাচিক কায়দায় খুন করতো এবং তাদের বুকের পাঁজরের উপর দাঁড়িয়ে উন্মাদ  নৃত্য করতেন। এভাবেই তিনি হয়ে ওঠেন এক  নরপশু। মানুষদেরকে খুন করার পর তার বাড়ির ভেতরে এক  হাউজে ফেলে দেওয়া হতো মানুষের লাশ যা পরবর্তীতে হয়ে উঠতো রাক্ষসী মাগুর মাছ দেড় খাবার ।এভাবেই তিনি মানুষকে অত্যাচার নিপীড়ন ও খুন করার পর তার পুকুরে বা হাউসে ফেলে দিতেন। তার নিশংস খুনের কাহিনী ও কর্মকান্ড বলে শেষ করা যাবে না। তার এসব কর্মকাণ্ডের জন্যই তিনি ইতিহাসের কুখ্যাত খুনি হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *